দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৪১
বড় দু’দলের আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে বলে মনে করি
অনেক কথা হয়েছে। কথা হচ্ছে হবেও। কিন্তু আমরা ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা ভুল করছি। এই ভুলের মাঝে রক্তের গঙ্গা রচনা হবে। কিন্তু কারু জন্য শুভ নয়। অশুভ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তৃতীয় পক্ষ। যে কোন সময় লুফে নেবে। নিতে পারে কারণ আমাদের কর্ম চিন্তা ভাল নয়। দু’নেত্রীর ফোন আলাপ একটা শুভ মনে হলেও আলোচনার দরজা এখনো বন্ধ। বন্ধ হত্তয়ার কারণ আছে, তা হল আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের কমতি। বড় দু’দলের কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশ ও জাতি অন্ধকারে চলে যাবে। তাই বড় দু’দলের আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু পন্থা বের করতে হবে। যা হবে দেশ ও জনগণের জন্য ভাল। তাই সময় আর নষ্ট না করে বড় দু’দলের আলোচনায় বসার দরকার এবং আলোচনার মাধ্যমে পারে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বের করতে।
মো. মাসুম চৌধুরী,
এম.এ (দর্শন বিভাগ),
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ।
রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান করে নির্বাচন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে
দেশ আজ গভীর সংকটের মুখে, যার মূল কারণ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে। আওয়ামী লীগ চায় সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, যার সরকার প্রধান হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে বিএনপি চায় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। আর এই বড় দুই দলের অনঢ় অবস্থার কারণে দেশ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ জন্যে চলছে হরতালের মত কঠোর কর্মসূচি, অন্যদিকে হরতাল প্রতিহত করার ঘোষণা যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায়। সম্প্রতি দুই নেত্রী ফোনালাপ, সুশীল সমাজের প্রস্তাব কোনটিই সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এ অবস্থায় চলতে থাকলে দেশ তথা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। তাই এই অবস্থার অবসান করতে পারে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বর্তমান রাষ্ট্রপতি। কেননা বর্তমান রাষ্ট্রপতি দলীয় হলেও সভার শ্রদ্ধাভাজন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তিনি সবদলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতির মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস।
মো. আবুল কালাম আজাদ,
সমাজকর্ম বিভাগ,
৪র্থ বর্ষ,
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
দুই নেত্রীর দুই মত, খুলতে পারে জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ
আমরা জনগণ অপেক্ষার প্রহর গুণছিলাম যে একটা সমাধান বেড়িয়ে আসবে কিন্তু কোথায় এই সমাধান। বিরোধী দল কঠোর অবস্থানে গেলে কার কি হবে। মরবে আমার মতো সাধারণ জনগণ। এতে করে সরকারের তো মাথা ব্যথা নেই। যদি থাকতো তাহলে নিজের উদ্বেগে আলোচনা হতো। দুই নেত্রীর দুই মত এই নিয়ে সৃষ্টি হবে দেশে গন্ডগোল। আমরা কারো প্রতি কেউ বিশ্বাস রাখতে পারি না, তাই দুই নেত্রীর দ্বারা পথ উন্মোচন হবে না। এখন দয়া করে জনগণের উপর ছেড়ে দেয়া হোক, জনগণ কি চায়, ক্ষমতাসীনের প্রস্তাব চায়, নাকি বিরোধী নেত্রীর প্রস্তাব চায়। এই ভাগ্য জনগণ নির্ধারণ করবে। দেশের মধ্যে একটা গণভোট হয়ে যাক, আর দেশের মানুষ মরতে চায় না। মানুষ চায় শান্তি। আর যদি কোন মানুষ মরে এর দায় কিন্তু দুই নেত্রীকে নিতে হবে। অবিলম্বে গণভোটের ব্যবস্থা করে সমাধানের পথ তৈরি করার জন্য দুই নেত্রীকে অনুরোধ করছি।
মো. দেলোয়ার হোসাইন,
বিভাগ: অর্থনীতি,
শেষবর্ষ।
সরকারি তিতুমীর কলেজ।
সমঝোতায় পৌঁছাক রাজনীতিবিদরাই
দুই নেত্রীর মধ্যে ফোনালাপ হলেও খুলছে না সমঝোতার পথ। দুই নেত্রী একত্রে বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েও হচ্ছে না। অথচ দেশের আপামর জনতা বিশ্বাস করে, যদি দুই নেত্রী একত্রে বসেন, তবে সংকট কেটে যাবে, সমঝোতা হবেই। মানুষের এই চাওয়ার মধ্যে দোষের কিছু নেই। মানুষ কোনো সংঘাত, হানাহানি, লাশের রাজনীতি দেখতে চায় না। মানুষ চায় একটা গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু নির্বাচন। অর্থাত্ কথা একটাই, উভয় পক্ষকেই ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে অতি দ্রুত এক টেবিলে বসতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য একমত হতে হবে। তবে সর্বদলীয় নাকি নির্দলীয়, কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, সেটা ওই রাজনীতিবিদরাই সমঝোতায় পৌঁছে সমাধানে আসুক।
রফিকুল ইসলাম কামাল,
বিএসেস, বিশ্বনাথ কলেজ,
বিশ্বনাথ, সিলেট।