সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হইয়াছে। গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রসচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা নিজ নিজ সরকারের পক্ষে ‘বাংলাদেশ-ইউএস কাউন্টার টেরোরিজম কো-অপারেশন ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়াছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানাইয়াছেন যে মন্ত্রিসভার অনুমোদনক্রমে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হইয়াছে। বিশেষ জোর দেওয়া হইয়াছে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং সন্ত্রাসী তত্পরতা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হইবার ফলে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে আধুনিক কলাকৌশল বিনিময় করিতে পারিবে; আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাইবে এবং মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সমপ্রসারিত হইবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ভাষায়, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের যেই থাবা প্রসারিত হইয়াছে তাহা নিরসনে দুই দেশ যৌথভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করিতে পারিবে। চুক্তিবিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যার অবকাশ নাই। কারণ নাইন-ইলেভেনপরবর্তী বিশ্ব বাস্তবতায় চুক্তিটির উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও সুদূরপ্রসারী তাত্পর্য অনুধাবন করা কঠিন নহে। পাশাপাশি ইহাও সুবিদিত যে শুধু চুক্তি সম্পাদনই যথেষ্ট নহে, সেই চুক্তি বাস্তবায়নই হইল আসল চ্যালেঞ্জ। চুক্তি যাহারা সম্পাদন করিয়াছেন বিষয়টি নিশ্চয়ই তাহাদেরও সুবিবেচনায় রহিয়াছে। সন্ত্রাস প্রতিরোধ কিংবা সন্ত্রাসবাদবিরোধী যেই লড়াইয়ের কথা বলা হইয়াছে সেই কাজটি যে খুব সহজ নহে— ইতিমধ্যেই তাহা স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে। এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অন্যদের চাইতে অধিক। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার বা প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী কোনো চুক্তি বা সমঝোতার সফল বাস্তবায়ন যে সম্ভব নহে তাহাও বলিবার অপেক্ষা রাখে না। ইহার আদর্শগত দিকটিও উপেক্ষা করিবার মতো নহে। চুক্তিতে যাহাই লেখা থাকুক না কেন— কথিত সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক বা যোগাযোগ রহিয়াছে এমন কোনো সরকারের পক্ষে ইহার যথাযথ বাস্তবায়ন কখনোই সম্ভব হইবে বলিয়া মনে হয় না। বরং বিপরীত কিছু ঘটিয়া যাইবার আশঙ্কাও উড়াইয়া দেওয়া যায় না একেবারে। অতএব, সদ্য সম্পাদিত চুক্তিটির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করিতে হইলে যাহারা মনেপ্রাণে তাহা বিশ্বাস করে এমন সরকারের কোনো বিকল্প নাই। অথচ এমন এক সময়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হইয়াছে যখন চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সরকারের মেয়াদ শেষ হইতে চলিয়াছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়াও চলিতেছে নানা টানাপোড়েন। চুক্তিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকিলেও এই চুক্তির আলোকে জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে ব্যাপকতর সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করিয়াছে উভয় দেশ। বাস্তবে কী হয় তাহাই এখন দেখিবার বিষয়।