প্রবৃদ্ধি কমিবার পূর্বাভাস প্রসঙ্গে
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৩
বাংলাদেশে চলতি অর্থবত্সরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫.৭ শতাংশ হইবে বলিয়া পূর্বাভাস দিয়াছে বিশ্ব ব্যাংক। এই পূর্বাভাস প্রদান অবশ্যই আহামরি কোন বিষয় নহে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ ছিলো ২০১০ সালে। তাহা কমিয়া গিয়া ৬.৩ শতাংশে দাঁড়ায় তাহার পরের বত্সর। সর্বশেষ, প্রবৃদ্ধি নামিয়া আসে ৬.০৩ শতাংশে ২০১২ অর্থবত্সরে। অর্থনীতির গতি প্রকৃতি মাপা হয় বা অনুমান করা হয় যেইসব অর্থনৈতিক সূচকের উপর ভিত্তি করিয়া তাহার কোনটিরই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাইতেছে না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মানে হইল উত্পাদনের প্রবৃদ্ধি। আর এই উত্পাদনের প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হইল বিনিয়োগ বিশেষত বেসরকারি বিনিয়োগ। বিভিন্ন কারণে এই বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি শ্লথ হইয়া যাওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হইয়া যাওয়ার বিষয়টিও মোটেই অসম্ভব নহে।
অন্যদিকে, সিপিডি তাহার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়া বাংলাদেশ এখন রাজনৈতিক ব্যবসায় চক্রে প্রবেশ করিতে যাইতেছে বলিয়া মন্তব্য করিয়াছে। সিপিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শ্লথ হইয়া যাওয়ার মত পরিস্থিতি আরও অনেক আগেই তৈরি হইয়াছে। যাহার ফলে গত কয়েক বত্সর ধরিয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী গতি পরিলক্ষিত হইতেছে। তাই নির্বাচনকে সামনে রাখিয়া অর্থনীতির উত্থান-পতনের যে চক্র যাহাকে সিপিডি রাজনৈতিক-ব্যবসার চক্র বলিয়াছে তাহা নূতন কোন বিষয় নহে।
সিপিডি তাহার বিশ্লেষণে ব্যাংকিং খাতের যে চরম অস্থিরতার কথা উল্লেখ করিয়াছে তাহার ভিত্তি অনেক আগেই রচিত হইয়াছে। ফলে নূতন করিয়া এইসব অস্থিরতার কথা উল্লেখ করিবার অর্থ হইল অর্থনীতিতে চরম নিরাশাবাদ তৈরি হওয়া। এইরূপ নিরাশাবাদ তৈরি হইলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সহিত জড়িত মানুষজন হতাশগ্রস্ত হইয়া আর্থিক কর্মকাণ্ড কমাইয়া দিতে পারে। ফলে এইরূপ পরিস্থিতিতে যতটা সম্ভব আশাবাদ ধরে রাখাই মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কাজেই বিশ্ব ব্যাংক আর সিপিডির এই ধরনের বিশ্লেষণ অর্থনীতির জন্যে কোন সুফল বহিয়া আনিবে না। নির্বাচনকে সামনে রাখিয়া এই ধরনের অনিশ্চয়তা নূতন কিছু নহে বাংলাদেশের জন্যে। ইহার মধ্যে দিয়াই বাংলাদেশের অর্থনীতি আগাইয়াছে, অগ্রসর হইয়াছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এই ধরনের ক্ষণস্থায়ী বিষয়গুলির উপর যতটা সম্ভব কম জোর দেওয়াই উচিত।