রানা প্লাজার ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণে সমন্বয়হীনতা

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার এক বছর পার হলেও যথাযথ ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় দুর্ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগেরই জীবন কাটছে আর্থিক কষ্টে। ক্ষতিপূরণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়হীনতা এ জন্য দায়ী। রবিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে রানা প্লাজা নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এমন অভিমত দেন। গবেষক, সরকারি প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা শ্রমিক ও এনজিও প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি পরবর্তী এক বছরে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড পরিচালিত একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। জরিপে বলা হয়, রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ৬৮ শতাংশ দৈনন্দিন জীবনের ব্যয়ের যোগান দিচ্ছেন অতি কষ্টে। এরমধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ কোনভাবেই এই ব্যয় মেটাতে পারছেন না। এ সময় বক্তারা রানা প্লাজা পরবর্তী এক বছরেও ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ শ্রমিক যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া হতাশা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ তহবিলের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। আবার সমন্বয়হীনতার কারণে কেউ একাধিকবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, অনেকে একবারও পাননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হয়নি। আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিভাস রেড্ডি বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর এদেশের পোশাক কারখানার ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়কে পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদী হওয়া প্রয়োজন। যাতে আরো নিরাপদ কর্মসংস্থান হয় এ খাতে। তিনি বলেন, ওই দুর্ঘটনার পর অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি এসেছে। ত্রুটি চিহ্নিত করে কারখানার সংস্কার চলছে। এসবের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। আইন ও শালিস কেন্দ্রের চেয়ারপার্সন ড. হামিদা হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে কে কত টাকা দিয়েছেন, কত টাকা ব্যয় হয়েছে সেসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত্। এই তহবিলে ১২৭ কোটি টাকা জমা পড়েছে। এরমধ্যে মাত্র ২২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। সব অর্থের স্বচ্ছতা থাকা দরকার। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে তা ছিল বিক্ষিপ্ত। এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়হীতা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা রোধ এবং স্থায়ী পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদী কাঠামো প্রয়োজন। তিনি বলেন, এখনো অনেক অজ্ঞাত এবং নিখোঁজ রয়েছে। তারা শনাক্ত না হলে কিংবা ক্ষতিপূরণের বাইরে থেকে গেলে সেটা হবে বড় অমানবিক। বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম রানা প্লাজা পরবর্তীতে মালিকপক্ষের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য শিরিন আখতার বলেন, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এবং শিশুসহ তাদের পোষ্যদের পুনর্বাসনে একটি ঐক্যবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদর জন্য স্থায়ী সমাধান হিসেবে আইন করা প্রয়োজনের কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর, শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সহকারি নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দীন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।