প্রশাসনের কি ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হওয়া উচিত
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৮
নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে ভাল প্রশাসন পাবো আমরা
প্রশাসনের কি ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ দাস হওয়া উচিত? যেকোনো সচেতন মানুষের কাছেও যদি এই প্রশ্ন করা হয়, নিশ্চিতভাবেই উত্তর হবে ‘না’। মূলত বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করেন তারা সরকারের জন্য, তারা জনগণের নন। কারণ, তারাতো সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। তারা এমনভাবে নিয়োগ পেয়ে আসেন যে, তারা সরকারের পদলেহন করতে বাধ্য হন। নুন যার খাই গুণগানতো তারই প্রাপ্য! সুতরাং বেচারা প্রশাসনের কিছু করার নেই। অপরাধ হলো ওই সমস্ত প্রজাহিতৈষীদের যারা তাদেরকে নিয়োগ দেন। সুতরাং, প্রজাহিতৈষীদেরকেই নীতি ঠিক করতে হবে আগে। নিশ্চিত করতে হবে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া। তাহলেই কেবল ভাল প্রশাসন উপহার পাবো আমরা। আর এর অন্যথা যদি হয় তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যায়, আমাদের দেশে যে সরকারই আসুক প্রশাসন ওই সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করতে মরিয়া। কিন্তু পাছে তারা ভুলে যায় যে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা আছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থা রাজনীতিকরণ আর দলীয়করণ করার কারণেই আজ খুবই নাজুক। যতদিন না প্রশাসনকে রাজনীতি আর দলমুক্ত করা যাবে ততদিন প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ দাসই হয়ে থাকবে।
মাহফুজ
বিএসএস (সম্মান), ৪র্থ বর্ষ,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
==
বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবে হলেই ভালো
আগামী ১০ম সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে উপর-মহলের থিয়রেটিক্যাল গবেষণা শুরু হয়েছে। সবাই ভাবছে— প্রধান এই দুই দল কী এক টেবিলে বসে একই সিদ্ধান্তে আসতে পারবে? নাকি অসমঝোতার মধ্য দিয়েই তারা দেশকে অরাজকতার মধ্যে ঠেলে দিয়ে ১/১১ এর আবির্ভাব ঘটাবে? ১/১১ সম্পর্কে দেশের সকল শ্রেণির মানুষের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। যারা দেশের জন্য সত্যিকারার্থে কাজ করতে ইচ্ছুক তারা কেউ চাইবে না আবার ১/১১ এর আবির্ভাব ঘটুক। তবে সরকার বলছে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে এক চুলও নড়া হবে না। বিরোধী দল বলছে— পঞ্চদশ হলে ষোড়শ নয় কেন? তবে কী আবার সেই কালো অধ্যায় দেখার জন্য জনগণকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে? সরকার কী পারে না তত্ত্বাবধায়ক মেনে নিয়ে নির্বাচনে যেতে? বিরোধী দলও কী পারে না বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে? সুতরাং, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, বহুল আলোচিত ১০ম সংসদ নির্বাচন কিভাবে হবে সেটি নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া, ১/১১ কারো কাম্য নয়।
মো. মাসুদুর রহমান,
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
২য় বর্ষ, ৪র্থ সেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
===
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব আজ্ঞাবহ হয়ে নয় নিজের স্বাধীন সত্তা দিয়ে কাজ করা
প্রশাসনের কাজ সরকারের যে পলিসি তার বাস্তবায়ন করা। পলিসি বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের রাজনৈতিক কাজেরও বাস্তবায়ন হয়। কারণ আমাদের দেশের প্রায় সকল সরকার রাজনৈতিক। আমি ইচ্ছা করলেও এর থেকে সরে আসতে পারবো না। কিন্তু এর ‘ডিগ্রী’দেখতে হবে। ক্ষমতাসীনদের একেবারে আজ্ঞাবহ হয়ে চললে নিজের স্বকীয়তা বলতে কিছুই থাকে না। অন্য সরকার এসে তার বিরুদ্ধে একশন নেয়। তাকে বদলি হতে হয় । অনেকক্ষেত্রে শাস্তিও পেতে হয়। এই বিষয়টা মনে রেখে যদি প্রশাসনের কর্মকর্তারা বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ না হয়ে তার দায়িত্বগুলো পালন করেন, তাহলে কোন সমস্যা থাকে না। কিন্তু আমরা তা দেখতে পাই না। প্রতিটি সরকারের উচিত হবে, প্রশাসনকে তাদের আজ্ঞাবহ না করা বা কোন সুযোগ না দেয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল করে পরে তারা বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি গ্রহণ করেন। তাদের মনের মধ্যে এই রজনীতির গন্ধটা লেগে যায়। আমাদের চোখের সামনেইতো এর উদাহরণ। দুই দলেই এক সময়ের ডাক সাইটে আমলারা এমপি বা মন্ত্রী হয়েছেন এবং এখনো আছেন। তারা তত্কালীন ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ ছিলেন বলেই তারা এখন এ পদে আছেন বলে আমার বিশ্বাস। ক্ষমতায় একদলের লোক, আর প্রশাসনে অন্য দলের লোক। উন্নয়ন কাজতো হবে না। প্রশাসনকে হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব তাদের সেই পলিসি বাস্তবায়ন করা। আজ্ঞাবহ হয়ে নয়। নিজের স্বাধীন সত্তা দিয়ে কাজ করা।
বিপাশা দত্ত
দ্বিতীয় বর্ষ (সম্মান), রসায়ন,
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা
===
পক্ষপাতমূলক
কর্মকাণ্ড দেশের
জন্য অশুভ
বাংলাদেশ তথা যে কোন দেশের আর্থ-সামাজিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ কার্যক্রমে সামরিক বাহিনী অপরিমেয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিচার করলে দেখা যাবে দেশে হয়তো আবার ১/১১ আসবে যা মোটেই একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য কাম্য নয়। দেশের সার্বিক উন্নতিতে এটা কেউ আশা করে না। সুতরাং, এ কথা আমাদের তথা বাংলাদেশের প্রত্যেক সুনাগরিকের মেনে চলা উচিত। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা প্রতিরোধ করার জন্যে সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে তবে এদের দ্বারা দেশ পরিচালনা করা মোটেই শুভ নয়। সুতরাং, সরকারের উচিত এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা।
মো. আ. রহমান,
বি.এস.এস,
সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়,
নারায়ণগঞ্জ