প্রসঙ্গ :বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৮
এই বত্সর উন্নয়নশীল দেশগুলি ৪১৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী-আয় উপার্জন করিবে বলিয়া প্রাক্কলন করিয়াছে বলিয়া জানাইয়াছে বিশ্বব্যাংক । সবচেয়ে বেশি অর্থাত্ ৭১ বিলিয়ন ডলার আসিবে ভারতে। চীনে আসিবে ৬০ বিলিয়ন ডলারের মতো। প্রবাসী-আয় উপার্জনে শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে সপ্তম এই বাংলাদেশে আসিবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মতো। বিশ্বব্যাংকের ‘মাইগ্রেশন এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে এইসব তথ্য তুলিয়াছে এই ব্যাংকটি। এইসব তথ্য তুলিয়া ধরিয়া বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেন, ‘যখন পুঁজির প্রবাহ দুর্বল হইয়া পড়ে, তখন প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তাহাতে ভারসাম্য আনিতে বড় ভূমিকা রাখে। আবার যখন কোন দেশের বিহিত মুদ্রা দুর্বল হইয়া পড়ে, তখন আবার প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়িয়া তাহা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থিতিশীলতা আনয়নের কাজ করে’।
বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রবাসী আয় তাহার রিজার্ভের ১২১ শতাংশ। প্রবাসী আয়ের তুলনায় আমাদের রিজার্ভ কম হওয়ার কারণ বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি। আমাদের রপ্তানির তুলনায় আমদানি অনেক বেশি, যদিওবা হালে তাহা খানিকটা কমিয়া আসিয়াছে। এই কথা সত্যি যে, বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জন বাড়াইবার কারণেই সমপ্রতি টাকার মূল্যমান ডলারের বিপরীতে বেশ খানিকটা বাড়িয়াছে। এখন প্রশ্ন হইলো, কিভাবে এই বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জন বাড়ানো যায়। প্রথমতঃ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি বাড়ার নানাবিধ চেষ্টা অব্যাহত রহিয়াছে। কিন্তু প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হইতেছে না। তৈরি পোশাক মালিকরা যে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করেন তাহার ষাট/সত্তর ভাগ আবার বিদেশে চলিয়া যায় ঐ শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্যে। ফলে নীট মূল্য সংযোজন চিন্তা করিলে অবশ্যই প্রবাসী আয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করিতে হইবে।
কিন্তু প্রবাসী শ্রমিকদের পক্ষে জোরালো লবি কাজ না করায় সেই দিকটা অনেকটা অবহেলিত থাকিয়া যাইতেছে। অবশ্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্থাপন করাকে কেহ কেহ সেই খাতের উপর গুরুত্ব প্রদানের উদারহণ হিসাবে দাঁড় করাইতে পারেন। কিন্তু সেই মন্ত্রণালয় কার্যত কি ভূমিকা রাখিয়াছে তাহার উপর নির্ভর করিবে প্রবাসী-আয়ের প্রবৃদ্ধি কতটা বাড়িবে। বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রবাসে কাজ নিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে যেইসব দেশের শ্রমিকদের অনেক বেশি ব্যয় করিতে হয় তাহাদের মধ্যে অন্যতম হইলো বাংলাদেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে স্বল্প দক্ষ শ্রমিক হিসাবে কাজ পাইতে একজন বাংলাদেশিকে ব্যয় করিতে হয় ১৯৮৫ ডলার হইতে ৩৮৭০ ডলার-যেইখানে শ্রমিকের গড় বেতন হয় মাত্র ২০০ ডলার প্রতিমাসে। স্বল্প দক্ষ একজন বাংলাদেশি শ্রমিককে যেইখানে তাহার প্রায় ১৪ মাসের বেতন খরচ করিতে হয়, সেইখানে গিয়া সেই একই কাজ পাইতে একজন ইন্দোনেশীয় কিংবা নেপালীর খরচ করিতে ৬ মাস কিংবা তাহার চাইতে কম মাসের বেতন। ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোর খরচ কমানোর কোন বিকল্প নাই। খরচ কমাইবার পাশাপাশি তাহাদের দক্ষতা বাড়াইতে হইবে নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যাহাতে তাহাদের পক্ষে আরও অনেক বেশি বেতনের চাকরি পাওয়া সম্ভব হয়। এই ধরনের উদ্যোগ প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিকে অনেক বাড়াইবে নিঃসন্দেহে।