পোশাক শ্রমিকদের বেতন

এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে ঝাড়ুদার, দারোয়ানের চাকরির বেতন ওয়েজবোর্ড অনুযারী সর্বসাকূল্যে ২০ হাজার ২৩১ টাকা। অথচ আজ ৮ হাজার টাকা বেতনের জন্য জীবন দিতে হচ্ছে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী পোশাক শ্রমিকদের। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। আমরা সহজ ভাষায় বুঝি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা সঠিকভাবে দেয়াটাই হচ্ছে ন্যায়সঙ্গত কাজ। পোশাক শিল্পের শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা মালিককে অবশ্যই দিতে হবে। তাদের জন্য সবসময় মালিকপক্ষকে উদার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। দীনবন্ধু দত্ত ডেপুটি ম্যানেজার রিসোর্স ইট্রিগ্রেশেন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে পিয়ন, ঝাড়ুদার, দারোয়ানের চাকরির বেতন ওয়েজবোর্ড অনুযারী সর্বসাকূল্যে ২০ হাজার ২৩১ টাকা। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫ হাজার ৩শ’ টাকা নির্ধারিত একেবারেই কম নয়। একজন শ্রমিক গ্রাম থেকে এসে কিছুই জানে না এমন অবস্থায় এই বেতন কম নয় বলে আমি মনে করি। তাই শ্রমিকের আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগদান করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আলমগীর কবীর ধানমন্ডি, ঢাকা আজকের বাস্তবতায় ৫৩০০ টাকা সর্বনিম্ন মজুরি কাঠামো সত্যিকার অর্থেই কোন মজুরি নয়। তাদের জীবন অনেক কষ্টে-দুঃখে কাটে। অতি নিম্নমানের জীবনযাত্রা তাদের। সুতরাং এটা থেকে তাদের পরিত্রাণ দেয়া উচিত। নীলুফা আক্তার টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা থেমে নেই পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ-আন্দোলন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের লাগাতার বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ আশুলিয়ায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। গার্মেন্টস খাত দেশের রপ্তানি আয়ের বিশাল অংশ। যারপরনাই এটাকে কোনভাবেই নষ্ট করা যাবে না। খায়রুল বাশার (চয়ন) কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা উত্তপ্ত অবস্থা চলছে গার্মেন্টস শিল্পে। মজুরি বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত নির্ধারিত মজুরি প্রত্যাখ্যান করে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। এতে জীবন দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। সুতরাং দূর করা প্রয়োজন বিক্ষোভ, ভাংচুরসহ সব ধরনের অরাজক পরিস্থিতি। মো. শহীদুল ইসলাম (রয়েল) নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া শ্রমিকদের ৫৩০০ টাকা দাবি মোটামুটিভাবে মেনে নেয়ার পর আর আন্দোলন হওয়ার কথা ছিল না। সত্যি এটা দুঃখজনক। এটাকে মেনে নেয়া যায় না। মাসুম আহম্মেদ শেকড়ের সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা গার্মেন্টস শিল্পের স্বার্থে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে পিয়ন, ঝাড়ুদার, দারোয়ানের চাকরির বেতন ওয়েজবোর্ড অনুযারী সর্বসাকূল্যে ২০ হাজার ২৩১ টাকা। এটা তাদের সম্মানী অবশ্যই হতে পারে। মো. মোজাহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ইডাফ, সাভার, ঢাকা এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে পিয়ন, ঝাড়ুদার ও দারোয়ানের চাকরির বেতন ওয়েজবোর্ড অনুযারী সর্বসাকূল্যে ২০ হাজার ২৩১ টাকা। কিন্তু ৮ হাজার টাকা বেতনের জন্য সাধারণ শ্রমিকদের জীবন দিতে হচ্ছে। বিষয়টি অবশ্যই জরুরিভাবে পরিবর্তন হওয়া দরকার। পারভীন আক্তার হাজারীবাগ পার্ক, ঢাকা যে কোন কিছুর দাবি-দাওয়া থাকতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে গাড়ি ভাংচুর ও