[ রা জ নী তি ]
খেলার সমাপনী পর্ব না আরো বড় খেলার সূচনা পর্ব : কী হচ্ছে দেশে
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪২
দাবা খেলার শেষ দিকের চালগুলোকে বলা হয় ‘এন্ড গেইম’ অর্থাত্ খেলার ‘সমাপনী পর্ব’। খেলার শেষটা শেষ পর্যন্ত কি হতে যাচ্ছে, এ সময়টিতে তা মূর্ত হওয়া শুরু করে। খেলার আগের পর্বগুলোতে যতো ছোট-বড় চালই চালা হোক না কেন, খেলার শেষটা কি হবে সে সম্পর্কে সেসব থেকে নিশ্চিতভাবে খুব একটা ধারণা করা যায় না।
আমাদের দেশের চলতি-রাজনীতির সাম্প্রতিক পর্বের খেলার ক্ষেত্রেও সে ধরনের ‘এন্ড গেইম’ শুরু হয়ে গেছে। সমসাময়িক রাজনীতির প্রধান খেলোয়াড় ‘দুই নেত্রী’ এখন তাদের রাজনীতির দাবা খেলার ‘এন্ড গেইমের’ শেষ চালগুলো চালছেন। সেসব ‘চালের’ শিকার হয়ে অসহনীয় দুর্ভোগ, যন্ত্রণা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে অসহায় জনগণ। পেট্রোল বোমায়, ককটেলে, গানপাউডারে, জ্বলন্ত বাসে আগুনে পুড়ে, ফুটপাতে চলাচল করতে থাকা অবস্থায় তারা লাশ হচ্ছে, অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে, বিকলাঙ্গ হচ্ছে। তবুও ‘খেলোয়াড়দ্বয়’ তাদের পাল্টাপাল্টি চাল চালার আত্মঘাতী খেলায় বিভোর।
প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেই চলেছেন যে, তিনি সংলাপ ও সমঝোতা চান। কিন্তু লাগাতার ‘হরতাল’ ডেকে তিনি পরিস্থিতিকে ক্রমাগত অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ করে রাখার পথ অনুসরণ করছেন। আগে হরতালে পুলিশের গুলিতে দু-চারজন আন্দোলনকারী শহীদ হতেন। এখনকার ‘হরতালে’ ডজন-ডজন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়। তারাও শহীদ বৈকি! তবে তাদের বেশিরভাগকে শহীদ হতে হচ্ছে তথাকথিত ‘আন্দোলনকারীদের’ হামলায়। এই তথাকথিত ‘আন্দোলনকারীরা’ কারা? তারা কি আদর্শে উদ্বুদ্ধ দলীয় কর্মী! নাকি তারা নিছক ভাড়াটিয়া ‘বোমাবাজ’, ‘অগ্নিপ্রজ্বলনকারী’, ‘ঘাতক-সন্ত্রাসী? দেশে এখন হরতালের ‘ক্যাটারিং সার্ভিসের’ ব্যবসা তৈরি হয়ে গেছে। টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী ক্যাডার নিযুক্ত করে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এই তথাকথিত ‘আন্দোলনে’ জনগণকে সম্পৃক্ত করাটা তাদের উদ্দেশ্য নয়, আসল উদ্দেশ্য হলো একটি ‘পরিস্থিতি’ তৈরি করা। তাদের আসল এজেন্ডা অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নয়, আসল এজেন্ডা হলো ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত করা। পেছনের ‘লুকানো এজেন্ডা’ হলো তারেক জিয়াকে ফিরিয়ে আনাসহ অন্যান্য অনুচ্চারিত বিষয়।
বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতের সংশ্রব ত্যাগ করলেন না। জামায়াতকে তার একান্ত প্রয়োজন। ভোটের জন্য ততোটা নয়। ‘লুকানো এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের জন্য ‘পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করতে জামায়াতকে তার দরকার। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রয়োজন বিএনপিকে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাদের যেসব নেতা দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে এবং বিচারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তাদেরকে বাঁচানোর জন্য জামায়াতের একটি আশ্রয় দরকার। বিএনপি সে আশ্রয় দিচ্ছে। এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতের প্রয়োজন দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ছিন্ন করা। সেই পথে দেশকে নিয়ে যেতে পারলে বিচারিক ধারাবাহিকতাকে ছিন্ন করার একটি পথও তৈরি করা সম্ভব হবে। ‘একতরফা’ নির্বাচনের দিকে দেশকে নিতে