অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মাতলো উইন্ডিজ

বলটা আকাশে উড়িয়ে দিয়েই ব্যাট ছুঁড়ে ফেলে, হেলমেট খুলে স্যামি ছুট দিলেন। নন স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ড্যারেন ব্র্যাভোও ব্যাট ছুঁড়ে ফেলে দিলেন দৌড়। ওদিক থেকে বুনো উল্লাস করতে করতে ছুটে এসে ব্র্যাভো ও স্যামির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন গেইল। শুরু হয়ে গেল গ্যাংনাম ড্যান্স; শুরু হয়ে গেল চিরায়ত ক্যারিবিয় উত্সব। দেখে-শুনে মনে হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বুঝি টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে গেছে। মোটেও না। বিশ্বকাপ ফাইনাল তো দূরে থাক; সেমিফাইনালও নয়। গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ মাত্র। তারপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে ফেরা ক্যারিবিয়দের এমন উল্লাস। লড়াইয়ে ফেরার এই ম্যাচে, গতকাল সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টান টান উত্তেজনার ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭৯ রান তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন জাতীয় দলের হয়ে ফর্ম খরায় ভোগা ক্রিস গেইলই। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ফিফটি করেছিলেন এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে; গত বিশ্বকাপে। তারপর এই দু’ বছর এই ফরম্যাটে আর ফিফটি পাননি। আর বাংলাদেশের মাটিতে সেই ২০০২ সালের পর থেকে গত এক যুগে কোনো ফরম্যাটে, কারো বিপক্ষে ৫০ রানে পৌঁছাতে পারেননি ক্রিস গেইল! অবশেষে এই সব খরা ঘোচালেন কাল আধুনিক ক্রিকেটের ভয়ঙ্করতম এই ব্যাটসম্যান। আগের ম্যাচ ৪৮ রান করলেও সেটা ঠিক গেইলসুলভ ছিল না। কাল নিজের মতো এক ৫৩ রানের ইনিংস খেললেন গেইল। অবশ্য ক্যারিবিয়দের হয়ে বাজিমাত করলেন আসলে অধিনায়ক স্যামি ও ব্র্যাভো। শেষ ৪ ওভারে, মানে ২৪ বলে দরকার ছিল তাদের ৫৩ রান। ওখান থেকে স্যামুয়েলকে হারানোর পর শুরু হল স্যামি-ব্র্যাভো তাণ্ডব। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৩১ রান। ১৯তম ওভারে স্যামি একাই তুলে নিলেন ১৯ রান। তারপরও জয়ের জন্য শেষ ওভারে চাই ১২ রান। প্রথম ২ বলে রান হল না। এবার সমীকরণটা আরও ভয়াবহ—৪ বলে ১২ রান চাই। স্যামি সব হিসাব বন্ধ করে দিলেন পর পর দুই ছক্কা মেরে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটাই আসলে খুব ভালো হয়নি। দুই ওপেনার ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার ৩.৪ ওভারে ৩৩ রানের ঝড়ো সূচনা এনে দিলেও পর পর তিন ওভারে ফিরে যান তিন ‘দানব’—ফিঞ্চ, ওয়ার্নার ও ওয়াটসন। ৪১ রানে এই তিনজনকে হারানোর ধাক্কাটা অবশ্য ভালোই সামাল দেয়ার চেষ্টা করছিলেন ব্র্যাড হজ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অধুনা অস্ট্রেলিয়ান টপ অর্ডারকে আরও ত্রাসে পরিণত করা ম্যাক্সওয়েল গতকালও ২২ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজিয়ে ৪৫ রান করেন। আর হজ করেন ২৬ বলে ৩৫ রান। তারপরও অস্ট্রেলিয়ার রানটা যে ১৭৮ পর্যন্ত পৌঁছালো, সে কৃতিত্ব লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট ইনিংসগুলোর।