সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব বনাম বিকল্প ফর্মুলা

গত ১৮ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে দেয়া বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সংসদ সদস্যদের নিয়ে সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটিকে তিনি সর্বদলীয় সরকার নামে অভিহিত করেছেন। এ ধরনের সরকারকে সর্বদলীয় না বলে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী মূল দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত সরকার বলাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত এবং বাস্তবোচিত বলে মনে হয়। সর্ব দল বলতে কাদের বোঝানো হবে, তা নিয়ে নানা জটিলতা ও বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আমি সেই বিতর্কে যাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল স্পিরিটটি হচ্ছে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি ও বিরোধী দলসমূহ। এর একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবতা এবং যৌক্তিকতা রয়েছে। এমন ধারণাগত প্রস্তাব তাত্ক্ষণিকভাবে বিভিন্নমহল থেকে ব্যাপকভাবে সমর্থনও লাভ করেছে। যদিও প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গ নয় বরং প্রাথমিক পর্যায়ের। এ নিয়ে বিভিন্নমহলের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ এটিকে অস্পষ্ট বলেছেন, আবার ড. আকবর আলী খান এবং ব্যারিস্টার রফিক উল হকের মতো প্রাজ্ঞজন এটিকে সমস্যার সমাধানে একটি গাইড লাইন বা ভালো উপাদান পাওয়ার সুযোগ বলেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমিও মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রস্তাবটি শুধু আগামী নয় ভবিষ্যতের বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাপত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে একই সঙ্গে আমি একথাও বলবো যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সুশীল সমাজ এবং মিডিয়ার লেখক-আলোচকের বড় অংশই মূল সমস্যাকেন্দ্রিক চিন্তা, আলোচনা এবং সৃজনশীলতাকে বাদ দিয়ে নিতান্তই ব্যক্তিকেন্দ্রিক সাময়িক সমাধানের তর্ক-বিতর্কে ভীষণভাবে মেতে উঠতে পারদর্শী, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কতোটা আলোর মুখ দেখবে তা নিয়ে আমার গভীর সন্দেহ আছে, প্রস্তাবটিকে নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা ও বিধিবিধান তৈরি করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা সহজে অনুমেয়। গত বেশ কয়েক মাস থেকেই আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই দল বা জোটের অবস্থান নিয়ে দেশে এক ধরনের শঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া উক্ত নির্বাচনে অংশ নেবে না, নির্বাচন হতেও দেবে না—এমনটি সাফ জানিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানিয়ে রেখেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ২৫ অক্টোবর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশে আবার ২০০৬ সালের অক্টোবরের পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ধরনের টানটান উত্তেজনার মধ্যেই এবার ঈদ ও পূজার উত্সব মানুষ কাটিয়েছে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ এবং তাতে সর্বদলীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনকালীন সময়টি অতিবাহিত করার প্রস্তাব জনমনে এক ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল যে বিরোধী দল তাতে ইতিবাচক সাড়া দেবে। কেননা বিরোধী দল থেকে ঈদের আগে আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করার তাগিদ বার বার দেয়া হচ্ছিল। যে নামেই হোক নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা প্রণয়নের কথা বলা হচ্ছিল। তখন মনে হচ্ছিল যে, শেখ হাসিনা তাতে সাড়া দিলেই বিএনপি আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত আছে। সেই প্রেক্ষিতেই ১৮ অক্টোবর শেখ হাসিনার প্রস্তাবটির প্রতি বিএনপির ইতিবাচক সাড়া দেয়ার ধারণা তৈরি করে ছিল। বিএনপিও তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনার পর দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারকে জানানো হবে বলায় সকল মহলই আশ্বস্ত হয়েছিল। ২৫ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে ঢাকায় ২০ অক্টোবর থেকে মিছিল ও সমাবেশ বন্ধ করার ডিএমপির আদেশ জারির পর পরিস্থিতি অন্য ভাবে মোড় নিতে থাকে। ২০ তারিখ বিএনপি-জামায়াতপন্থি পেশাজীবীদের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সেটি অনুষ্ঠিত করার অনুমোদন দেয়া হয়। তাতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থেকে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি শেখ হাসিনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন, নির্দলীয় সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকারের অধীন নির্বাচন হলে তাতে তিনি অংশ নেবেন না, প্রয়োজনে একা তিনি আন্দোলন করবেন এমন ঘোষণাও দিয়েছেন। বোঝাই যাচ্ছে, বিএনপি শেখ হাসিনার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার অবস্থান নিয়েছে। ২১ অক্টোবর বিকাল ৪টায় হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া ১৮ দলের পক্ষ থেকে একটি সুলিখিত দীর্ঘ ভাষণ পাঠ করেছেন। তাতে তিনি তার নতুন ধারার রাজনীতিকে যতটা বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন, সকলের অধীর আগ্রহের বিষয় নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাব সম্পর্কে তাতে খুব কম কথাই বলেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব সযত্নে এড়িয়ে গিয়ে একটি নতুন বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে প্রথম ও দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দশ জন দশ জন মোট বিশ জন উপদেষ্টার মধ্যে থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকে পাঁচ জন পাঁচ জন উপদেষ্টার নাম প্রস্তাব করার মাধ্যমে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছেন। জানি না আওয়ামী লীগ সরকার বেগম খালেদা জিয়ার এই প্রস্তাব কিভাবে নেবেন। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এই প্রস্তাবের ফলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব আরো প্রকট হয়েছে। আমি আগেও কয়েকটি লেখায় উল্লেখ করেছি-অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা থেকে ১৯৯৪-৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ধারণা তৈরি হয়েছিল। এর বাস্তব ভিত্তি ছিল সেই সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপ করার ব্যাপক নজির। তা থেকেই নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার ধারণার গ্রহণযোগ্যতা। এতে অবশ্য ১৯৯০-৯১ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা সকলকে উত্সাহিত করেছিল, কিন্তু যে বিষয়টি ১৯৯৪-৯৬ সালে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়নি তা হলো নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার বিধি বিধান এবং বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া। যে কারণে একটি জটিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাংলাদেশের ভাগ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অধরা থেকে গেছে। প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার উত্খাতের একটি ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তত্কালীন রাষ্ট্রপতির ভূমিকাও ছিল রহস্যজনক। তারপরও নির্বাচন সমাপ্ত হলেও বিরোধী দল নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণ করেনি। নির্বাচন কমিশনকে তারা এতোটাই দায়ী করেছিল যে, সিইসি আবু হেনাকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হয়েছিল। দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও ঐ সরকার প্রশাসনকে ওলট পালট করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের দিয়ে এমন একটি নির্বাচন করালেন যেখানে সদ্যবিদায়ী দলকে প্রতিপক্ষের অবস্থানে দাঁড় করানো হয়েছিল। তখনকার রাষ্ট্রপতি নির্লিপ্ত ভূমিকায় ছিলেন, ভোটদানে বাধাসহ ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারগণ, ভোট গণনাতেও নানা অভিযোগ ছিল। এরপর দেশে সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগের ভোটারদের ওপর অসহনীয় নির্যাতন নেমে আসে যা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে বড় ধরনের কালিমা লেপন করে। দেশে-বিদেশে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল অসহায় এবং নীরব। সর্বশেষ ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ চোখে পড়ার মতো ছিলো। মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে এমন বাস্তবতা তখনই তৈরি হয়। বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্ন ২০০৬-০৭ সালেই শেষ হয়ে গেছে। এক এগারোর সরকার কোনো তত্ত্বাবধায়ক বা সাংবিধানিক সরকারই ছিল না। বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কয়েকটি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছে। তার একটি হচ্ছে ভুয়া ভোটার ছাড়া ভোটার তালিকা লাভ, জাল ভোট দানের ছড়াছড়ি রোধ করার উপায় বন্ধ করা, অন্যটি হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের স্বচ্ছ ব্যবস্থা যা ভোট প্রদান, গণনা ও ফলাফল প্রদানে কার্যকর রয়েছে। ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাঠের বর্তমান বাস্তবতা এবং ১৯৯৫-৯৬ বা তার পরবর্তী বাস্তবতা মোটেও এক নয়। সমস্যার মূল ক্ষেত্রকে বাদ দিয়ে আমরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক যেসব কথা বলি তা মোটেও বাস্তবতার নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণকে অবলম্বন করে হয় না, হয় খুবই সাবজেক্টিভ বা ব্যক্তিগত ধারণা পছন্দ-অপছন্দ বিশ্বাস দ্বারা ব্যক্ত করার অবস্থান থেকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন অবস্থানের ভূমিকাই নিরঙ্কুশ। সবাই দৃশ্যমান ঘটনার কিছু বিষয় নিয়ে চটজলদি সমাধান খোঁজে যা বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব হয় না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক অন্ধ মোহ আছে, তবে নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণ মোটেও নেই। থাকলে এমন অকার্যকর ও ব্যর্থ ব্যবস্থার পুনরুত্থানের পক্ষে এতো মানুষের ওকালতির দৃশ্য দেখতে হতো না। একটি রাষ্ট্র এবং এর সংবিধানকে নিয়ে এমন হেলাফেলা ও খেলা করার দৃশ্য সত্যিই অবাক এবং বিস্ময়কর ঘটনা। যার যা খুশি তাই করতে বলা হচ্ছে, কোনো সুচিন্তিত ব্যবস্থা প্রবর্তনের ধারে-কাছেও কেউ যেতে চাচ্ছে না। দেশে রাজনৈতিক আলোচনা শুনে মনে হচ্ছে-আগামী নির্বাচনই যেন শেষ। এরপর কী হবে? আবারও কি মারামারি করতে হবে, দেখতে হবে, একে অন্যের বিরুদ্ধে মুণ্ডুপাত করার দৃশ্য ও কথা শুনতে হবে? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, অমুক সরকার প্রধান থাকলে নির্বাচনে কারচুপি হবে, অবাধ হবে না। দেশের সব মানুষ কারচুপির কোনো নির্বাচন চেয়ে চেয়ে দেখবে, আর শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া সরকার প্রধান থাকলে একা একা ৯ কোটি ভোট নিজের বাক্সে ভরবে এমনই এক মগের মুল্লুকের নির্বাচনের কথাই যেন বলা হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে। বস্তুত, এমনটি যাতে না ঘটতে পারে সে জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থায় যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন যে সরকার ব্যবস্থার কথা বলেছেন তা ধারণাগতভাবে এখন প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তবে এটিকে সংবিধান, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রেখে বাংলাদেশের জন্য একটি রূপরেখা প্রদান করা যেতে পারে—যেখানে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল বা জোটগুলোর মধ্য থেকে সদস্য নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠিত হতে পারে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন, সেই সরকারের কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করা জরুরি, নির্বাচনের কোনো ব্যাপারেই এই সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ রাখা হবে না-যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে। বাংলাদেশেও অনুরূপ একটি ব্যবস্থা চালু হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন অবস্থানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা দায়-দায়িত্ব কী হওয়া উচিত তা ব্যাপকভাবে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থার একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা দাঁড় করানো অপরিহার্য। তেমন কিছু করা গেলে প্রধানমন্ত্রী পদে কে থাকলেন বা থাকলেন না-তা কোনো সমস্যা হওয়ার কারণ থাকবে না। পৃথিবীর উন্নত গণতান্ত্রিক দেশসমূহে তাই হয়ে থাকে। আমরা পৃথিবীর এমন অভিজ্ঞতাকে বাদ দিয়ে এখন যা করছি তার কোনোটিই অতীতে যেমন সুফল দেয়নি, আগামীতেও দেয়ার কোনো কারণ নেই। রাষ্ট্র রাজনীতিতে সুচিন্তিত মতামতে উদ্ভাবিত পদ্ধতি বা ব্যবস্থা ছাড়া জোড়াতালি দিয়ে কিছু করতে যাওয়ার খেসারত জাতিকে চিরকাল দিতে হবে। যেমনটি আমরা এ পর্যন্ত দিয়ে আসছি। এখন যদি স্থায়ী কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থ হই, মাঠে শক্তি প্রয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়ি তাতে গ্রাম্য বিবদমান দুই পক্ষের মতো শক্তি ও প্রাণের ক্ষয় ছাড়া গণতন্ত্রের কোনো লাভ হবে না। রাষ্ট্রেরও কোনো কল্যাণ হবে না। রাষ্ট্রকে চলতে বা চালাতে হয় পরীক্ষিত নিয়ম ও ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে। কাল্পনিক বা বায়বীয় কোনো আদেশ-নির্দেশে নয়। আমাদের অবস্থান তো সহজেই অনুমেয়। ফলে যে কোনো দুরবস্থা ও বিপর্যয়ের কারণও তাতেই নিহিত এতে কোনো সন্দেহ নেই। এর থেকে মুক্তির পথ যেখানে লুকিয়ে আছে সেখানেই যেতে হবে। শেখ হাসিনার প্রস্তাব কিছুটা হলেও পথ দেখিয়েছে। এটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরিণতি কেবল ভয়াবহই হতে পারে।  লেখক : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক