অ জা না র স ন্ধা নে

পরণে ভারী বুট আর কাউবয় জিন্স, গলায় রঙ্গীন মাফলার, কাঁধে অভিযাত্রীদের ব্যাগ, মুখে চে গুয়েভারার মতো ফিনফিনে দাড়ি, সারা শরীরে কাঁদা আর পানি। পাহাড়ি রাস্তায় চলার উপযোগী ইয়া বড় মোটরসাইকেলে করে এই বিচিত্রবেশে তিনি ছুটে চলেছেন গহীন আমাজনের চরাই-উতরাই রাস্তা ধরে। এই বর্ণনাটা বিশ্বের নামকরা কোনো অভিযাত্রীর হলে মেনে নেয়া কঠিন ছিল না। কিন্তু এই ছুটে চলা মানুষটি ব্রেয়ার গ্রেইল বা এরকম কেউ নন—ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় সাবেক ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যাম! কিন্তু কথা হল, এই বিচিত্রবেশে, বন্ধুর পরিবেশে কী করছেন বেকহ্যাম? কিসের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন সাবেক এই ডেড বল মাস্টার! অজানার সন্ধানে। হ্যাঁ, অজানার সন্ধানে ডেভিড বেকহ্যাম ঘুরে বেড়িয়েছেন আমাজনের গহীন জঙ্গলের বিভিন্ন বসতিতে। একেবারে ইচ্ছে করে ঘুরে বেড়িয়েছেন, তা নয়। পুরো ব্যাপারটা ছিল বিবিসি’র একটু ডকুমেন্টরি শুটিংয়ের আয়োজন। এই ডকুমেন্টরির থিমটা ছিল এরকম যে—ডেভিড বেকহ্যাম তিন সঙ্গীকে নিয়ে আমাজনের গহীন থেকে গহীন বসতিগুলোতে ঢুকতে থাকবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ছুটবেন, যতক্ষণ এমন একটি গ্রাম খুঁজে না পাওয়া যায়, যেখানে বেকহ্যামকে কেউ চেনে না! মূল অভিযানটার পেছনের একটা উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের এই অংশটার সঙ্গে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের পরিচিত করে তোলা। কিছু ইংলিশ মিডিয়া আমাজনকে যেভাবে জংলি অধ্যুষিত এলাকা বলে চেনাচ্ছে, সেটা যে সত্যি নয়; তাই ফুটে উঠেছে এই ডকুমেন্টরিতে। আমাজনেরই মানাউস শহরেই ইতালির বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচটা খেলবে ইংল্যান্ড। এখানে খেলা নিয়ে ইংলিশদের নাক উঁচু ভাব দেখে ইতিমধ্যে আমাজনের একটি গোত্রপ্রধান রয় হজসনের দলকে তার গ্রামে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন—আপনারা বেড়াতে আসুন, দেখে যান আমরা কেমন জীবন-যাপন করি। সেই দেখাটাই এবার বেকহ্যামের সঙ্গী হয়ে দেখতে পারবেন ইংলিশরা। এই অভিযানের শুটিং শেষ করে স্টুডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছিলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি আমাজনের প্রকৃতিতে যে মুগ্ধ সেটা বোঝাতে কোনো কসুর রাখেননি। পাশাপাশি হলুদ ব্যাঙ, লিকলিকে সাপ দেখে ভয় পাওয়া কিংবা নৌকা ফুটো হয়ে যাওয়ার মতো রোমাঞ্চকর গল্প শুনিয়েছেন। বলেছেন, এই অভিযানটা কেন ভয়ানক চ্যালেঞ্জিং ছিল তার জন্য, ‘গত ২২ বছর ধরে আমার জীবনটা ছিল একেবারেই ছকে বাঁধা। কখন কি করবো, আগেই ঠিক করা। রিওতে গিয়ে সব বদলে গেল। সকাল বেলায় উঠে বললাম, চলো, যেখানে রাত হবে থামবো। এ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’ সেই সঙ্গে আমাজন নিয়ে কুসংস্কারের বিপক্ষেও এই ডকুমেন্টরি যে কাজ করবে তাতে সন্দেহ নেই। কারণ, বেকহ্যামের নাম শোনেননি এমন অধিবাসীদের খুঁজে পেতে এই দলকে ১২ দিন ধরে ৮০০ মাইল ছুটতে হয়েছে। রয় হজসন বরং এখন বেকহ্যামকে ক্যাম্পে ডেকে নিতে পারেন। ফুটবলভীতি কাটুক আর নাই কাটুক, আমাজনভীতি তো কাটবে!