পানির হিস্যা আদায়ে চাই জাতিসংঘ সনদে অনুস্বাক্ষর

পরিবেশবাদীদের তাগিদ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ‘জাতিসংঘ নদীধারা সনদ, ১৯৯৭’ বাংলাদেশের জন্য একটি রক্ষাকবচ হতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ সনদে অনুস্বাক্ষর করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তাগিদ দিয়েছেন তারা। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাওর অঞ্চলবাসীসহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠনের এক মানববন্ধনে এ তাগিদ দেয়া হয়। বক্তারা বলেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবেশ করে। অভিন্ন এসব নদীর পানির সুষ্ঠু বণ্টনের একমাত্র পথ হল ‘জাতিসংঘ নদীধারা সনদ, ১৯৯৭’। গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলো থেকে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে এ সনদ রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করতে পারে বলেও মত দেন পরিবেশবাদীরা। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের অভিন্ন নদী সংক্রান্ত এ সনদটি ১৯৯৭ সাল থেকে কার্যকর হলেও সব সরকার এ সনদে অনুস্বাক্ষরে নজিরবিহীন গড়িমসি করছে। পানি বণ্টন সংক্রান্ত আলোচনায় ভারত একাধিকবার বাংলাদেশের ওপর তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চাইছে। ফলে, পানি বণ্টন আলোচনা আর ন্যায্য থাকেনি। ভারতের একতরফা এই ‘পানি নির্যাতন’ থেকে বাঁচতে আলোচনায় তৃতীয় পক্ষের অন্তর্ভুক্তি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহূত হতে পারে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অভিন্ন সিন্ধু নদের পানি বণ্টন চুক্তিতে বিশ্বব্যাংক তৃতীয় পক্ষের ভূমিকায় রয়েছে। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বণ্টনের আলোচনায় বাংলাদেশের দাবি সত্ত্বেও কোনো তৃতীয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি মূলত ভারতের বিরোধিতার কারণে। আর এর ফল বাংলাদেশের জন্য কখনো ভালো হয়নি। বক্তারা তাদের আলোচনায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলোর অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ফারাক্কার মরণ ছোবলে পদ্মা এখন মৃত্যুমুখী। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোও সংকটাপন্ন। গঙ্গা চুক্তির ফলেও বাংলাদেশ পানি পাচ্ছে না। ব্রহ্মপুত্র ও সুরমা-কুশিয়ারার ওপর ঝুলছে ভারতীয় আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ও টিপাইমুখ বাঁধ। তিস্তা অববাহিকায় ভারতের অর্ধশতাধিক ড্যাম ও পানি প্রত্যাহার প্রকল্পের কারণে এ নদী থেকে বাংলাদেশে আসা ৮০ শতাংশ পানিই আটকে যাচ্ছে বলে বক্তারা দাবি করেন। মানববন্ধনে হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকার আহ্বায়ক শাসুদ্দোহা শোয়েবের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হালিম দাদ খান, হাসনাত কায়ূম, তুরাগ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন রনি, শীতলক্ষ্যা বাঁচাও আন্দোলনের জহিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।