জাতীয় ঐক্য সরকার গড়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান মালিকির

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকি দেশে সুন্নি বিদ্রোহী তত্পরতা সামাল দিতে সহায়ক প্রচেষ্টা হিসাবে জাতীয় ঐক্যের সরকার গড়ার যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ধরনের আহ্বান সংবিধানের বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক চর্চার ইতি টানার চেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ বলে সতর্ক করেছেন তিনি। ইরাকে সব ধর্ম এবং জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে গঠিত একটি প্রশাসনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মালিকিকে জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ মাসে সুন্নি বিদ্রোহীদের দখল করা দেশের বিশাল একটি অংশ পুনর্দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকারি বাহিনী। সুন্নিদের বিরুদ্ধে বুধবার থেকে কাজে নামানো হয়েছে ১শ’রও বেশি মার্কিন সেনা। ওদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও ইরাক সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য ব্রাসেলসে ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। অন্যদিকে, মালিকি তার সাপ্তাহিক টিভি ভাষণে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মুখে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকারে সুন্নি আরব সমপ্রদায় থেকে আরো বেশি প্রতিনিধিত্ব রাখার ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি এ শিয়া প্রধানমন্ত্রী। সব ধর্ম ও জাতিগত গোষ্ঠীর সমন্বয়ে একটি জরুরি প্রশাসন গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে মালিকি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরাকে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনী ফলের বিরুদ্ধে যাবে। যে নির্বাচনে জিতেছে তার ব্লক। মালিকি বলেন, “জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের পথে আগানোর বিপদ গোপনীয় কোনো ব্যাপার নয়। যারা নতুন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে সংবিধানের বিরুদ্ধে এবং ভোটারদের ভোট চুরি করতে উঠে-পড়ে লেগেছে, তারাই এ চেষ্টা চালাচ্ছে”। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত সোমবার ইরাক সফরকালে দেশটি ইতিহাসে খুবই গুরুতর সময় পার করছে বলে সতর্ক করেন এবং সুন্নি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে ইরাকের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। আর একইসঙ্গে ইরাকের নেতারা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে তাতেও অনেক কাজ হবে বলে জানান তিনি।