সেরা বিনোদন দিলো যারা
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৫
‘অসাধারণভাবে শেষ হল বাংলাদেশে কাটানো কয়েকটি সপ্তাহ। রোজ-রোজ তো আর এমন সুযোগ আসবে না’—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এভাবেই জয়ের অভিব্যক্তি জানালের নেদারল্যান্ডস দলের টম কুপার।
ডাচ কুপারকে ছাড়িয়ে এভাবেও বলা যেতে পারে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অপর নাম যদি হয় বিনোদন তাহলে চলমান বিশ্বকাপের পর নিসন্দেহে সেই বিনোদনের রং হবে ‘কমলা’!
কমলা উত্সবের সূচনা হয়েছিল প্রথম পর্ব থেকেই। গ্রুপে ছিল টেস্ট খেলুড়ে দেশ জিম্বাবুয়ে। সহযোগী দেশ হলেও আয়ারল্যান্ডও ছিল লড়াইয়ে এগিয়ে। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ এলোমেলো হয়ে গেল কেবল একটি ম্যাচে। আয়ারল্যান্ডকে তুলোধুনো করার পাশাপাশি রান-রেট দেখলো বৃদ্ধাঙ্গুলি। ফলাফল হঠাত্ করেই সুপার টেনে ঠাঁই হয়ে গেল নেদারল্যান্ডসের। নেদারল্যান্ডের স্বপ্ন যাত্রাটা এখানেই শেষ বলে ধরে নেয়া যায়। অন্তত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে ৩৯ রানে অল আউট হবার পর মাথা তুলে দাঁড়ানোটা বড় বড় দলগুলোর জন্যও কষ্টকর। কিন্তু নেদারল্যান্ডস তো এসেছেই সব হিসাব নিকাশ ওলট-পালট করে দিতে!
দ্বিতীয় ম্যাচেই সেটা প্রায় হয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৪৫ রানের জবাবে মাত্র ছয় রান আগে যখন থামলো নেদারল্যান্ডস তখনও বাকি ছয়টি বল। ব্যাটসম্যানদের অনভিজ্ঞতা আর ইমরান তাহিরের আক্রমণ মিলিয়ে পেরে উঠলো না পিটার বোরেনের দল। পরের ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ব্যাট হাতে ডাচদের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। কিন্তু ব্ল্যাক ক্যাপদের অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম একাই বের করে নিলেন ম্যাচ। টানা তৃতীয় পরাজয়। তাহলে কি কোন জয় ছাড়াই সুপার টেন পর্বের সমাপ্তি করবে কমলা জার্সিধারীরা? শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড তখন তাদের ছোট করে দেখার সুযোগ যে আরো কম। ২০০৯ সালের বিশ্বকাপে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে লড়াই করতে হয়েছিল শেষ বল পর্যন্ত।
এবার আর শেষ বল পর্যন্ত লড়াই গড়ালো না। ডাচদের ১৩৩ রানের জবাবে মাত্র ৮৮ রানেই অল আউট ইংল্যান্ড। ৪৫ রানের সহজ এক জয়। সিলেটের পর চট্টগ্রামের দেখা মিললো কমলা উত্সবের। মাথা উঁচু করেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল পিটার বোরেন, স্টিফেন মাইবার্গ, টম কুপার, আহসান মালিক, মুদাসসর বুখারীরা। শেষ ম্যাচের পর টুইটারে ওয়েসলি ব্যারেসি যা বললেন ঠিক তাই করে গিয়েছে নেদারল্যান্ডস — ‘কি একটা বিশ্বকাপই না কাটলো। আমরা এসেছি, দেখেছি, লড়াই করেছি। শিখেছি কিভাবে নিজেদের প্রাপ্যটা লড়াই করে আদায় করে নিতে হয়। ক্রিকেট ইউ বিউটি!’ আমরা বরং বলি, নেদারল্যান্ডস ইউ বিউটি!