দুশ্চিন্তার নাম তিন নম্বর
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০১৪, ২১:৪৮
সারা শরীরে ব্যথা হলে এই এক সমস্যা—ওষুধ কোথায় দেবেন!
বাংলাদেশ দলটাকে এখন এরকম একটা ব্যথা-জর্জরিত শরীর বলে দাবি করলে কারো আপত্তি করার কথা নয়। টপ অর্ডার, মিডল অর্ডার, লেট মিডল অর্ডার, পেস বোলিং, স্পিন বোলিং; কোথাও এতোটুকু আশার কোনো বসতি নেই। এর মধ্যেও একটু যা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরেছেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়।
তারপরও দলের অধিনায়ক থেকে সিনিয়র খেলোয়াড়—দলের এই অবস্থা নিয়ে খুব নির্দিষ্ট করে বলতে গিয়ে টপ অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তার কথাই বলছেন; আরও ভালো করে বললে বলা যায় দুশ্চিন্তা তাদের তিন নম্বর ব্যাটসম্যান নিয়ে। গতকালও সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান যেমন বললেন, দলে দুনিয়া কাঁপানো কোনো ফিনিশার না থাকায় টপ অর্ডার থেকেই রানটা গড়ে তুলতে হবে। আর রোজ শুরুতেই টপ অর্ডারে একটা বিপর্যয়ের ফলে সেটা কিছুতেই হয়ে উঠছে না।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আগের দিনই সংবাদ সম্মেলনে ঠিক একই কথা বলে গিয়েছিলেন, ‘আমাদের দলে স্যামি বা ধোনির মতো কেউ নেই যে, টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও বড় ইনিংস গড়ে দিতে পারবে। ফলে আমাদের ওই চেনা কৌশলই কাজে লাগাতে হবে। টপ অর্ডার একটা ভালো বেস দেবে, সেটাকে আমরা কাজে লাগাবো পরের ব্যাটসম্যানরা।’
টপ অর্ডারে এই সমস্যাটা আরও ভালো করে বললে তিন নম্বর ব্যাটসম্যান নিয়ে। ওপেনিংয়ে এনামুল ভালো ফর্মে আছেন, তামিম গত তিন ম্যাচ রান না পেলেও বিশ্বকাপের শুরুতে ছন্দেই ছিলেন। সমস্যা হল তিন নম্বরে কেউই দলকে স্থিতিশীলতা দিতে পারছেন না। চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে বাংলাদেশ এই তিন নম্বরে ৪ জন ভিন্ন ভিন্ন ব্যাটসম্যানকে দিয়ে চেষ্টা করেছে—সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান রুম্মন, মুমিনুল হক ও সামসুর রহমান শুভ।
বাকি তিন জন সেভাবে কেউ রুখে দাঁড়াতে না পারলেও সাকিব শুরুতে এই পজেশনে সফলই ছিলেন। মজার ব্যাপার হল, গত বছর দুই ধরে এই পজেশনে সাকিবই খেলতেন। কিন্তু সাকিব ওপরে থাকায় আবার মিডল অর্ডার ফাঁকা হয়ে যায়। তাই সাকিবকে এক ধাপ পিছিয়ে আনা হয়েছে। এটা করতে গিয়ে আবার টপ অর্ডার ফাঁকা হয়ে গেছে। সেটাই গতকালও বললেন সাকিব, ‘আমি তো বেশকিছু দিন ধরে তিনেই ব্যাট করছিলাম। বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক-কোচ এসে বললো, এখন যখন মিডল অর্ডার সেভাবে রান পাচ্ছে না, আমি ও মুশফিক ভাই যদি চার-পাঁচে ব্যাট করি মিডল অর্ডার দৃঢ় হবে। নয়তো গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে দুই বছর ধরে আমি তিনেই ব্যাট করছিলাম। পরিকল্পনা সে কারণেই পরিবর্তন করা হয়েছিল। আরো দুটি ম্যাচ আছে, দেখা যাক যদি ঐ রকম কোনো পরিস্থিতি আসে আমি তো অবশ্যই প্রেফার করবো।’
এই ব্যাখ্যাটা আগের দিন দিয়েছিলেন মুশফিকও। সেই সঙ্গে তিনিই ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছিলেন, আগামী ম্যাচেই হয়তো আবার পুরোনো পরিকল্পনায় ফিরে যেতে পারে বাংলাদেশ, ‘আমি বা সাকিব কেউ একজন হয়তো তিন নম্বরে উঠে এই সমস্যার সমাধানের একটা চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু সেটা করিনি, কারণ মিডল অর্ডার তাহলে একদম ফাঁকা হয়ে যায়। তবে এ ছাড়া আর কোনো কিছুই করার দেখছি না। কোনো বুদ্ধিতেই যখন কাজ হচ্ছে না, আগামী ম্যাচে আমি বা সাকিব কেউ হয়তো তিন নম্বরে যাবো।’
কিন্তু সবকিছুর পরও বাস্তবতা হল, যেখানেই যে ব্যাটিং করুন, রানটা করতে হবে। সেই বাস্তবতাই গতকাল বারবার মনে করিয়ে দিলেন সাকিব ‘তিনে আর চারে গেলে পার্থক্য তো খুব বেশি না। আমি তিনে গেলে ১৫-১৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেতাম। এখনও তো তাই-ই পাচ্ছি। কিন্তু আমিই তো এই দু’ ম্যাচে রান পাচ্ছি না। রান করতে পারলে পজিশনটা ব্যাপার না।’ সব কথার শেষ কথা এটাই।