মোহামেডানের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ আজ

মোহামেডান গত মৌসুমে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠতে না পারলেও এবার মধুমতি ব্যাংক স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের শেষ চারে উঠেছে দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি। ক্যামেরুনের ফুটবলার বাইবেকের একমাত্র গোলে মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে এই কৃতিত্ব দেখায়। আবাহনী ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের মধ্যকার আজকের শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে জানা যাবে সেমিফাইনালে মোহামেডানের প্রতিপক্ষ হবে কোন দল। সেমিফাইনালে মোহামেডানের পছন্দ কারা জানতে চাইলে দলের পর্তুগীজ কোচ রুই ক্যাপেলা এবং অধিনায়ক এমিলি মুখে কুলুপ আটেন। তারা বলতেই চান না আবাহনী না শেখ জামালকে পেলে ভালো। এমিলির কাছে জানতে চাওয়া হলো স্ট্রাইকার হিসাবে কোন দলের ডিফেন্ডারদের মোকাবেলা করা সহজ। সেটাও এড়িয়ে যান মোহামেডান অধিনায়ক। তবে কোচ দুই দলকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মনে করছেন। এমিলিও যে কোনো দলকে মোকাবেলা করতে চান। মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে মোহামেডান খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসটা বেড়েছে। আরামবাগের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের গ্রুপ ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতলেও মোহামেডানের খেলায় ধার ছিল না। এখন খেলার ধারটা অনেক বেশি। এমিলি তার কারণটা ব্যাখ্যা করলেন এভাবে-‘আমরা দেড় মাস অনুশীলন করে ম্যাচ খেলিনি। এখন ম্যাচ খেলছি বলে খেলাটাও দিনে দিনে ভালো হচ্ছে। আগামীতে আরো ভালো হবে।’ শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধাকে চাপে রেখেও গোল আদায় করতে সময় লেগেছে মোহামেডানের। গোল হয়েছে প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে। জাহিদের সুন্দর ফ্রি কিক থেকে ডিফেন্ডার বাইবেক লাফিয়ে উঠে দারুণ হেড নিলে তা মুক্তিযোদ্ধার জালে জড়ায় ১-০। দ্বিতীয়ার্ধে জাহিদকে তুলে নেয় কোচ। ওয়াহেদ ছিল উইংয়ে। কিন্তু তিনি ছিলেন না থাকার মতো। মোহামেডানের আক্রমণভাগ হয়ে পড়ে অনেকটাই নিষ্প্র্রভ। মুক্তিযোদ্ধা ম্যাচের প্রথমার্ধে বাজে খেললেও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক ধরে নিয়ে ছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে গোলটা শোধ করে দেবেন। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা মুক্তিযোদ্ধা ভালো খেলে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মোহামেডানের রক্ষণভাগ ছিল সজাগ। গোল দেয়া তো দূরের কথা। গোল খাবে না এমন পণ করে মুক্তিযোদ্ধাকে থামানোর চেষ্টা করে সাদাকালোরা। মোহামেডানের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সানডে, এলিটা কাল আরো শানিত খেলাটা খেলতে পারেননি। না হলে সুযোগ যে কটি এসেছিল তাতে ম্যাচ ঘুরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল। ম্যাচের শেষ ভাগে বক্সের ভেতরে দুইবার মোহামেডানের ফুটবলারদের হাতে বল লেগে হ্যান্ডবল হয়েছিল। কিন্তু রেফারি জসিম উদ্দিন এড়িয়ে গেলেন। তাতেই চটেছেন কোচ মানিক। ফুটবল অঙ্গনে মানিক অমায়িক এবং ভদ্র হিসাবে পরিচিত। তাই খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে রেফারি সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে পারলেন না, শুধু বললেন,‘রেফারিরা এভাবে বাঁশি বাজালে খেলোয়াড়রা ভালো খেলার উত্সাহ হারিয়ে ফেলবে। পরিশ্রম করার আগ্রহ থাকবে না। আমি দুইবার পেনাল্টি পেয়েছি। মোহামেডানের বক্সের ভেতরে হ্যান্ডবল হলো। অথচ রেফারি বল বসিয়ে ফ্রি কিক দিলেন। আমাকে বঞ্চিত করলেন।’ মানিকের শেষ কথা হচ্ছে ‘রেফারি আমাদের খেলাটা কেড়ে নিয়েছে।’ আজ শেষ কোয়ার্টার ফাইনাল আবাহনী ঃ শেখ জামাল (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, বিকাল ৫টা)