রাস্তায় রাস্তায় একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। গার্মেন্টস শ্রমিকেরা আজ তাদের দাবির জন্য আন্দোলন করছে তাতে কি হবে? তাদের নির্ধারিত ৫ হাজার ৩০০ টাকা কি একেবারেই নিম্নমানের বেতন? তাই আমি বলবো পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা তোমরা সুষ্ঠুভাবে কাজে যোগদান কর। এতে করে একদিন তোমরা উন্নতি করবেই। এখন রাস্তায় না থেকে কাজে মনোযোগী হও। বিউটি, মালিবাগ, ঢাকা পোশাক শিল্পে সবপক্ষের সম্মতিতে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। তারপরেও এই সেক্টরে অস্থিরতা কমছে না। গ্রাম থেকে আসা সদ্য একটা ছেলে কিংবা মেয়ে পোশাক শিল্পের যে কিছুই জানে না সে ৫ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি পাবে এটা আমার হিসাবে অনেক বেশি। সে যেহেতু কিছুই জানে না তাই তার শুধু ভাতা পাওয়ার কথা। আমাদের দেশে তথাকথিত কিছু সুশীল সমাজ ও কিছু অর্থনীতিবিদ ও শ্রমিক নেতা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ৫ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি দিয়ে ঘরভাড়াসহ তিন-চারজনের পরিবারের ভরণ-পোষণ কোনভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু গ্রাম থেকে আসা সদ্য ঐ ছেলেটি ও মেয়েটি কি একমাত্র ভরসা ঐ পরিবারের? আমি মনে করি পরিবারের অন্য কর্মক্ষম ব্যক্তিদের সাথে সে কিছু আয় যোগ করে দিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ৫ হাজার ৩০০ টাকা যে মজুরি পায় তার সর্বসাকুল্য মজুরি হবে ৬ হাজার ৫০০ টাকার মত। তার পরেও যদি এই টাকায় পরিবারে না কুলায় তাতে কি পোশাক শিল্পের মালিকেরা এই দায়িত্ব নিতে পারবে? আমি প্রশ্ন করতে চাই যে, তথাকথিত শ্রমিক নেতাদেরই বা আয়ের উত্স কি? আসলে তারা বিদেশিদের সুবিধাভোগী কিছু লোক এদেশের একমাত্র চালিকা শক্তি পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়। তাই পোশাক শিল্পের ভাই-বোনদের প্রতি আমার অনুরোধ তোমরা ব্যবহূত হইও না। বন্ধ কর তোমাদের এই আন্দোলন। যারা তোমাদের উসকিয়ে দেয় তারা তোমাদের কখনও একটা চাকরিও দেবে না কিংবা কর্মসংস্থানও করবে না। শাহ আলম খান সরল, বাঁশখালি, চট্টগ্রাম পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৫ হাজার ৩শ’ টাকা করে যে প্রস্তাব মজুরি বোর্ড দিয়েছেন মালিকপক্ষ অবশেষে মেনে নেবার পরেও শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছে। সেই সূত্র ধরে তারা যেভাবে বিক্ষোভ ভাংচুর করছে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে একটি সুরাহা করা দরকার। মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু আলোকচিত্র শিল্পী ও সাংবাদিক মহাখালী, ঢাকা সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে পোশাক কারখানার মালিকদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয় এখন পরিষ্কার হওয়া দরকার। তা না হলে বিষয়টি ফলপ্রসূ হবে না। শাহীন মহাখালী, ঢাকা পোশাক শিল্পের জন্য বিজিএমইকে আগে নিশ্চিত করতে হবে। সব মালিক যেন নতুন বেতন কাঠামো ঠিকভাবে মেনে নেন। শ্রমিকদের ঠকানোর কোন সুযোগ যেন আর কেউ না পান সেদিকেও নজর দিতে হবে। মো. সেলিম মহাখালী, ঢাকা আমাদের দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা অন্যতম। তারা অল্প আয়ের মধ্যে অতিকষ্ঠে জীবনযাপন করে থাকে। অথচ গার্মেন্টসের মালিক পক্ষ তাদের ৮ হাজার টাকা দিতে আজ নারাজ। ফলে চলছে এই সেক্টরে নৈরাজ্যকর পরিবেশ। আমরা আশা করছি, এই পরিবেশ থেকে তারা অচিরেই একটি সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি করবেন। পারভীন সুলতানা আরাপপুর, ঝিনাইদহ এ ক্যাটাগরির শ্রমিকদের বেতন ২০ হাজার টাকারও বেশি আসে। অথচ গার্মেন্টস শিল্পের মালিকেরা ৮ হাজার টাকাও দিতে চাচ্ছে না। বিষয়টি অবশ্যই অমানবিক বটে। এই