সেই মিরপুরে অন্য ডু প্লেসিস
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২২
২৫ মার্চ, ২০১১। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিপদে কাণ্ডারীর ভূমিকায় ফ্রান্সিসকো ডু প্লেসিস। ৪৩তম ওভারে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হয়ে ফিরলেন, তখন আশার ছিটোফোঁটাও নেই।
থাকবে কি করে? লক্ষ্য থেকে যে তখনও ৪৯ রান দূরে! সেই ম্যাচ দিয়েই শেষ হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার আরেকটি ব্যর্থতার বিশ্বকাপ। ক’দিন আগেই বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইট ওয়াশ হওয়া নিউজিল্যান্ডের সামনে দাঁঁড়াতেই পারলো না চোকাররা। দু’বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ। হোক ফরম্যাটটার নাম টি-টোয়েন্টি। সেমিফাইনালের লড়াই। কাকতালীয়ভাবে এবারও ভেন্যু সেই মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
এবার আরো বড় দায়িত্ব ডু প্লেসিসের কাঁধে। দলের অধিনায়ক বলে কথা। টস ভাগ্যটা এবার হাসলো দক্ষিণ আফ্রিকানদের হয়েই। বদলালো না শুধু ডু প্লেসিসের দায়িত্ব। প্রথম ওভারেই ফিরে গেলেন ওপেনার কুয়েন্টন ডি কক। সেখান থেকে শুরু করলেন আরেক ওপেনার হাশিম আমলাকে সাথে নিয়ে।
এরপর প্রথম ছয় ওভারে যে ঝড় তুলেছেন, বলা যাবে না। ষষ্ঠ ওভারে হাশিম আমলা (১৬ বলে ২২) ফিরে যান রবীচন্দ্রন অশ্বিনের বলে বোল্ড হয়ে। সেই ওভার থেকে আসে মাত্র এক রান। তারপরও ছয় ওভারে নেয়া চল্লিশ রানই হয়ে গেল ভারতের বিপক্ষে এই টুনামেন্টে পাওয়ার প্লেতে যেকোন দলের করা সর্বোচ্চ রান। এরপর কিছুটা সময় চললো ধীরগতির ব্যাটিং। রান রেট আস্তে আস্তে কমতে শুরু করলো। আসল ঝড়টা শুরু হল ১২তম ওভারে গিয়ে। সুরেশ রায়নার করা সেই ওভারে আসলো ১৬ রান। পরের ওভারে সতেরো। ১৪তম ওভারে গিয়ে ডু প্লেসিস যখন আউট হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ১১৫। বড় স্কোর করার সব রকম রসদ প্রস্তুত।
এর মাঝে নিজের নামের পাশেও বড় একটা অঙ্ক যোগ করা হয়ে গেছে ডু প্লেসিসের। স্লো-ওভার রেটের ঝামেলায় শেষ ম্যাচ খেলতে না পারা এই খেলোয়াড় গতকাল ৪১ বলে করলেন ৫৮ রান। ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা।
বড় স্কোর গড়ার বাকি কাজটা করে ফেলেন জেপি ডুমিনি ও ডেভিড মিলার। এবি ডি ভিলিয়ার্স মাত্র ১০ রান করে বিদায় নিলে জুটি বাঁধেন এই দুজন। শেষ ২৭ বলে এদের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান। আর তাতেই হয়ে গেল ১৭২ রানের লড়াকু স্কোর। গোটা টুর্নামেন্টের আলোচিত বোলার অমিত মিশ্র গতকাল ছিলেন নিষ্প্রভ। তিন ওভার বল করে দেন ৩৬ রান। তবে একই রকম উজ্জ্বল ছিলেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন। চার ওভারে ২২ রান দিয়ে পেয়েছেন তিনটি উইকেট। তবে ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি কি ভেবে সুরেশ রায়নাকে দিয়ে চারটা ওভার বল করালেন সেটার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া গেল না!