মালিকের রাজত্ব
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৪, ২২:০৮
পঞ্চম ওভারে বল করতে এসেই প্রথম দু’বলে দিয়ে দিলেন চার রান। সামনে ব্যাট করছেন হাশিম আমলা। এই অবস্থায় বিশ্বের কুতুব বোলাররাও খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন। সেই তুলনায় মালিক আহসান আহমেদ জামিল তো কিছুই না।
কিন্তু ২০ ওভারে মাত্র ১৪৫ রান তুলতেই যখন নয় উইকেট হারিয়ে ফেললো দক্ষিণ আফ্রিকা তখন সেই আহসান মালিকই হয়ে গেলেন নায়ক। প্রথম দুুই বলে ছয় রান দিয়ে ফেললেও বাকি সময়টা যে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরিয়েছেন এই মিডিয়াম পেসার। তৃতীয় বলেই তুলে নিয়েছিলেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা আমলার উইকেট।
২২ বলে ৪৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য দারুণ এক সূচনাই এনে দিয়েছিলেন আমলা। প্রথম পাঁচ ওভার শেষে দুই উইকেট হারালেও রান উঠে গিয়েছিল ৪৬। সেখান থেকে বাকি ১৫ ওভারে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা করলো কেবল ৯৯ রান।
এখানেও জড়িয়ে আছে আহসান মালিকের নাম। দ্বিতীয় ওভারটা করলেন ১৩ তম ওভারে গিয়ে। এবার ২ রান দিয়ে একটি উইকেট। এরপর আবার ডাক পড়লো স্লগ ওভারে গিয়ে। ১৭ ও ১৯ তম ওভারে গিয়ে পেলেন আরও তিনটি উইকেট।
এর মধ্যে দিয়েই টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট পেলেন এই পেসার। তার আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মাত্র নয় জন বোলার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ঘটনা ঘটেছে মাত্র তিনবার।
১৯ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট পাওয়ার মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগারের মালিক এখন আহসান মালিক। ২০১২ সালের বিশ্বকাপে হাম্বানটোটায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আট রানে ছয় উইকেট নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে আছেন লাসিথ মালিঙ্গা।
মালিকের অর্জন খাতাটা এখানেই থামছে না। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলে ১২ উইকেট নিয়ে তিনিই এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার। দাপুটে বোলিংয়ের শুরুটা করেছিলেন একদম প্রথম ম্যাচ থেকেই। সিলেটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ১৬ রান দিয়ে নিয়েছিলেন তিন উইকেট। কিন্তু বড় দলের বিপক্ষেই বড় ঝড়টা জমা ছিল।
এতো কিছুর পরও আহসান মালিকের সব চেষ্টাই দিন শেষে বৃথা হলো। বৃথা করে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার ইমরান তাহির। সাথে যুক্ত হলো ব্যাটসম্যানদের আত্মহত্যার মিছিল। এই দুয়ে মিলে জয় থেকে ছয় রান আগেই থেমে গেল নেদারল্যান্ডস।
ইতিহাস গড়াও হলো না এই যাত্রায়!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা বোলিং ফিগার
খেলোয়াড় দেশ ফিগার প্রতিপক্ষ সাল ভেন্যু
লাসিথ মালিঙ্গা শ্রীলঙ্কা ৪-২-৮-৬ জিম্বাবুয়ে ২০১২ হাম্বানটোটা
উমর গুল পাকিস্তান ৩-০-৬-৫ নিউজিল্যান্ড ২০০৯ ওভাল
আহসান মালিক নেদারল্যান্ড ৪-০-১৯-৫ দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১৪ চট্টগ্রাম
লাসিথ মালিঙ্গা শ্রীলঙ্কা ৪-০-৩১-৫ ইংল্যান্ড ২০১২ পালেকেল্লে
মার্ক গিলেস্পি নিউজিল্যান্ড ২.৫-০-৭-৪ কেনিয়া ২০০৭ ডারবান