আদালতের নির্দেশে নিবাসনের বদলি গাভাস্কার

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সেদেশের সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কারকে আইপিএল চলাকালীন দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। অপরদিকে বোর্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি শিবলাল যাদবকে দেয়া হয়েছে বিশ্বের সবচাইতে ধনী ক্রিকেট সংস্থাটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর দায়িত্ব। গাভাস্কার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) কেলেংকারির তদন্ত চলাকালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এন শ্রীনিবাসনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের একটি বেঞ্চ এর আগে শ্রীনিবাসনকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়ে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল। গতকাল সকালে দিল্লীতে আদালত এ ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করে। এই নির্দেশনায় বলা হয় গাভাস্কার বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) ‘অন্তর্বর্তীকালীন কার্যনির্বাহী সভাপতি’ হিসেবে আইপিএলের নতুন মৌসুমের দায়িত্বে থাকবেন। তিনি চাইলে এমনকি তার আস্থাভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে পারবেন এবং আইপিএলের সিওও সুন্দর রমনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এ ব্যাপারে বোর্ডের সম্পাদক সঞ্জয় প্যাটেল জানিয়েছেন তিনি এ ব্যাপারে গাভাস্কারের সাথে কথা বলবেন। বিশ্বের সবচাইতে ধনী ক্রিকেট আসর আইপিএলের চলতি আসরটি ১৬ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে। নিবাসন বিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আইপিএলের একটি দল চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) এরও মালিক। নিবাসন ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থা আইসিসির চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন ফেব্রুয়ারিতে। তার জুলাইয়ে দায়িত্বটি গ্রহণের কথা রয়েছে। আদালত অবশ্য গাভাষ্কারকে স্বার্থের সংঘাত হবে বলে ভারতীয় বোর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ টেলিভিশন ধারাভাষ্যকারের কাজটি বন্ধ রাখতে বলেছেন। তবে এ বাবদ তার আর্থিক ক্ষতি মেটাতে তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষিয়ে দিতেও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। আট দলের আইপিলের চলতি আসর থেকে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) এবং রাজস্থান রয়্যালসকে (আরআর) বহিষ্কারের ব্যাপারে আগের দিন মত দিয়েছিল আদালত। কিন্তু গতকাল আদালত জানায় দল দুটি অংশ নিতে পারবে। এ দুটি দলের বিরুদ্ধে ওঠা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগকে ঘিরেই বর্তমানে আইপিএল কেলেংকারির তদন্ত চলছে। আইপিএলে বাজি ধরার অভিযোগে মেয়ের জামাই গুরুনাথ মেইয়াপ্পন গ্রেফতার হওয়ায় শ্রীনিবাসন গত বছরের জুনেও একবার বিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে অবশ্য জামিনে মুক্ত হন মেইয়াপ্পন এবং শ্রীনিবাসনও ফিরে আসেন ভারতীয় বোর্ডে। উভয়েই অবশ্য আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।