এর চেয়ে খারাপ আর কী হবে :মুশফিক

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকেই সেখানে এসে বসে থাকলেন পাকিস্তানী অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ ও আহমেদ শেহজাদ। মুশফিকের বাংলায় বলা কথা তারা যে বুঝতে পারলেন না, এটা অন্তত বোঝা গেল। তবে মুশফিক সংবাদ সম্মেলন শেষ করে চলে না গেলেই ভালো করতেন। কারণ, শেহজাদ ও হাফিজ ইংরেজিতেই খুব পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বললেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন কিছু ভাবতে পারা এবং করতে পারার গুরুত্ব কতোটা। মুশফিক হয়তো এই নতুন কিছুর গুরুত্ব বোঝেন। কিন্তু আসলে সেটা করার মতো অবস্থায় আর নেই। দলে বদল, ব্যাটিং অর্ডার ওলট-পালট, বোলিং অর্ডার বদলানো; এমন কোনো টোটকা নেই, যা তিনি চেষ্টা করছেন না। নতুন কিছু করার প্রশ্ন উঠতে নিজেই হতাশ হয়ে বললেন, ‘আর কী করার আছে! সবই তো চেষ্টা করে দেখলাম। এখন একটাই আশা করতে পারি যে, শেষ ম্যাচটা সবাই উপভোগ করতে নামবে, তাতে যদি ফল আসে।’ এই উপভোগের প্রশ্নে মুশফিক পরিষ্কার করেই স্বীকার করে নিলেন, তার খেলোয়াড়রা আসলেই উপভোগ করতে পারেননি টুর্নামেন্টটা। নিজেই মানলেন, সেটা করতে পারলে এমন হওয়ার কথা ছিল না, ‘আমরা উপভোগ করতে পারতাম। এতো কিছু না ভেবে এই বিশাল আয়োজন, চমত্কার পরিবেশ, এতো মানুষের সমর্থন এগুলো উপভোগ করে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারতাম। আমাদের ওপর খুব যে প্রত্যাশার চাপ ছিল তাও না। কিন্তু নানা কারণেই আমরা চাপ নিয়ে নিয়েছিলাম। সবাই আসলে খুব সিরিয়াস হয়ে গিয়েছিল।’ এই সিরিয়াসনেস যে কাটেনি, সেটা মুশফিকের শেষ দিকে এসে একটু উত্তেজিত হয়ে পড়াতেও বোঝা গেল। তামিম আউট অব ফর্মে থেকেও কেন একাদশে, এমন প্রশ্নের জবাবে একটু বেমানানভাবেই বলে উঠলেন, ‘বাদ তো দেওয়া যেতেই পারে। সবাই-ই জানে, বাদ পড়তে পারে। কিন্তু বাদ দেওয়াটাই তো কোনো সমাধান নয়। একটা সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফি তৈরি হতে দশ বছর সময় লাগবে। এক-দুই ইনিংস খারাপ করলেই তাদের বাদ দিয়ে দেবেন, তেমন নয় ব্যাপারটা।’ মৌলিক আলোচনা হিসেবে এই কথায় আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু এই কথা বলার কী এটাই সময়? মুশফিক অবশ্য কথা বলার সুসময় খুঁজে বের করতেও তো হিমশিম খাচ্ছেন। এই বছরটা শুরু হওয়ার পর থেকেই এই দুঃসময় যে সঙ্গী হয়েছে, আর পিছু ছাড়ছে না। মুশফিক অবশ্য দুঃসময়টাকে আরেকটু ছোট করে দেখতে চাইছেন। তিনি বলছেন, বাকি ম্যাচগুলোতে হারই হয়তো প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু আফগানিস্তান, হংকংয়ের বিপক্ষে হার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারের ধরন সব বদলে দিয়েছে, ‘সব ম্যাচ আমরা খুব খারাপ খেলেছি, তা আমি বলবো না। তবে এই তিনটি হারের ধরন আসলে আমাদের আত্মবিশ্বাসটা শেষ করে দিয়েছে। এর ফলে অনেক কথা হয়েছে। আমরাও বেশি সিরিয়াস হয়ে গেছি। সবমিলিয়ে স্বাভাবিক খেলাটা আর খেলতে পারিনি।’ সেই স্বাভাবিক খেলাটা খেললে গতকালও যে জয় আসতো, তা বলছেন না মুশফিক। তবে লড়াইটা যে করা যেত, সেটা অধিনায়ক বিশ্বাস করেন। সেই লড়াইটা করতে না পারার দায় দিচ্ছেন মূলত মুশফিক দুই পেসার মাশরাফি ও জিয়ার তিনটি ওভার এবং টপ অর্ডারের ব্যাটিংয়ের ওপর, ‘মাশরাফি ভাইয়ের দুটি ও জিয়া ভাইয়ের একটি ওভারে আসলে এতো রান বেরিয়ে গেছে, আর কিছু করা কঠিন ছিল। এরকম দু’তিনটে ওভারে এতো রান উঠে গেলে ব্যাটিং করা কঠিন। তারপরও হয়তো লড়াই করা যেত, কিন্তু আরও একবার টপ অর্ডার ফেল করেছে। ফলে আমরা সামান্য লড়াইটাও করতে পারিনি।’