দেশে কীভাবে একটি সুষ্ঠু
নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:১১
নিরপেক্ষ কোন ব্যক্তিকে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান
করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে
সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নিজেদের একঘেয়েমিতা পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি একপক্ষ অন্যপক্ষকে অহেতুক দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নিজ নিজ কঠোর পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে অর্থাত্ বিএনপিকে কঠিনতম কর্মসূচি হরতাল, অবরোধ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং আওয়ামী লীগকে বিরত থাকতে হবে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতন করা থেকে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দরকার একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। তাইতো আমি মনে করি বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে এবং দরকার হলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে পরিবর্তন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচন কমিশনকে সবসময়ই ব্যক্তি ও দল নিরপেক্ষ থাকতে হবে। শুধু তাই নয় সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কোন ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান করতে হবে।
তারেক রহমান
স্নাতক সম্মান (বাংলা)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতিকে অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের প্রধান করলে
সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণ করা সম্ভব না হলে বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা, গুপ্তহত্যা, জনমনে অস্থিরতা আরো বাড়তে থাকবে। তাই এ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবশ্যই বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারি দল এবং সুশীল সমাজকে সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আশু স্থায়ী সমাধান বের করার জন্য রাষ্ট্রপতি, সরকারি দল, প্রধান বিরোধী দল এবং অন্য দলের নিকট থেকে প্রস্তাবনা চাইবেন। এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
প্রশাসনে কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে তবেই এ সংঘাতময়, সংশয়পূর্ণ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন স্থায়ী সমাধান বের হয়ে আসবে এবং গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার থেকে জাতি মুক্তি পাবে। এক্ষেত্রে সবাইকে অবশ্যই উদারতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
মো. সামসুল আলম লিমন
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
দল নয়, জনগণের ইচ্ছায়
নির্বাচনকালীন সরকার গঠন
করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে
আমাদের দেশে প্রতি পাঁচ বছরান্তে জাতীয় নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক সংঘাত একটি ভয়ানক সাংস্কৃতিক রূপ নিতে যাচ্ছে। এরূপ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এমন একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে যেটিকে কোন দল-মহাদল নিজ স্বার্থে বিতর্কিত করতে না পারে। বর্তমানে দেশে “নির্দলীয়” ও “সর্বদলীয়”— এই দুটি শব্দের সংঘর্ষে মরছে মানুষ, পুড়ছে গাড়ি, ফুটছে বোমা, ফাটছে টকশো, কাঁদছে মা-সন্তান, চৌচির প্রায় অর্থনীতি। দেশ জনগণের, নির্বাচন জনগণের, ভোট জনগণের, সরকার জনগণের। যদি নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়টিও জনগণের উপর ছেড়ে দেয়া যায়, তাহলেই সম্ভব হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা। জনগণই গঠন করে দেবে নির্বাচনকালীন সরকার। আর সেই সরকারের অধীনেই দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
মো. ছৈয়দ করিম চৌং
রাষ্ট্রবিজ্ঞান,অনার্স, প্রথম বর্ষ
কক্সবাজার সরকারি কলেজ।
নিরপেক্ষ নির্বাচন
কমিশনই পারে সুষ্ঠু
নির্বাচন করতে
বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল বলেছিলেন, “একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সার্বভৌম ক্ষমতা সমগ্র জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। তাঁর এ কথায় স্পষ্ট প্রমাণিত যে, জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে আমাদের দেশের মানুষের কৌতূহলের কমতি নেই। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক আশা করে যে দলই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন জনগণের সেবক হিসেবে আসে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হলে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ হতে হবে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনটা যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেজন্য মিডিয়াকর্মীকে স্বাধীনভাবে কাজ ও পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইভিএম ব্যবহার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বর্জন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনে সব রাজনৈতিক দলের লোক থাকলে নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে। সরকারি দল যাতে ভোট কারচুপি না করতে পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এভাবে যদি দেশে নির্বাচন হয় তবে সেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আমরা নতুন প্রজন্ম আশা রাখি।
আকাশ আহমেদ (জারসা)
সমাজবিজ্ঞান,অনার্স, ২য় বর্ষ-৩২১০
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।