ছিটকে গেলেন মাশরাফিও

মাশরাফি বিন মুর্তজা পারছেন না, বাংলাদেশও পারছে না। মাশরাফি খোড়াচ্ছে, বাংলাদেশও খোড়াচ্ছে। মাশরাফির টুর্নামেন্ট শেষ, বাংলাদেশের তো অনেক আগেই টুর্নামেন্ট শেষ! একটু বৃহত্তর দৃষ্টিতে দেখলে মাশরাফি বিন মুর্তজা হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই প্রতীক। মাঝে মাঝে আশার আলো তৈরি হবে, মাঝে মাঝে কিছু সাফল্য আসবে, বেশিরভাগ সময় ভরে থাকবে আফসোস এবং শেষ পর্যন্ত আরও একবার বেদনার গাঁথা গাইতে হবে। এর প্রতিটি ব্যাপার মাশরাফির জন্য যেমন সত্যি; সত্যি তেমনই বাংলাদেশ দলের জন্যও। আরও একবার বাংলাদেশ সেই সত্যির মুখোমুখি হচ্ছে আজ। বুকে ব্যথা আর পায়ের গন্ডা গন্ডা অস্ত্রপচারের ধাক্কা নিয়েই ধুঁকে ধুঁকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ প্রান্তে চলে এসেছিলেন মাশরাফি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের সবচেয়ে খারাপ বোলিং করার দিনে, শেষ ওভারে এসে পায়ে যে ব্যথা পেয়েছিলেন, তাতে দল থেকেই ছিটকে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। ব্যাপারটা আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষ বলে এখনও বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেল, গতকালই হোটেল ছেড়ে বাসায় চলে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। তার বদলে দলে ঢোকার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে একেবারে তরুণ পেসার তাসকিনকে। ঘটনাচক্রে আজ এই বিশাল টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই তাসকিনের জাতীয় দল অভিষেকও হয়ে যেতে পারে। মাশরাফির সমস্যা তো আসলে আজকের নয়। সেই অভিষেকের পরপরই নিউজিল্যান্ড সফর থেকে শুরু হয়েছিল ইনজুরির পালা। এরপর ইনজুরি কতোবার দল থেকে ছিটকে দিয়েছে, তারও লেখাঝোকা নেই। দুই হাঁটুতে সাতটা অপারেশন হয়ে যাওয়া মাশরাফির সর্বশেষ সমস্যা ছিল গোড়ালিতে। তারপর আবার হাঁটুর ফুলে ওঠা নিয়ে ভুগছিলেন। ফলে ইদানিং তাকে প্রতি ম্যাচের আগেই অসহনীয় যন্ত্রণার এক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তবে সর্বশেষ সমস্যা এসবের কোনোটাই নয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বুকের হাড়ে ব্যথা পেয়েছিলেন। সে ব্যথা শুরুতে খুব না ভোগালেও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বেড়ে যায়। পরে চট্টগ্রামেরই একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করে দেখা যায়, পাঁজরে কোনো চিড় নেই। পরে ঢাকাতে এনে পরীক্ষা করেও মাশরাফির পাঁজরে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। সে সমস্যা না থাকলেও জানা গেল, তার ফুসফুসে পানি জমেছে! সে জন্য ব্যথা। আর এই ব্যথা নিয়েই ৫ ম্যাচ খেলে ফেললেন। অবশেষে আবার সেই পায়েই ব্যথা পেলেন। দুর্ভোগ আর পিছু ছাড়ে না! মাশরাফির এই আরও এক দফা দুর্ভোগে অবিশ্বাস্য এক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে গেছেন তাসকিন। বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যত্ বলা হচ্ছে এই মাত্রই কৈশোর হওয়া বোলারকে। এখনও তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো পর্যায়ে পরীক্ষিত না হলেও তাকে ম্যানেজমেন্ট অনেকদিন ধরেই প্রস্তুত রাখে। এবার সম্ভবত কাজেই নেমে পড়তে হচ্ছে তাসকিনকে। তবে এর কোনো বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্ট সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে পারে না। তারা বিষয়টা পাঠিয়ে দিয়েছে আইসিসির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ টেকনিক্যাল কমিটি বরাবর। জিওফ অ্যালারডিসের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে, মাশরাফির বদলি বাংলাদেশ পাবে কি না। এই কমিটিতে আরও আছেন বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম, বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন, আইডিআই প্রতিনিধি ক্যাম্পবেল জেমিসন এবং দুই স্বতন্ত্র প্রতিনিধি রাসেল আরনল্ড ও পুমেলেলো মুবাংওয়া।