উপমহাদেশীয় কোচই নেয়া উচিত বাংলাদেশের : সৌরভ গাঙ্গুলি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৪, ২২:২৩
ভারতের অধিনায়কত্ব করতে গিয়ে দেড়শো কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপে মহেন্দ্র সিং ধোনি নাকি চুল-দাড়ি পাকিয়ে ফেলেছেন! একই চাপ সহ্য করে আসা সৌরভ গাঙ্গুলি সামনের দিকের কিছু চুল হারিয়ে ফেলবেন, এতে আর বিস্ময়ের কী? না, সৌরভ কোথাও দাবি করেননি যে, অধিনায়কত্ব করতে গিয়ে চুল পড়ে গেছে তার। তবে গতকাল হাজির হয়েছিলেন এই চুলপড়াসহ বিভিন্ন কসমেটিকস সার্জারি বিষয়ে এক প্রচারণায়। যদিও ব্যাপারটা নিতান্ত সৌন্দর্য বিষয়ক বিজ্ঞাপনী প্রচারণা, কিন্তু সৌরভ গাঙ্গুলি যেখানে হাজির, ক্রিকেট তো আর সেখানে হাজির না থেকে পারে না। বরং এসব সৌন্দর্যের ব্যাপার ছাপিয়ে সৌরভের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়েই বেশী কথাবার্তা হল। সেই কথাবার্তায় সৌরভ ভারতের ক্রিকেট থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ক্রিকেট; অনেক কিছু নিয়েই কথা বললেন।
সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণভাবে বললেন, বাংলাদেশের এখন উপমহাদেশের কোচেই মন দেয়া উচিত। নিজেই প্রস্তাব পেলে দায়িত্বটা নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যেতে চাইলেন। তবে বোঝা গেল, রঞ্জি দল বাংলার সঙ্গে যুক্ত হতে যাওয়া সৌরভের বাংলাদেশ নিয়েও আগ্রহ নিতান্ত কম নয়। সৌরভের এই উন্মুক্ত কথোপকথনে ছিলেন ইত্তেফাকের দেবব্রত মুখোপাধ্যায়—
আজকের দিনে খেলোয়াড়দের তো শুধু খেললে চলছে না। বিজ্ঞাপন-টন নানা ব্যাপারে চেহারাটা ঠিক রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে। এই চেহারা সচেতনতাটা কিভাবে দেখেন আপনি?
চেহারা সচেতনতা ব্যাপারটা নিয়ে আমি খুব ভাবিত নই। এটা সৃষ্টিকর্তার ব্যাপার; তিনি যেভাবে পাঠান, সেটাই ভালো। তবে হ্যাঁ, ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে অনেক কাজ তো করতেই হয়। সেটা দিনকে দিন বাড়ছে। খাবার সচেতনতা, প্রচুর জিম করা; এগুলো করতে হয়। ভালো দেখানোটা নয়, ভালো ফিট থাকা জরুরী।
একটু বাংলাদেশের খেলা প্রসঙ্গে আসি। আপনি তো সবসময়ই বাংলাদেশের খেলা খুব খেয়াল করেন। হতাশ বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেখে?
অবশ্যই বাংলাদেশের খেলার একধরনের অবনতি হয়েছে। অন্তত গত কয়েক বছর বাংলাদেশ শর্টার ফরম্যাটে যেরকম উন্নতি করছিল, সে তুলনায় এই পারফরম্যান্স হতাশাজনক। তাদের সেরা খেলোয়াড়রা পারফরম করতে পারছে না। যেমন আমি তামিম ইকবালের কথা বলবো। যে তামিমকে আমি ইংল্যান্ডে টানা দুটো সেঞ্চুরি করতে দেখেছি বা ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ সব ইনিংস খেলতে দেখেছি; তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তামিমের মতো বাংলাদেশের অনেকেই নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলছে না।
অনেকেই সমস্যা হিসেবে অধিনায়কের দিকে আঙুল তুলছেন। আপনি একজন সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কিভাবে দেখছেন ব্যাপারটা?
মুশফিক নিজে অবশ্যই খুব ভালো পারফরমার। অধিনায়কত্ব নিয়ে ঠিক কী বলবো! তবে এটা ঠিক যে, সে একটা ভালো অধিনায়কত্ব করেও ম্যাচ জেতাতে পারবে না। ম্যাচ জিততে দলের সবাইকে পারফরম করতে হবে।
বাংলাদেশের এবং বাইরের অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের কোচিং স্ট্যাফে বদল আনা জরুরী। আবার অনেকে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন, উপমহাদেশের কোচ নেয়া উচিত। এমনকি আপনার নামও আসছে আলোচনায়। আপনি কী প্রস্তাব পেলে বিবেচনা করবেন?
আমি আগে প্রস্তাব তো পাই! এসব নিয়ে এতো আগে কথা না বলাই ভালো। তবে এটা ঠিক যে, আমি বাংলাদেশের জন্য উপমহাদেশের কোচের পক্ষে। আমাদের মানসিকতাটা উপমহাদেশের কোচরা ভালো ধরতে পারবেন। একই সঙ্গে যে কোচ স্পিন বোলিং নিয়ে এবং ব্যাটসম্যানদের স্পিন খেলা নিয়ে ভালো কাজ করতে পারবে, তাকে সুযোগ দেয়ার পক্ষে আমি। বাংলাদেশের শক্তি হল তার তরুণ ও অভিজ্ঞ স্পিনাররা। সেটাকে ঠিকঠাকমতো কাজে লাগানোটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন কেমন লাগছে?
বাংলাদেশ এই প্রথম বড় ইভেন্ট করছে না। সেই ১৯৯৮ সালে তারা মিনি বিশ্বকাপ করেছিল। আমার সেটা প্রথম বড় টুর্নামেন্ট ছিল। সেই সময়ই বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে ভালো আয়োজন করেছিল। এরপর তো ২০১১ বিশ্বকাপ করেছে। ফলে তাদের অভিজ্ঞতা আরও বেড়েছে। সবমিলিয়ে এবারের আয়োজনটা সত্যিই অসাধারণ। আমি বাংলার ছেলে বলে বলছি না, বাংলাদেশের যে আতিথেয়তা বোধ, এটা আপনি খুব বেশী পাবেন না। সেটাই ফুটে উঠছে এবারের আয়োজনে।
মাঠের খেলা কেমন উপভোগ করছেন?
খুবই উপভোগ করছি। টিম ইন্ডিয়া খুব ভালো করায় আরও ভালো লাগছে। এই ভারতীয় টিমটা আসলে অনেক অনেক শক্তিশালী একটা দল। ধোনি যেভাবে দল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, দেখতেও ভালো লাগে।