শ্রমিকেরা অনেক কষ্টে জীবন-যাপন করে থাকে। নুন আনতে পানতা ফুরায় তাদের। অথচ এই অল্প আয়ের মধ্যে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। তাই মালিক পক্ষের উচিত সঠিক মজুরি প্রদান করা। মাসুদুর রহমান মাসুদ লালবাগ, ঢাকা সংবাদপত্রে পিয়ন, ঝাড়ুদার, নিরাপত্তাকর্মী তাদের বেতন ২০ হাজার ২শ’ ২১ টাকা আসে। কিন্তু আট হাজার টাকাও দিতে চাচ্ছে না গার্মেন্টস শ্রমিকদের। গার্মেন্টসের মালিকরা অনেক তাড়াতাড়ি কোটিপতি হওয়ার চিন্তাভাবনা করেন। তারা সাধারণ শ্রমিকদের উপরে অত্যাচার করে। যতো কম টাকা দিতে পারার চেষ্টা করে। তাদের নিয়ম আছে মেডিক্যাল অফিসার রাখার কিন্তু তারা রাখে না। পরিবেশ দপ্তরের কোন আইন মেনে চলেন না। গার্মেন্টস কারখানা কিভাবে হবে? আমি মনে করি গার্মেন্টস শিল্পকে বাঁচাতে হলে গার্মেন্টস মালিক সঠিক পথে চলে আসুন। লাভ করুন কিন্তু একদিনে কোটিপতি হওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাহলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। সৈয়দ হায়দার আলী সভাপতি মহাখালী যুব কল্যাণ সমিতি মহাখালী, ঢাকা সংবাদপত্রের পিয়ন, ঝাড়ুদার ও দারোয়ানের চাকরির বেতন ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সর্বসাকুল্যে বিশ হাজার দুইশত একাত্তর টাকা। এটা জেনে আমরা খুশি হয়েছি। কারণ বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এ ধরনের ছোট চাকরিজীবীদের বেতনের পরিমাণটা সঠিক এবং যথার্থ বলে মনে হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- এ দেশের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক শ্রমিকদের বেতন খুবই নগণ্য। যা একটি মানুষকে মানসম্মান নিয়ে সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার মতো নয়। ফলে এ শিল্পে নানাবিধ সমস্যা এবং অস্থিরতা কাজ করছে। ইতিমধ্যে আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যুও ঘটেছে। যা কারো কাম্য নয়। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা দাবি জানাই- পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে মালিক পক্ষ এবং সরকারকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। যাতে করে পোশাক শ্রমিকরা দুবেলা দুমুঠো খেয়ে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর মতো সুযোগ পায়। যদিও ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার তিনশ টাকা তাদের সর্বনিম্ন মজুরি করার ঘোষণা এসেছে। আমাদের দাবি- এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে যদি আরেকটু বেতন বর্ধন করা যায় সেটি ভালো হয়। মনে রাখতে হবে- শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ দেখতে হবে। কোন ক্রমেই কেউ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলে অপরদিকে কেউ তালপাতার শিপাই হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবে তা মেনে নেয়া যায় না। তাই পোশাক শ্রমিকদের আরো বেতন বাড়ানোর আবেদন জানাচ্ছি। ওয়াহিদ মুরাদ নেছারাবাদ, পিরোজপুর যাদের অবদানে পোশাক খাত থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে তাদেরকে এভাবে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। যেখানে বাড়ি ভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুত্ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগামী সেখানে পাঁচ হাজার তিন শত টাকা কিভাবে হতে পারে। আমার কাছে বিষয়টি বোধগম্য নয়। অমিত বণিক উন্নয়নকর্মী, কটিয়াদি, কিশোরগঞ্জ এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রের পিয়ন, ঝাড়ুদার, দারোয়ানের বেতন ওয়েজ বোর্ডে নির্ধারণ বিশ হাজার দুইশত একত্রিশ টাকা। অথচ অনেক সেক্টরের বেতন কম। এই বেতন বৈষম্য নিয়েই অনেক সেক্টরে স্বচ্ছতার সাথে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ফলে