দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব

সর্বদলীয় কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটি সম্ভাবনাময় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। এদেশের মানুষ স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্রমনা। যদিও বেশ কিছু সময় একে সামরিক শাসনের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে। এদেশের রাজনীতিবিদরা জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনা করতে চায়। বর্তমানে প্রধান দু’টি দল এই বিজয়ী হ্ওয়ার লড়াইয়ে লিপ্ত। দুই শীর্ষ নেত্রী অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে রূপরেখা প্রদান করেছেন এবং এই রূপরেখার বেশকিছু বিষয়ে খাদ রয়েছে। বর্তমান সরকার প্রধান অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হলে সেটি যেমন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জন্য মেনে নে্য়া সম্ভব নয়, তেমনি সাধারণ জনগণের কাছে্ও নির্বাচন কতটুকু নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে আমাদের সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রস্তাব আশাব্যঞ্জক হলে্ও এর কার্যকারিতা খুবই ক্ষীণ। কারণ, বিরোধী দলের নেত্রী যে ২০ জনের কথা বলেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ এবং এসব দায়িত্ব নিতে চান না। এমতাবস্থায় সংঘাত এড়াতে আলোচনার বিকল্প নেই। প্রতিটি দল থেকে একজন করে সদস্যের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে। রাজনৈতিক দল অনুযায়ী এই কমিটির সদস্য সংখ্যা ৪০-৪২ জন হবে। কমিটি তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ১০ জনকে নিয়ে একটি করে কমিটি গঠন করবে, যারা হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হবেন একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। সর্বদলীয় কমিটি যাকে নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক মনে করবে তাকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা যেতে পারে। আশেক তানভীর অনীক বিএসএস (সম্মান), তৃতীয় বর্ষ লোকপ্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দুই নেত্রী সমঝোতার মাধ্যমে একটি পর্যায়ে পৌঁছলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ী সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তাই জনগণের কথা বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে হলেও প্রধান রাজনৈতিক দু’দলের মধ্যে সমঝোতা করে রাজনৈতিক সংকট নিরসন করা সম্ভব। যেহেতু আমরা পূর্বে দেখে এসেছি আমাদের দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক মানুষিকতার অভাব অনেকাংশেই রয়ে গেছে, তাই তাদের এক দলের অধীনে নির্বাচন হলে তা পরিপূর্ণ নিরপেক্ষ হবে না বলে আমি মনে করি। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন পরিচালনা করলে তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব। তাওফিক আহমেদ (তুহিন) ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিচ্ছু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমেই নির্বাচন হওয়া সম্ভব দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন নতুনভাবে আবার উত্তপ্ত ও উত্তাল হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। দুটি প্রধান দল প্রায় দু’বছর যাবত্ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, না সর্বদলীয় সরকার, না দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে তা নিয়ে গুরুতরভাবে মতান্তরে লিপ্ত। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধান থেকে তিনি একচুলও নড়বেন না। আবার মন্ত্রী পরিষদ ও সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। সংবিধান সংশোধন করে তিনি এটা জায়েজও করিয়ে নিয়েছেন। এখানে যে বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য-আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের একটি মতবাদ, “বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী।” অর্থাত্ জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে যোগ্য নেতাকে নির্বাচন করবেন। আর তার জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষতা। তবে রাজনীতিবিদরা যতই কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি করুক না কেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদ বহাল রেখে নির্বাচন অসম্ভব ব্যাপার। যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করলেই সূক্ষ কারচুপির প্রশ্ন ওঠে। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা সংসদ ও মন্ত্রী পরিষদ বহাল রেখে নির্বাচন পুকুর চুরির সামিল। ফাতিমা বিনতে সোলেমান অনার্স ১ম বর্ষ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, ঢাকা অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াই ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হওয়ার অন্যতম কারণ স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে কিছু অসাধু রাজনীতিবিদ তাদের হীনস্বার্থ হাসিলার্থে অদক্ষ, অযোগ্য ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ প্রদান করে আসছে। আর এই অদক্ষ, অযোগ্যরাই নিয়োগ পেয়ে ‘‘নুন খাই যার, গুণ গাই তার”— এই সূত্রের উপর আমল করতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের (নিয়োগকর্তাদের) পদলেহন করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না এবং তারা এও ভুলে যায় যে জনগণের প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র দায়িত্ববোধ রয়েছে। এমনকি ক্ষমতাসীনদের দলীয় কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করাকে তাদের একপ্রকার ঈমানী দায়িত্ব মনে করে। অতএব, অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে, প্রশাসনের উপর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকারের দলীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতা-নেত্রীদের খবরদারি বন্ধ না হলে এদেশের জনগণ প্রশাসন কর্তৃক প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিতই থাকবে। সুতরাং প্রশাসনের ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হওয়া আদৌ সমীচীন নয়। মাকসুদুল হাসান (রিয়াদ) দ্বাদশ শ্রেণী, বিজ্ঞান বিভাগ, আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