দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪৩
এক টেবিলে বসে আলোচনা করলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। কারণ দুই নেত্রী তাদের অবস্থানে অনড়। আমরা ইতিপূর্বে দুই নেত্রীর ফনোলাপ শুনেছি ও দেখেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে তাতে আমরা কোন ফলাফল পাইনি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এই ফনোলাপের সাথে সাথে দুই দলের উচিত ছিল একটুখানি ছাড় দিয়ে আলোচনায় বসা। কিন্তু তারা কেউ তা করেননি। বরং মাঝে নাশকতার নামে হরতাল কেড়ে নিয়েছে অনেক তাজা প্রাণ। আমরা আর এই ফনোলাপ চাই না। আমরা চাই এবার দুই নেত্রী দেশ ও জনগণের স্বার্থে এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে এই সমাধান করবে। আমার মনে হয় বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। কারণ সকল ক্ষমতার উত্স হচ্ছে জনগণ। অর্থাত্ আমরা সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এর জবাব পেয়েছে। তাই আমার মনে হয় দুই নেত্রী এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা উচিত। আর এই পন্থার মাধ্যমে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব— বলে আমি মনে করি।
মো. শিমুল পারভেজ
বাংলা বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে
বাংলাদেশে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে আমি সরাসরি একটি ফর্মুলা দিতে চাই। কারণ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দুই নেত্রীর এক টেবিলে বসা, দুই দলের মধ্যে সমঝোতা, প্রশাসনের উপর হস্তক্ষেপ রোধ, নির্দলীয় সরকার কিংবা সর্বদলীয় সরকার অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার সবই নিমপাতা থেকেও তেতো হয়ে গেছে জনগণের কাছে। এ জন্যে অন্তর্বর্তীকালীন পদ্ধতিই পারে সকল সমস্যার সমাধান দিতে। ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করে এর প্রধান একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
মো. দুলাল হোসেন
মাস্টার্স ফাইনাল,
বাংলা বিভাগ,
ঢাকা কলেজ, ঢাকা
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চাই
নির্দলীয় সত্ ব্যক্তি
বাংলাদেশের রাজ-নৈতিক প্রেক্ষাপট বলে দেয় যে, এদেশে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ এখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য লড়াই করে। তারা জনগণের কথা ভাবে না। তারা জনগণের জান ও মালের বিনিময়ে চায় ক্ষমতা। তাই দলীয় অধীনে নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু হবে না। এদেশে সরকার ও বিরোধী দল পরস্পর আস্থাশীল নয়। তারা কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। তাই যেখানে আস্থা নেই, বিশ্বাস নেই সেখানে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের উচিত একটি সমঝোতায় এসে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
মো. মিনহাজ হোসেন
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
সর্বদলীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব
দেশের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দুই নেত্রীকে ছাড় দেয়ার মন মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সাবেক বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে, সর্বদলীয় সরকার গঠন করা যায়। মহাজোট ও ১৮ দলীয় জোট হতে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে, সেখান থেকে সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যায়। সর্বদলীয় সরকারের সদস্য সংখ্যা হবে ১০ জন। সর্বদলীয় সরকারের কমিটি এবং সাবেক বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ দলের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ঠিক করবে। তারা যাকে অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ ও যোগ্য মনে করবে তাকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান করা যেতে পারে। সেই সাথে নির্বাচন কমিশন ও মিডিয়াকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। ক্ষমতাসীনদের খবরদারি বন্ধ করতে হবে। মিডিয়াকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক খবর প্রচার করতে হবে। সকল দলীয় নেতা ও তাদের কর্মীদের সহিষ্ণু আচরণ এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে। তবেই দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব।
মো. শাহিনূর ইসলাম কাওসার
বিবিএ চতুর্থ বর্ষ, সিটি ইউনিভার্সিটি