পোশাক ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এক্ষেত্রে পোশাক শ্রমিকদের বিষয়টিতে ন্যায্য বেতনের কোন স্বচ্ছতা নেই। প্রত্যেকটি পোশাক শিল্পের মালিক পক্ষ নিজেদের স্বার্থটাকে আগে দেখে থাকেন। তারা পোশাক শ্রমিকদের সাধারণ শ্রমিক বলে ভাবেন; কিন্তু পোশাক শ্রমিকদের দাবি তারা সাধারণ শ্রমিক নন। তারা টেকনেশিয়ান অর্থাত্ কারিগরি শ্রমিক। এ ক্ষেত্রে তারা বেতন বৈষম্যের শিকার। তাই তাদের কাজের মজুরি সেভাবেই দেয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। সাধারণ শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য ন্যায্য হওয়া আবশ্যক। বৈদেশিক মুদ্রায় সর্বোচ্চ উপার্জনকারী প্রতিষ্ঠান পোশাক শিল্প। অথচ তাদেরকে মরতে হচ্ছে এবং জীবন দিতে হচ্ছে। তাদের ন্যায্য মূল্য আদায় করতে নিজেদের জীবনের বিনিময়ে হলেও প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে সরকারসহ পোশাক শিল্প মালিক, রাজনীতিবিদ এবং বিবেক-বেবেচিত মহলকেও এগিয়ে আসা আবশ্যক। শাহ মো. হেলাল উদ্দিন হিরা কালিহাতি, টাঙ্গাইল গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের বেশি খেতে খেতে পেট মোটা হয়ে গেছে। এখনো কিছুটা কম খেতে পারছেন না। বেতন বাড়ানোর কথাতো শুনতে ভালই লাগে; কিন্তু বেতন যাদের বাড়বে তারা সেই বেতন দিয়ে সুফল ভোগ করতে পারবে কিনা সেটা কেউ ভাবছেন না। বাতাসের কাছে যদি শুনতে পায় অমুকের বেতন বেড়েছে তখন বাড়ির মালিকগণ তাদের বাড়ির ভাড়া বাড়িয়ে দেন, পরিবহন কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বেড়ে যায়। মোট কথা- বেতন তিনগুণ বাড়লেও বেশি বেতনপ্রাপ্তগণ সুফল ভোগ করতে পারছেন না। এজন্য আগে দরকার রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সকল সম্যসার সমাধান হবে। সাইফুল ইসলাম তানভীর মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট শ্রমিক বলতে এখানে পোশাক শ্রমিক বা অন্য কোন সাধারণ শ্রমিককে বলে। শ্রমিকদের যারা টেকনিক্যাল ক্যাটাগরিতে পড়ে তাদের বেতনের তুলনা নন-টেকনিক্যালের বেতন তুলনামূলক কম হবে এটাই স্বাভাবিক। সংবাদপত্রে সাধারণ কর্মচারীদের যে বেতন আছে তা পোশাক শ্রমিকদের বেতনের চেয়ে তিন গুণ বেশি। গার্মেন্ট শ্রমিকরা যে দাবি করেছে অর্থাত্ আট হাজার টাকার বেতন নির্ধারণের জন্য। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মেনে নেয়া উচিত বলে মনে করি। তা না হলে দেশে যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন দিনের পর দিন বাড়বে ছাড়া কমবে না। দেশের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার করলে এ বেতন বেশি নয়। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী উপদেষ্টা নজরুল একাডেমী হাউজিং স্টেট, রাজশাহী-৬২০২ আমাদের দেশে সকল কর্মজীবী মানুষ কাজের মূল্যায়নের অভাবে দুঃখকষ্টে দিনযাপন করছে। এতে শিল্পের ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের প্রাণের মূল্যই নেই সেখানে কর্মক্ষেত্রে বেতনের মূল্যায়ন হবে কি করে। এ ক্যাটাগরির পিয়ন, ঝাড়ুদার ও দারোয়ানের শিল্প কারখানায় যে কোন কাজে ব্যবহার করা যায়। তাই তাদের খুশি করার মালিকদের একটি অস্ত্র; কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক শ্রমিক পোশাক শিল্পের বাইরে অন্য কোন কাজ করবে না। উপরন্তু বাংলাদেশে বেকার সমস্যা এতো বেশি যে একশ জনের কাজের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে এক লাখ কর্মী ইন্টারভিউতে দাঁড়ায়। সুতরাং সহজেই শ্রমিক পাওয়া যায়। তাই শ্রমিকদের সরানোও সহজ। আশা এলিজাবেদ গুমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০ বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মানবেতর জীবন যাপন করছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির এ বাজারে তাদের টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ শ্রমিক প্রয়োজনীয় খাদ্যের অভাবে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। টাকার অভাবে চিকিত্সা করতে না পেরে প্রতিনিয়ত জীবন হারাচ্ছে। অন্যদিকে প্রায়ই ভবন ধস, আগুন লাগার মত ঘটনাতো আছেই। শ্রমিকদের এ দাবীর মুখে গার্মেন্টস খাতে শ্রমিক অসন্তোষ চলতে থাকলে এ খাত ধ্বংস হতে বাধ্য। ওয়েজবোর্ডের ঘোষণা অনুযায়ী তাদের বর্তমান বেতন ৫,৩০০ টাকা করা হয়েছে যা মোটেও যথেষ্ঠ নয়। বেতন বৃদ্ধিসহ কাজের পরিবেশের মান আরো উন্নত এবং ঝুঁকিমুক্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অচিরেই গার্মেন্টস মালিকদের নেয়া উচিত্। মালিকদের মনে রাখা উচিত্ গরীব এ শ্রমিকদের ঘামেই তারা এত বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন। যাদের জন্য তাদের এতকিছু তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা বিশ্বাসঘাতকতারই শামিল। তাদের জীবনমান আরো উন্নত করা এবং ন্যায্য পাওনা আদায়ে সরকারের আরও মনোযোগী হওয়া উচিত্। বেতন বাড়ানোর আন্দোলন তথা ন্যায্য পাওনার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে এসে আর যেন কোন শ্রমিককে পুলিশের গুলিতে মরতে না হয়। মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বাঁশগাড়ী, নারচী, সারিয়াকান্দী, বগুড়া পোশাক শ্রমিকদের বেতন এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে পিয়ন, ঝাড়ুদার, দারোয়ানের চাকরির বেতন ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী সর্বসাকুল্যে বিশ হাজার দুই শ’ একত্রিশ টাকা। অথচ আট হাজার টাকা বেতনের জন্য জীবন দিচ্ছে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী পোশাক শ্রমিক, এটা হতে পারে না। ন্যায্য মজুরী পাওয়ার অধিকার শ্রমিকদের রয়েছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করে নিত্যদিনের সর্বনিম্ন ব্যয়ের কথা বিবেচনা করতঃ উপযুক্ত বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। শুধুমাত্র পোশাক শ্রমিক নয়, সকল প্রকার শ্রমিকদের বেতন নির্দিষ্ট স্কেল অনুযায়ী প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ দূর হবে। যতদ্রুত সম্ভব এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে। মো. ইয়াছিন উদ্দিন এ কে মেডিক্যাল হল ৫০, ডিআইটি প্লট, গেন্ডারিয়া, ঢাকা-১২০৪ সংবাদপত্র শিল্পের পিয়ন, ঝাড়ুদার, দারোয়ানের ন্যূনতম বেতন যেখানে বিশ হাজার দুইশত টাকা সেখানে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী পোশাক শ্রমিকেরা আট হাজার টাকা বেতনের দাবিতে জীবন দেয়া জাতির জন্য নিদারুণ দুঃখ, বেদনা ও চরম লজ্জার বিষয়। অপরদিকে পোশাক শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত =৮,৩০০/- (আট হাজার তিনশত) টাকা মজুরির দাবিতে গত ক’দিন ধরে আশুলিয়া, টঙ্গী সাভার ও গাজীপুরে অবস্থিত শত শত পোশাক শিল্প কারখানায় যা ঘটছে তাকে কোন মতেই সুস্থ সামাজিক পরিবেশের সহায়ক বলা চলে না। কাজেই এই সকল দিকের সুষ্ঠ সমাধান করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি =৮,৩০০/-(আট হাজার তিনশত) টাকা নির্ধারণ পূর্বক সংশ্লিষ্ট পোশাক শিল্প কারখানাগুলো নিজ উদ্যোগে সুবিধাজনক আবাসস্থল নির্মাণ ও বরাদ্দ দেওয়া, ভর্তুকি হারে ক্যান্টিন পরিচালনা করে সেখান থেকে নামমাত্র মূল্যে শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করা, বিজিএমইএ’র নিয়ন্ত্রণে রেখে চট্টগ্রাম পোর্টের আদলে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সন্তান ও নির্ভরশীলদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলার মাঠের স্থায়ী ব্যবস্থা করা আশু কর্তব্য। নতুবা পাট শিল্পের মত তৈরি পোশাকশিল্পের বাজার