আবারও বিজয়, আবারও মিশ্র!

প্রথম পর্ব থেকেই বাংলাদেশ বয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটিং ব্যর্থতার ভূত। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কিছুটা সীমিত পরিসরে আবারও সামনে চলে আসলো ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মিছিল। ১০৮, ৯৮ এর পর এবার ১৩৮। কিছুটা উন্নতি যে হয়েছে বাংলাদেশের, সেটা বলতেই হয়! ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আসুক বা না আসুক, একটা ব্যাপারে সবগুলো ইনিংসে মিলে একই সীমানায়। আসলে মিলিয়ে দেন এনামুল হক বিজয়। ধারাবাহিক ব্যাটিং বিপর্যয়ের সিরিজে এই ওপেনারই কিছু দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই। গতকাল ভারতের বিপক্ষেও করলেন ৪৪ রান। ৪৩ বলে আসা এই ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। আর এই ইনিংসের সুবাদে টুর্নামেন্টে দলের অবস্থা যাই হোক না কেন রান বিবেচনায় বিজয় চলে এসেছেন শীর্ষ রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে। পাঁচ ম্যাচে ৪১.৫০ গড়ে তিনি করেছেন ১৬৬ রান। তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন দুই ডাচ ব্যাটসম্যান - টম কুপার ও স্টিফেন মাইবার্গ। কুপার করেছেন ১৮৩ রান, আর মাইবার্গের রান ১৬৯। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জন্য বিজয় যেমন, ভারতীয় বোলিংয়ের জন্য ঠিক তেমনই হলেন অমিত মিশ্র। লেগ স্পিনার গতকালও নিয়েছেন তিনটি উইকেট। গতকাল বাংলাদেশের ইনিংসের দশম ওভারে প্রথম আক্রমণে আসলেন। প্রথম ওভারে পাঁচ রান দিলেও ছিলেন উইকেট শূন্য। ১৩ তম ওভারে আবার ফিরেই দেখালেন আসল জাদু। শেষ বলে তার গুগলিতে হতভম্ব এনামুল বোল্ড হয়ে ফিরলেন। ১৭ তম ওভারে নিজের তৃতীয় স্পেলে বল ঘুরাতে এসে ঠিক মন মতো হল না সব কিছু। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও নাসির হোসেনরা বের করে ফেললেন ১২ রান। ১৯ ওভার শেষে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেট ১৩১। বিপদ কাটিয়ে বাংলাদেশ তখন দেড়শ রান করার স্বপ্নে বিভোর। তখন মহেন্দ্র সিং ধোনি শেষ ওভার করার জন্য বেছে দিলেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার সবচেয়ে নির্ভর যোগ্য বোলারকে। অমিত মিশ্রও অধিনায়কের মান রাখলেন। প্রথম দুই বলে আউট করলেন নাসির হোসেন ও জিয়াউর রহমানকে। শেষ ওভার থেকে বাংলাদেশ পেল মাত্র সাত রান। বিশ্বকাপে গতকাল পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলা মিশ্র প্রতিটি ম্যাচেই ছিলেন সমান উজ্জ্বল। চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২ রান দুই উইকেট পেয়ে শুরু। তার সবচেয়ে রূদ্রমূর্তি দেখা গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। মাত্র ১৮ রান দিয়ে দুই উইকেট পাওয়ার সুবাদে হয়ে গেলেন ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল আগুনটা দেখলো বাংলাদেশ!