বাংলার বাঘ ও গিনিপিগ
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৪৪
সারাদেশ খুশিতে আত্মহারা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল রুবেলের বীরত্বে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের বিরাট সাফল্য এনে দেয়াতে। সাবাস বাংলার বাঘ, সাবাস রুবেল।
অনেকদিন যাবত্ বাংলাদেশ ক্রিকেটদল নিয়মিতভাবে ভাল খেলার একটা বহিঃপ্রকাশ সব খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। যেটা হয়ত আমার দৃষ্টিতে আগে ছিল না। অনেক রেকর্ড হচ্ছে, হচ্ছে বিশ্ব রেকর্ডও। তাই অতীতের অনেক কিছু স্মৃতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যা অনেকের কাছে অদৃশ্যই বটে। একটা সময় ছিল বাংলার বাঘদের একজন ছিল বাংলার “আশার ফুল”। সারা জাতি আমাদের দেশের বিস্ময়কর প্রতিভাবান আশরাফুলের মাঠে ব্যাটিং-এ যাওয়া থেকে শুরু হতো টেলিভিশনে বাংলাদেশ টিম-এর খেলা দেখা— ভীষণ আশ্চর্যের বিষয় ওর আউট হয়ে যাওয়ার পর অনেকে খেলা শেষ ভেবেই খেলা দেখা বন্ধ করে দিত।
এমনও অনেকে স্বীকার করতো আশরাফুল ভাল খেললে তবে বাংলাদেশ টিম জিতে, এই এক ধারণা অনেকের মধ্যেই ছিল। আমার ভাবনা এসব আসার কারণ ঢাকা গ্লাডিয়েটরের পক্ষ থেকে ম্যাচ ফিক্সিং-এ জড়িত থাকার অভিযোগের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রসঙ্গে। হতবাক হয়ে গেছি তাদের এমন সিদ্ধান্তে, সারা পৃথিবীর মানুষ দেখেছে আশরাফুলের আত্মস্বীকৃতি যে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সাথে সে জড়িত এবং জাতির কাছে ক্ষমাও চেয়েছে। আর ওদিকে ঢাকা গ্লাডিয়েটরের মালিক বলছেন তার টিমকে ম্যাচ ফিক্সিং-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করাতে তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে ভীষণ অপদস্থ হয়েছেন। সাধারণ ক্রীড়ামোদীদের ভাবনা হল: তাহলে কিসের জন্য ক্ষমা চাইলেন আশরাফুল। ভেবে আশ্চর্য হই যে ক্রিকেট বোর্ডের সম্মানিত সভাপতি কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োজিত আবাসুর রিপোর্টও ১ মাসের মধ্যে প্রকাশ করার কথা জানানোর ঘোষণা সত্ত্বেও জাতিকে আর কত অপেক্ষা করতে হবে তা তিনিই জানেন। তবে সারা জাতি আপনার উত্তরের অপেক্ষায় আছে। ভাবনার বিষয় হল কোটি টাকার বিনিময়ে আবাসুকে নিয়োজিত করা হলো কেউ অপরাধে জড়িত কিনা তা জানার জন্য, আবাসুকে কিছু নাম জানানো হল যা নানান পত্রিকায় এসেছে কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় জাতিকে কোন কিছুই জানানো হলো না, হয়তো হবেও না— শুধু ব্যবস্থা নেয়া হলো আশরাফুলের বিরুদ্ধে।
আমার সন্দেহ এখানেই কাজ করছে— কেন যেন মনে হচ্ছে সেই আগে থেকেই কেউ বা কারা এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় আশরাফুলকে নিয়ন্ত্রণ করতো। তুমি আজকে এমন খেল, তুমি ওই সময় ওই কর— তবে যত যাই হোক তুমি নিয়মিত টিমে থাকবে। যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি, না পারলেও ১১ জনের দলে আশরাফুল ঠিকই আছে। হয়ত একদিন ১ম নম্বরে একদিন ৪ নম্বরে, নতুবা একদিন ৭ নম্বরে। আবার এও দেখেছি টিম থেকে ছিটকে গেলে দেশের লীগে সেরা খেলোয়াড় হয়ে আবার জাতীয় দলে ফিরে আসা এবং আবার সে সব নাটের গুরুদের পরামর্শে নতি স্বীকার করে নিজের প্রতিভাকে বিক্রি করে দেয়া। হিসাবে বলে আশরাফুলের উপর পরীক্ষা চালাতে গিয়ে আমাদের ক্রিকেট যত তাড়াতাড়ি এগিয়ে যাওয়ার কথা তা যায়নি বরঞ্চ ওকে বিক্রি করে পকেট ভারি হয়েছে— নতুবা এখন দেখুন কি তর-তর করে বাংলার বাঘরা এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই এগিয়ে যেতে দেয়া উচিত। পাইপ লাইনে খেলোয়াড় তৈরি রাখতে হবে নতুবা হঠাত্ ধপাস করে সবাই পড়ে যাবে। আমার সন্দেহ মিথ্যে হোক এটাই আমি চাই। কারণ বাংলার মানুষের ক্রিকেট খেলা এখন প্রতিনিয়ত মনে দোলা দেয়। বিপর্যয়েও স্বস্তি দেয়, চিত্কার করে হাসতে শিখায়। তবুও কেন যেন মনে হয় বাংলার ক্রিকেটে আমাদের আশার ফুল অর্থাত্ আশরাফুল গিনিপিগের মত ব্যবহার হয়েছে যে তার প্রতিভার সম্মান রাখতে শিখেনি আর শিখার সুযোগও নেই। আগে বাচ্চারা বলতো বড় হয়ে আমি আশরাফুল হব, আমাদের মায়েরাও শুনে খুশি হত— অথচ কি দুর্ভাগ্য আমাদের। আমার ভাবনা আশরাফুল কি তাহলে বাংলা বাঘদের গিনিপিগ ছিল?
লেখক :শিক্ষার্থী, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
বিবিএ (শেষ বর্ষ)