আমাদের যে কোন সময় হারাবার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি ৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩ এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে পিয়ন, ঝাড়ুদার, দারোয়ান বেতন পায় ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সর্বসাকুল্যে বিশ হাজার দুইশ একত্রিশ টাকা। অথচ পোশাক শ্রমিকরা আন্দোলন করছে তাদের ন্যায্য বেতন পেতে। সরকার, পোশাক মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা একত্রে বসে সহনীয় পর্যায় রেখে বেতনের বিষয়টি নির্ধারণের সার্বজনীন গ্রাহ্যের মধ্যে আনা জরুরী হয়ে পড়েছে। জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে ও প্রশাসনে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ আরো জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন কাজ ফেলে রাস্তা অবরোধ, জান-মালের ক্ষতি করে ফ্রিস্টাইলে ঘেরাও একটা ফ্যাশনে দাঁড়িয়েছে। কাজ না করেও মাসগেলে বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকায়, শ্রমিকরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। বেতন বাড়াতে হবে, সাথে সাথে শিল্প মালিকদেরও একটা দীর্ঘ মেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে, শ্রমিক নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি হবে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী পাশ। তিনকোটি শিক্ষিত বেকারের দেশে যেমন ন্যূনতম শিক্ষিত থেকে শুরু করে, উচ্চ শিক্ষিতদেরকে পুনর্বাসন সম্ভব হবে, তেমনি পোশাক শিল্পেও একটা শৈল্পিক পরিবেশ ও সৃষ্টি হবে। পোশাক শিল্প ধ্বংসের নেপথ্যের কারিগররাও সস্তা কথায় শিক্ষিত শ্রমিকদের নিজ স্বার্থে ব্যবহার করতে কষ্টসাধ্য মনে করবে। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে সারাদেশে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক মালিদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ। তাই গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের বলবো তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না করে তাদের সুবিধাগুলো দেয়া একান্ত কর্তব্য। লাডলা, আজিমপুর, ঢাকা ঘাম ঝড়ানো শ্রমের অর্থে গড়ে উঠেছে এদেশের গার্মেন্টস শিল্প। অথচ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বিভিন্ন অনিয়মে চলছে এই শিল্প। তাই এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মো. মারুফুজ্জামান মারুফ খিলগাঁও, ঢাকা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি এলাকার কারখানা শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও ভাংচুরসহ আন্দোলন চালিয়ে আসছে। শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে শতাধিক শ্রমিক। আমরা মনে করি, দিনের পর দিন যদি এরকম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলতে থাকে তাহলে এই শিল্পে ধস নামবে। তাই বিলম্ব না করে দ্রুত এর সমাধান হওয়া দরকার। আইরিন সুলতানা মনজু ধুপপুর মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম অনেক গার্মেন্টস কারখানা বিবিধ অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের কাশিমপুরের সারদগঞ্জ কোনাবাড়ী ও টঙ্গীতে পুলিশ ও পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া লেগেই আছে। তাই আমরা চাই গার্মেন্টস শিল্পের এমন নৈরাজ্যজনক অবস্থা থেকে মুক্তি। আবদুল মালেক মিয়া দলিল লেখক সাবরেজিস্ট্রি অফিস মিরপুর মজুরি নিয়ে শ্রমিক মালিক পক্ষ মোটামুটি ঐকমত্য হলেও তৈরি পোশাক শিল্পে বিক্ষোভ চলছে। একদিকে মালিক শ্রমিক কাজে যোগ দেয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিভিন্ন শিল্পাঙ্গনে বিক্ষোভ চলছে। এটা মেনে নেয়ার মত নয়। