আলোকপাত
কথায় যদি রাজ্য হতো!
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৪
কথায় যদি রাজ্য তৈরী হতো, আমাদের এই দেশ হতো বিশ্বের দরবারে আকাশ ছোঁয়া দেশ। কথা যদি হতো সম্পদ, বাংলাদেশ হতো বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ। আমরা সবাই কথা বলি। তিনি বলেন, উনি বলেন, সে, তুমি, আমি সবাই বলি। টকেশাতে কথা বলি, রাজনীতির মাঠে কথা বলি, অফিস-আদালতে কথা বলি, ভোটের আগে হাজারো কথার ফুলঝুড়ি তুলি, ভোটের পরে অন্য কথা বলি। কলমে কথা বলি, নাটকে বলি, সিনেমায় বলি, শুধু বলি আর বলি, কথা শোনার কেউ নেই। সব কথা মুখ থেকে বের হয়ে বাতাসে উধাও হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম পাটের ক্ষতিকর ছত্রাক আবিষ্কারে সময় নষ্ট না করে যদি বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া বাংলার ৪২ বত্সরের সব কথা ঘনীভূত করে একত্রে জমা করার পন্থা আবিষ্কার করতে পারতেন, সেই কি বিশাল সম্পদ হতো আমাদের আর তা যদি হতো পেট্রোল আর সোনার মতো দামি, সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতর দেশ হিসাবে আ-কিয়ামত আমরা সারা পৃথিবী বাণিজ্য শাসন করতে পারতাম। তখন আমাদের সাথে ছবি তুলে বিশ্বের কতো দেশের অধিবাসী তাদের ফেইস বুকে পোষ্ট করতো আর কত হাজারো লাইক পড়তো তাতে। আমাদের প্রধান বিরোধী দলের ভাষ্যমতে তাদের সাথে রয়েছেন দেশের ১৬ কোটি জনগণ, সরকারি দলেরও ভাষ্য সারা বাংলার জনগণ তাদের সাথে, তা হলে (১৬ কোটি + ১৬ কোটি) ৩২ কোটি জনগণ শুধু এই দুই দলেরই, বাকী জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সাথে অর্ধেক করে জনগণ থাকে তাহলে ৪৮ কোটি জনগণের এই দেশ কত পোক্ত।
আমাদের নেতাদের কথায় কত বুদ্ধিমত্তা। আর এই বুদ্ধিই সম্পদ। অন্য দেশের বেকুব নেতারা বলে বসতেন “আমার দল ক্ষমতায় না এলে, আমি জন্মদিনের পোশাক পরে রাস্তায় হাঁটবো। আর সেই নেতার দল সত্যিই হেরে গেলে, রাস্তা একদিনের জন্য জনশূন্য হয়ে যেতো। লজ্জাকর এ দৃশ্য দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে যেয়ে, জনগণ সেদিন হয়তো রাস্তায় বের হতেন না। আর সে দেশের নেতারাতো আর আমাদের নেতাদের মতো নয়। তাদের কমিটমেন্ট বলে কথা। অন্ততঃ জন্মদিনের পোশাক না হলেও, লেংটি পরে ঠিকই হাঁটা দিতেন। এদেশের নেতা যা বলেছেন তাতে যদি তার দল ক্ষমতায় নাও আসে, তিনি যে কাজে নামবেন বলে কথা দিয়েছেন সেটা আর তেমন কি বিষয় ? আমাদের দেশের অনেক তরুণ আগে থেকেই তো কান নাক ফুটো করে দুল পরে হাঁটে, হাতে বালা পরে। কথায় কথায় সারাদেশ এত বেশী সঞ্চয় করে ফেলছে, যে স্রোতধারায় অবশেষে বিশ্ববরেণ্য ও জাতীয় শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বও বলে ফেললেন “অমুক স্থানে হাত দিলে, হাত ভেঙ্গে ফেলবো” উনার দোষ কিসে? গত ৩/৪ বছর ধরে তার বিরুদ্ধাচারণ করতে গিয়ে প্রায় সর্বস্তর থেকেই কথা বলতে বলতে আর তা শুনতে শুনতে উনার মুখ থেকেও বের হয়ে গেল ভাঙ্গা ভাঙ্গির কথা। শেষ করতে চাই এই বলে, মাঝে মাঝে উল্টো কাজ দেখলে এখন আমরা হতবাক হই, থমকে যাই। যেমন দেখুন সোহাগ গাজী বাংলার এক অভূতপূর্ব দামাল ক্রিকেটার, কথা নেই বার্তা নেই এক খেলায় কি এক দারুণ কাজ করে বসলো । ব্যাটে সেঞ্চুরী, বলে হ্যাট্রিক করে সারা বিশ্বে অদ্বিতীয় হয়ে গেলো। সোহাগ গাজী উল্টো কাজটা কেন করলো? কথার তামাশা নেই, চাপাবাজি নেই, হুট করে কাজের কাজটি করে ফেললো। সারা বিশ্বে নিজের ও দেশের মর্যাদা রেকর্ডের ঘরে বসিয়ে দিলো। আসলে চাপাবাজ ও বাক্য বাহাদুরেরা বুঝতেই চায় না কাজেই মুক্তি, সেখানেই পাওয়া যায় ভক্তি।
লেখক :ব্যাংকার
ই-মেইল ঃ Sharifkhan64@gmail.com