পারলে যে নৈরাজ্য ও অস্থিরতা-অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে তা জামায়াতকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ‘শর্ট-সার্কিট’ করার নীলনক্শা বাস্তবায়নের পথ তৈরি করে দিতে পারবে। সে কারণেই জামায়াত নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সমঝোতা ও সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিএনপিকে দিয়ে সে এখনো পর্যন্ত তার সেই খেলা খেলিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সেদিন বললেন যে, তিনি দেশে শান্তি চান— সেজন্য প্রধানমন্ত্রিত্ব ত্যাগ করতেও তিনি কুণ্ঠিত হবেন না। এ কথা কি তিনি আন্তরিকভাবে বলেছেন? না কি এ কথাও দাবার ‘এন্ড গেইমের’ চালাকিপূর্ণ চাল মাত্র? আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা সম্প্রতি বিপুল পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার পক্ষে ক্ষমতায় দ্বিতীয় মেয়াদ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। অথচ, দ্বিতীয় মেয়াদ না হলে নেতারা ক্ষমতার লোভনীয় বিপুল সব ‘সুবিধা’ থেকে বঞ্চিত হবে। কর্মী-ক্যাডাররাও এসব ‘সুবিধার’ চুঁইয়ে পড়া ছিটে-ফোঁটার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। আরো বড় কথা, দ্বিতীয় মেয়াদ না হলে তারা যে তাদের যাবতীয় দুষ্কর্মের জন্য বিচারের সম্মুখীন হবে না, তার গ্যারান্টি কে দিবে? অগণতান্ত্রিক শক্তির হস্তক্ষেপ ঘটলে তাদের সাথে ‘ডিল’ করার সম্ভাবনা থাকলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সেরূপ ‘ডিলের’ দ্বারা রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা দুরূহ। বিএনপিকে ক্ষমতা নিতে দেয়ার চেয়ে, অন্য কোন ‘তৃতীয় শক্তি’ ক্ষমতা নিলে ‘ব্যক্তিগত’ বিপদের আশংকা বরং কম হবে। তাতে দেশের জনগণের মৌলিক অধিকারের বারোটা বাজলে বাজুক।
কিন্তু ‘একতরফা’ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত! আবাহনী দলকে খেলা থেকে ‘আউট’ করে রাখতে পারলে মোহামেডানের বিজয় ঠেকায় কে? অবস্থা অনেকটা তেমন। কিন্তু সমস্যা হলো ‘একতরফা’ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। এ ক্ষেত্রে যথেষ্টভাবে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করতে না পারলে তারও ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। সেরূপ ‘একতরফা’ নির্বাচনের ফলাফল হবে ক্ষণস্থায়ী। বিপদ তার এখানেই। তাই, ‘একতরফা’ নির্বাচনের স্কিমের পাশাপাশি সেক্ষেত্রে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর জন্য আওয়ামী লীগ এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। যতো বেশি দলকে ‘একতরফা’ নির্বাচনে আনা যায়— সেজন্য তার প্রচেষ্টার শেষ নেই। এক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতার কোনো তোয়াক্কাও সে করছে না।
এরশাদ ‘ডিগবাজি’ ও ‘ডবল-ডিগবাজির’ খেল দেখিয়ে অবশেষে একতরফা নির্বাচনে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছে। মাঝে সে তত্পর হয়েছিল বিকল্প ধারা, জেএসডি, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ইত্যাদি দলকে নিয়ে বিকল্প জোট করতে। তার অভিসন্ধি ছিল সবাইকে নিয়ে একতরফা নির্বাচনে শামিল হয়ে ‘গৃহপালিত বিরোধী জোট’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। সে প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ায় হেফাজতের নেতার নিকট থেকে আগের দিন দোয়া নিয়ে পতিত স্বৈরশাসক এরশাদ পরদিন সকালে মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা ও বিকেলে দলের নেতাদের সদলবলে মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার কুিসত নাটক প্রদর্শন করেছে। স্বৈরাচারকে হাত করতে পেরে আওয়ামী লীগ আহ্লাদে গদ-গদ। এবার তাদের ‘একতরফা’ নির্বাচনের খেলা ঠেকায় কে? এভাবে ‘এক জোটে রাজাকার ও আরেক জোটে স্বৈরাচারের’ উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চকে কলঙ্কিত করে রাখলো।