আবার ফাইনালে ইংল্যান্ড
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২২
ইংলিশ ক্রিকেটে ছেলেদের থেকে মেয়েরা কয়েক ধাপ এগোনো। সে ফ মুখের কথা নয়, পরিসংখ্যানই দিচ্ছে এর প্রমাণ। ১৯৭৩ সালে মেয়েদের প্রথম বিশ্বকাপ আসরের শিরোপা জিতেছিল মেয়েরা। এরপর ১৯৯৩ ও সর্বশেষ ২০০৯ সালের শিরোপাও জিতেছিল মেয়েরা।
টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের হার আরও বেশি। কার্যত মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার পরই সবচেয়ে সফল দল ইংল্যান্ড। প্রথম বিশ্বকাপটি জেতার পাশাপাশি সর্বশেষ টুর্নামেন্টেও এক ফাইনালিস্ট ছিল তারা। এই সাফল্যের ধারা ধরে রেখে গতকাল টানা দ্বিতীয় ফাইনালে চলে গেল ইংলিশরা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নয় উইকেটের সহজ জয় নিয়ে পৌঁছে গেল ফাইনালের মঞ্চে। আগামীকাল ফাইনালে তাদের চেনা প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।
১০২ রানের টার্গেট কখনওই টি-টোয়েন্টিতে কোন বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে এই টার্গেট দাঁড় করিয়ে জয়ের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে দরকার শুরুতেই একাধিক উইকেট। কিন্তু অধিনায়ক শার্লট এডওয়ার্ডস আর সারাহ টেলরের উদ্বোধনী জুটিতে ৬৭ রান এসে যাবার পর দক্ষিণ আফ্রিকানদের জয়ের সুযোগ আর কই। শার্লট ৩৬ রানে আউট হয়ে গেলেও জয় চলে আসে অনায়াসেই। ১৯ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ইংলিশ মেয়েরা।
সেমিফাইনালে দারুণ পারফরম করা ইংলিশদের চোখ এবার ফাইনালের দিকে, ‘খুবই ভাল লাগছে। সেমিফাইনালে আসতে আমাদের অনেক ভাল খেলতে হয়েছে। কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় এসে দ্রুতই দলের সাথে মানিয়ে নিয়েছে। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া মোটেই সহজ হবে না আমাদের জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বিপক্ষে আমরা ভালই খেলেছি। এখন শুধু ফাইনালের জন্য অপেক্ষা করছি।’
সেমিফাইনালে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া ইংল্যান্ডের জন্য দারুণ সূচনা এনে দেন বোলাররা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে অ্যানা শার্বসোল। চার ওভার বল করে মাত্র ১২ রান দিয়ে দুই উইকেট নেয়ার কল্যাণেই ম্যাচ চলে আসে ইংল্যান্ডের হাতের মুঠোয়। দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে এই পেসারের হাতে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘বল কিছুটা সুইং পাচ্ছিল। দলের সবাই একসাথে হয়ে খেলেছে। সারাহ আর শার্লটের ব্যাটিংটা দারুণ ছিল।’
শার্বসোলের চেয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে আসে ব্যাটারদের আউট। একই ইনিংসে মোট পাঁচটি রান আউট দেখা গেল মিরপুরে। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে অল আউট হবার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা করে মাত্র ১০১।
সর্বোচ্চ ৪০ রান আসে চ্লে টায়রনের ব্যাট থেকে। এছাড়া মিগনন ডু প্রিজের ২৩ রানের ইনিংস বাদ দিলে আর কোন ব্যাটারই দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শার্বসোল ছাড়াও ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট নেন বেকি গ্রান্ডি।