বিদ্রোহী হটানোর অভিযানে ইরাকি সরকারি বাহিনী

রাজধানী বাগদাদের দিকে অগ্রসরমান সুন্নি বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাকের সরকারি বাহিনী। আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট আইএসআইএল জঙ্গিদের দমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার আশ্বাসের একদিন পর সেনা অভিযানের ঘোষণা দিল ইরাক সরকার। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিমান হামলা চালানোর অনুরোধ করলেও তাতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং বিদ্রোহী দমাতে তিনশ’ সামরিক পরামর্শক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এদিকে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা প্রধানমন্ত্রী মালিকিকে সরিয়ে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে নতুন সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় মালিকির ভিত আরো দুর্বল হলো। নির্বাচনে শিয়ারা অধিকাংশ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে দেশটির শিয়া-সুন্নি ও কুর্দিদের মধ্যে শুরু হওয়া দখলদারির লড়াইয়ের কারণে পার্লামেন্টের নতুন পর্ষদ এখনো বসতে পারেনি। শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী ও সরকার গঠন করার যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। বহুজাতিক সেনা অভিযানে সাবেক স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ২০০৬ সালে ক্ষমতায় আসেন নুরি আল মালিকি। তবে দেশটির সুন্নি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করে তাদের সঙ্গে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য মালিকির ওপরে বিরক্ত তার মিত্র ওয়াশিংটন। এছাড়া আরেক শিয়া রাষ্ট্র ইরানও মালিকির ওপর আস্থাবান নয় বলে গুঞ্জন রয়েছে। উত্তর ইরাক থেকে বাগদাদের দিকে অগ্রসরমান আইএসআইএল বিদ্রোহীরা সামারা এলাকায় সম্মুখযুদ্ধ করছে। বাগদাদ থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে সামারার অবস্থান।