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠিত হয়েছে। এটিকে ‘সর্বদলীয়’ মন্ত্রিসভা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তা সফল হয়নি। জাতীয় পার্টি মহাজোটে না থাকলেও জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা যে আওয়ামী লীগের সাথে মন্ত্রণা করেই মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করছে তা আড়াল করা যায়নি। সংসদে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাংসদদের অনুপাত যা, জাতীয় পার্টিকে তার কয়েকগুণ বেশি মন্ত্রিত্ব-আসন দেয়া হয়েছে। সেজন্য মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের সংখ্যাও ‘ছোট মন্ত্রিসভার’ আকারের চেয়ে প্রায় ডবল বাড়াতে হয়েছে। তাদের মোট সংখ্যা এখন ৩৯ করা হয়েছে। একে কি ‘ছোট মন্ত্রিসভা’ বলা যায়?
শপথ নেয়ার পর নতুন একাধিক জাঁদরেল মন্ত্রী এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার একথা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এটি একটি অন্তর্বর্তী ও নির্বাচনকালীন সরকার। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সরকার নয়, এটি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেয়ার সীমিত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে গঠিত সরকার। অর্থাত্ এই সরকারের দায়িত্ব কেবল মামুলি রুটিন কাজ করা। কিন্তু রহস্যময় প্রশ্ন হলো— রাষ্ট্র পরিচালনার ভারি কাজের জন্য এসব জাঁদরেল নেতাদের এতদিন মন্ত্রিসভায় না নিয়ে এখন মামুলি কাজের জন্য তাদেরকে কেন মন্ত্রিসভায় নেয়া হলো? বিস্ময়কর ব্যাপার বৈকি!
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্সবমুখর উদ্দীপনা সৃষ্টির একটি আবহ প্রদর্শনের জন্য আওয়ামী লীগ খুব ঘটা করে দলীয় মনোনয়ন বিক্রির প্রক্রিয়া চালিয়েছে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ব্যান্ড পার্টিসহ একের পর এক লক্ষ টাকার সুসজ্জিত মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় অফিসে এসে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থীরা ২৫ হাজার টাকা ফান্ডে জমা দিয়ে দরখাস্ত জমা দিয়েছে। ৩০০ আসনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার দরখাস্ত জমা পড়েছে। আসন প্রতি গড়ে ৮টি দরখাস্ত। একটি আসনের জন্য প্রায় অর্ধশত প্রার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিপুল সংখ্যক এমপি-প্রত্যাশী ব্যক্তি দলে থাকাটা এই ইঙ্গিতই দেয়ার কথা যে- দলে দক্ষ, অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ, পরীক্ষিত নেতার সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু অবস্থাটা কি তাই। নাকি তার বিপরীত? আসল সত্যটি হলো আজকাল এমপি হওয়ার সাথে রাজনৈতিক চেতনার ও আত্মত্যাগ, অভিজ্ঞতা, বিচক্ষণতা ইত্যাদির সম্পর্ক প্রায় শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা হয়েছে। টাকার শক্তি ও পেশী শক্তি থাকাটাই ‘বিজয়-যোগ্যতার’ মাপকাঠি করে তোলা হয়েছে। ‘হাইব্রিড’ বা ‘ওয়ান টাইম’ এমপি দিয়ে সংসদকে ভরে ফেলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। তাই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মিছিলগুলোতে ব্যান্ড পার্টির বাদ্যের শব্দের বাইরে হৈ-হৈ রৈ-রৈ চিত্কার এবং ‘...ভাইয়ের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র’ মার্কা শ্লোগানের বাইরে অন্য কোন রাজনৈতিক ইস্যুতে শ্লোগান ছিল একেবারেই অনুপস্থিত। রাজনৈতিক চেতনার মান বাড়ার বদলে কমেছে। এমপির সম্ভাব্য মান কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এ প্রবণতা আগে থেকেই ছিল। ‘একতরফা’ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য সে মানকে আরো কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
