দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু
নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৫
নির্দলীয় রাষ্ট্রপতির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। আর উন্নয়নশীল দেশে দীর্ঘমেয়াদী সরকার প্রথা প্রবর্তন করা দরকার। যার প্রেক্ষিতে উন্নয়নমূলক কাজ অতিদ্রুত একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে তাই প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ দেশে যেকোন সরকারই আসুক না কেন তারা সামান্য সময়ের জন্য আসে। তাই তারা কোন উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা রাখতে পারে না। আবার অন্য সরকার আসলে তা অনেক ক্ষেত্রে বাতিল করে দেয় অথবা তার দিকে ভ্রূক্ষেপ করে না। আবার অন্য প্রকল্প হাতে নেয়। এভাবে চললে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। নির্বাচনের সময় আসলে তারা একে অপরের প্রতি সহিংস হয়ে ওঠে। তাদের মাঝে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তাই সকল দল-মতের ভিত্তিতে একজন নির্দলীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা এবং এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য দেশের বৃহত্ দলগুলোর মাঝ থেকে দশজন উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। তারা শুধু নির্বাচনকালীন সরকারে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা উক্ত সময়ে বা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচিত দলের কাছে দেশের শাসনভার অর্পণ করে স্বপদে চলে যাবেন রাষ্ট্রপতি। এভাবেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব।
পলাশ সরকার
মাস্টার্স, রাষ্ট্রবিজ্ঞান
তিতুমীর সরকারি কলেজ, ঢাকা
নিরপেক্ষ একজনকে প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা করলে ভাল হবে
রাজনীতি যদি জনগণের স্বার্থেই হয়, দেশের স্বার্থেই হয় তবে উভয়কেই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছাতে হবে। আর সমাধানে পৌঁছানোর জন্য যদি কিছু না কিছু ছাড় দিতেই হয় তবুও উভয়পক্ষকে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে তা মেনে নেয়া উচিত। মানুষের নিরাপত্তা ব্যাহত করে, জনমনে ভয়ের সঞ্চার করে, দেশের সম্পদ বিনষ্ট করে এমন সংঘাতময় কর্মসূচি কখনো সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার পরিচয় বহন করে না। জনগণকে বোকা ভাবার কোন কারণ নেই। জনগণের ভোটেই আপনাদের ক্ষমতায় আসতে হবে। সুতরাং সকল কর্মসূচি হোক দেশ ও জনগণের কল্যাণে। এক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের আগে অঙ্গীকারনামায় সই করতে হবে। অঙ্গীকারনামা হবে এরকম যে নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক আমরা মেনে নেব এবং কাউকে উদ্দেশ্য করে কোন প্রকার অশালীন মন্তব্য করব না। তা না হলে দেখা যাবে পরে এই মহামান্য ব্যক্তিকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হবে,আত্মসম্মান নিয়ে টানাটানি শুরু হবে। ইতিমধ্যে হয়ত বিজ্ঞজনদের মনে এ নিয়ে ভয় কাজ করছে, কখন যে কার উপর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়? কিংবা কাকে নিরপেক্ষতার তালিকা হতে বাদ দিয়ে দেয়? বর্তমান প্রেক্ষাপটের শেষ কি হবে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। তবে মনে হচ্ছে একজন নিরপেক্ষ লোকের বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
মো. জাহিদুল হাসান (রাশেদ)
ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,বনানী, ঢাকা
দু’পক্ষকেই এক হয়ে নির্বাচন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে
আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কেন্দ্র-বিন্দুতে দেখতে পাই সরকার দলীয় পক্ষ চায় প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনার’ নেতৃত্বে সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর বিরোধী দলীয় পক্ষ চায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দু’টি পক্ষই তাদের স্ব স্ব অবস্থানে অনড়। যদিও বিরোধী পক্ষের চিঠি ও সরকার পক্ষের ফোন সাধারণ জনগণের মনে আসা জাগিয়েছে। তাই আমি মনে করি। যদি দু’পক্ষ তাদের অনড় অবস্থান থেকে ফিরে এসে শান্তির মনমানসিকতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে তাহলেই সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব।
মো. মাহফুজুল্লাহ মুন্নু,
বিএ (অনার্স) বাংলা,
সিটি ক্যাম্পাস, মিরপুর,
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
দুই নেত্রীকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে
সংবিধান অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারি দল বিরোধী দলের উচিত আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কার্যক্রম চালানো কিন্তু সেদিকে না গিয়ে ১৮ দলের প্রধান বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে শেষ পর্যন্ত ৬০ ঘণ্টার হরতাল ডাক দিয়ে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। অর্থাত্ আলোচনায় এসে দাবি মানতে হবে। নতুবা ৬০ ঘণ্টার লাগাতার হরতাল অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রধান থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন। ফলে দেশ কঠিন সংঘাতের দিকে যাচ্ছে। এতে দেশের ১৬ কোটি মানুষের জানমালের বৃহত্তর স্বার্থে দুই নেত্রীর একই টেবিলে বসে ‘হারজিত নাহি লাভ’ এ মানসিকতা নিয়ে সমঝোতায় আশা অতীব জরুরি বলে মনে করি।
মো. রায়হান
৩য় বর্ষ, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ,
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ,
গাজীপুর