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ প্রধানসড়ক, ফেনী আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি পাওয়ার অধিকার সমর্থন করলেও কথায় কথায় বিক্ষোভ কিংবা সহিংসতাকে ধিক্কার জানাই। বিপ্লব আলম উর্দুরোড, লালবাগ, ঢাকা এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে পিয়ন ঝাড়ুদার, দারোয়ানের চাকরির বেতন ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সর্বসাকূল্যে বিশ হাজার দুইশ একত্রিশ টাকা। কিন্তু আজ আট হাজার টাকা বেতনের জন্যে আন্দোলন বিক্ষোভ ভাংচুর চলছেই। আমরা মনে করি পোশাক শ্রমিকদের এই মুহূর্তে আন্দোলনে না গিয়ে কাজে মনোনিবেশ করাটাই উত্তম। মিজানুর রহমান মিজান নীলাম্বর সাহা রোড, হাজারীবাগ, ঢাকা পোশাক শিল্পের শ্রমিকেরা এই সেক্টরের দক্ষ কারিগর বটে। তারা যখন এই সেক্টরে নতুন প্রবেশ করে একেবারেই অদক্ষ অনভিজ্ঞ থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা একজন দক্ষ শ্রমিক হিসাবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে মালিকপক্ষ যে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করেছেন, এটা একেবারেই খারাপ নয়। এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে পিয়ন, ঝাড়ুদার, দারোয়ানের চাকরি বেতন ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সর্বসাকুল্য বিশ হাজার ২শ একত্রিশ টাকা। কিন্তু আজ তারা ৮ হাজার টাকার জন্য রাস্তায় আন্দোলনরত। এটা ঠিক নয়। জাহিদ হোসেন গ্রীনরোড, ঢাকা এ অর্থ দিয়ে ১ ব্যক্তির তিন বেলা মানসম্মত খাবার খাওয়া যেমন সম্ভব নয় তেমনি গার্মেন্টস শিল্প এলাকায় মানসম্মত এক রুমের একটি ঘর পাওয়া দুষ্কর। তারপরও মালিক পক্ষ মজুরি কাঠামো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এটা ঠিক নয়। মো. মনির হোসেন মনিরবুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র মিরপুর ঢাকা ১২১৬ গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো মেনে নিয়ে প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষিতে না গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াই হবে উত্তম পথ। ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা আশির দশক থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পটির নাম পোশাক শিল্প। শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ব্যবসায়ীদের দূরদর্শিতায় আন্তর্জাতিক বাজারে সহজেই একটি ভাল অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল আমাদের দেশ। কিন্তু দুর্ভাগের বিষয় এই যে, মালিক পক্ষ একটি গার্মেন্টস থেকে একাধিক গার্মেন্টসের মালিক হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের কোন উন্নতি হয়নি। গত কয়েকমাস যাবত্ শ্রমিকেরা মালিকপক্ষকে তাদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছিল। মালিক পক্ষ কর্ণপাত না করায় শ্রমিকেরা আজ তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে আন্দোলন করছে। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিটি আহত কিংবা নিহত হচ্ছে পুলিশের গুলিতে, ইহা সত্যিই অমানবিক। তাই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বছর শেষে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি কিংবা ওয়েজবোর্ড এর নীতি কোনটির কথাই আজ বলবো না। আমি শুধু ব্যক্তিগতভাবে মালিকপক্ষকে অনুরোধ করবো আপনারা একবার ভাবুন, অনেক সময় আপনাদের একটি সন্তানের টিউশন ফি বাবদ মাসে গুণতে হয় ৪/১২ হাজার টাকা। সেই দিকটি বিবেচনা করে শ্রমিকদের দাবিটি মেনে নেন ও পোশাক শিল্পের গৌরবময় অবস্থা ধরে রাখুন। নতুবা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাজারে আমাদের অবস্থান টিকিয়ে রাখা দূরহ হবে। ডাঃ মর্জিনা আক্তার বিজিএমই এর প্রতিবেদন অনুযায়ী গার্মেন্টস শিল্পের মালিক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি গ্রেডভিত্তিতে পরিশোধ করেন না। অনেক শ্রমিকদের কোন পরিচয়পত্র দেয়া হয় না। মাতৃকালীন ছুটিও অনেকে পান না। ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করিয়েও অনেকে ওভারটাইমের টাকা দেন না। শ্রমিকদের অনেক কষ্টে ঘাম ঝরানো অর্থে গার্মেন্ট শিল্প মালিকরা হয়েছেন বিত্তশালি, কিন্তু শ্রমিকদের দিকে ঠিকমত তাকান না। তাই শ্রমিকদের জীবনের মূল্যের দিকে তাদের দৃষ্টি দেয়া একান্ত জরুরী। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী কবির হাট, নোয়াখালী সুতরাং এ ক্যাটাগরির সংবাদপত্রে পিয়ন, ঝাড়ুদার দারোয়ানের চাকরির বেতন ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সর্বসাকুল্যে বিশ হাজার দুইশ একত্রিশ টাকা। অথচ আট হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির জন্য জীবন দিতে হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের। মনে রাখতে হবে এই শিল্প আমাদের অহংকার ও গর্বের। মেজবাহউদ্দিন সেলিম পূর্ব ইব্রাহিমপুর (পাকার মাথা), ঢাকা বাস্তবতায় গার্মেন্টস খাতে অবিলম্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। দূর করা প্রয়োজন বিক্ষোভ-ভাংচুরসহ সব ধরনের অরাজক পরিস্থিতি। হোসনে আরা করিম, এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা আমাদের দেশের প্রধান রফতানি খাত গার্মেন্স শিল্প বর্তমানে নানা কারণে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একদিকে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল সহিংসতার প্রভাব পড়ছে এ শিল্পে, অন্য দিকে ঘন ঘন দুর্ঘটনা অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত। তাই সব মিলিয়ে এ শিল্পকে অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শেলী, স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থেই এ শিল্পকে রক্ষা করা অতিব জরুরী। যেহেতু এ শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ কর্মী নিয়োজিত। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। সুতরাং তারা যদি এ কর্মসংস্থান হারিয়ে ফেলে আমাদের সমাজে নানাভাবে নানা প্রভাব বিরাজ করবে। বজলুল করিম রিসোর্স ইট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক), ধানমন্ডি, ঢাকা আমরা মনে করি কারখানার ক্ষতি করতে শ্রমিকদের ইন্ধন দেয়া হয় বহিরাগতদের মাধ্যমে। এর পেছনে বড় কোন চক্রান্ত থাকার কথা। সুতরাং এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া একান্ত দরকার। মোঃ হানিফ মিয়া হাজারীবাগ, ঢাকা মালিক পক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা মেনে নেয়ার পরও এই খাতে শ্রমিক অসন্তোষ। বিক্ষোভ, ভাংচুর, অবরোধ অব্যাহত থাকা সত্যিই উদ্বেগজনক। আমরা এটা থেকে অতি শীঘ্রই সমাধান চাই। মোঃ খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরামপুর, ঝিনাইদহ পোশাক শিল্পে কর্মরত। অসহায় নারী পুরুষ দরিদ্র মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে কাজ করতে আসা তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অসহায় শ্রমিকের রক্তের প্রতিষ্ঠান বছরে বছরে আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে মালিকদের। আর শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে মজুরির জন্য জীবন। আসলে পোশাক শিল্পকে বিনষ্ট করার জন্য বিদেশিচক্র ছাড়া আর কিছু নয়। আর এই ষড়যন্ত্রে জড়িত আমাদের দেশের কিছু মহল। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনদারী শ্রমিকদের প্রতি সরকার ও মালিক পক্ষ আরো সদয় হবেন। ন্যায্য মজুরীর ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দিকেও আরো সতর্ক থাকতে হবে বৈদেশিক ষড়যন্ত্র থেকে। মন্জু খন্দকার চুয়াডাঙ্গা