‘একতরফা’ নির্বাচনের অবিশ্বাসযোগ্যতা ও অগ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে আনার মরিয়া তাগিদে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য কমপক্ষে ৩ বছর সংশ্লিষ্ট দলের সদস্য থাকার বাধ্যবাধকতার যে আইন ছিল তা তুলে দেয়া হয়েছে। এর ফলে অন্য দল থেকে লোক ভাগিয়ে এনে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সাথে সাথে নমিনেশন বাণিজ্যের রমরমা কারবারের মাধ্যমে সংসদে লুটেরা কোটিপতিদের প্রবেশের সুযোগ অবারিত হবে। এভাবে রাজনীতি আরো রুগ্ন ও নোংরা রূপ নিবে। ছল-চাতুরী ও শর্টকাট ম্যানুপুলেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ভ্রান্ত কৌশলের এসবই হলো অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।
‘একতরফা’ নির্বাচন পরিণত হবে ভোটারবিহীন নির্বাচনে। যারা গত নির্বাচনে ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রায় ৫৭% ভোট পেয়েছে তাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সে নির্বাচনকে কোনোভাবেই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন বলা যায় না। প্রতিযোগিতামূলক না হলে সেই নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে তেমন আগ্রহী হবেই বা কেন। মোহামেডান ও আবাহনীর খেলা দেখতে মাঠ ভরে যায়। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টে আবাহনীর অনুপস্থিতির কারণে মোহামেডানের ওয়াক-ওভারে বিজয় নিশ্চিত বলে জানা আছে তা দেখতে মানুষ খামাকা মাঠে যাবে কেন? এদিকে নির্বাচন বানচালের জন্য জামায়াতের সহায়তায় বিএনপি যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করবে, সেই ভয়-ভীতি-আতঙ্কের মাঝে ভোটাররা বিপদ মাথায় নিয়ে ভোট দিতে যেতে দ্বিধা করবে। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রশাসনিক ম্যানুপুলেশনের দ্বারা তাকে বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা হবে ঠিকই। কিন্তু মানুষের কাছে সে কারচুপি ধরা পড়ে যেতে বাধ্য। সুতরাং এ ধরনের ‘একতরফা’ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা হবে নিষ্ফল।
এ ধরনের একটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দ্বারা দেশে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য বিশেষ কিছু দেশি-বিদেশি শক্তি ওঁত্ পেতে বসে আছে। তারা ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে তাদের সেই ফাঁদে ফেলতে তারা সক্রিয় রয়েছে। তারা যে কি করতে চায় সেকথা প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রীদ্বয় একাধিকবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তারা উভয়ই বলেছেন যে ‘ওয়ান-ইলেভেনের এজেন্ডা এখনো শেষ হয়নি’। অথচ সেই ফাঁদে তারা দু’জনেই পা দিচ্ছে।
এ কারণে বলতে হয় যে, দেশে এখন যা ঘটছে তা রাজনীতির সমসাময়িক দাবা খেলার সমাপনী পর্ব বা ‘এন্ড গেইম’-এর শুরু। অন্যদিকে, একথা বলারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, সাম্প্রতিককালে রাজনীতিতে যা ঘটছে তা ‘এন্ড গেইম’ নয়, পক্ষান্তরে তা হলো আরো বড় কোন খেলার প্রথম পর্ব বা ‘ওপেনিং গেইম’-এর সূচনা।
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবি
E-mail : selimcpb@yahoo.com