স্মরণ
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৪, ২১:২৫
বোমা হামলায় সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু নিহত হওয়ার পর দেখতে দেখতে চলে গেল দশটি বছর। আজ তার একাদশ মৃত্যুদিবস। খুলনার দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক হুমায়ূন কবীর বালু ১৯৪৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর নড়াইল জেলার লোহাগড়ার ইতনা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম ইমান উদ্দিন সরদার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক ছিলেন। পৈতৃক ঠিকানা গোপালগঞ্জ জেলার বড়ফা গ্রাম। তবে তিন পুরুষের বসবাস খুলনা মহানগরীতে। বঞ্চিত খুলনার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে হুমায়ূন কবীর বালু অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৬ সালে হুমায়ূন কবীর বালুর মাত্র ১০ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয় হয়। শেখ মুজিবুর রহমান সেবার যুক্তফ্রন্টের প্রাদেশিক পরিষদের বাণিজ্য, ভিলেজ এইড এবং দুর্নীতি দমন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় হুমায়ূন কবীরের গ্রামে আসেন। তার সাথে ছিলেন মরহুম মোল্লা জালাল, শামসুর রহমান মানি, জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও দক্ষিণবঙ্গ আঞ্চলিক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার ইমাম। তারা ঐ গ্রামেরই কৃতী সন্তান।
১৯৬২ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। হুমায়ূন কবীর বালু ১৯৬৫ সালে বি.কে স্কুল ছাত্রলীগ ইউনিটের সভাপতি মনোনীত হন। ১৯৬৬ সালে খুলনা বি.কে ইউনিয়ন ইন্সটিটিউট থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ঐ বছরেই আযম খান বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং কমার্স কলেজ ইউনিটের ছাত্রলীগ সভাপতি মনোনীত হন ও ছাত্র সংসদের কমন রুম সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ছয় দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং তথাকথিত আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে আযম খান কমার্স কলেজ থেকে ছাত্র রাজনীতি করার অভিযোগে বহিষ্কার হন। ঐ বছরেই সাপ্তাহিক পূর্বাঞ্চলে কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসাবে যোগদান করেন, খুলনা শহর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং খুলনা সিটি কলেজে অধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা আন্দোলনকালে পরিষদের খুলনা শাখার সদস্য মনোনীত হন। ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ঐ বছরই খুলনা সিটি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন তিনি। ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে কাজ করেন। এ সময় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত হন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে খুলনা সিটি কলেজ থেকে বি.এ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৬ সালে খুলনা নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ঐ বছরেই খুলনা আইন মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৭৭ সালে সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালে সাপ্তাহিক থেকে জন্মভূমি দৈনিক হয়। ১৯৮৪ সালে খুলনা প্রেসক্লাবের প্রথম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। ১৯৮৫ সালে খুলনা আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে খুলনা মিডটাউন রোটারী ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ঐ বছর বাংলাদেশের কাউন্সিল অব-এডিটরস-এর সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে খুলনা আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে পুনরায় কাউন্সিল অব এডিটরস-এর সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে পুনরায় খুলনা প্রেসক্লাবের কমিটির সদস্য মনোনীত হন এবং বালাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সংস্থার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০০১ সালে তিনি পুনরায় বাসস পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন। ২০০৩ সালে পুনর্বার খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি থাকাকালীন ২০০৪ সালের ২৭ জুন আততায়ীর বোমা হামলায় শহীদ হন। মৃত্যুকালে তিনি বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। হুমায়ূন কবীর বালু ১৯৯২ সালে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সাংবাদিকতায় ২৫ বত্সর নিয়োজিত থাকায় প্রেসক্লাব প্রদত্ত পদক পান। ১৯৯৩ সালে সাংবাদিকতায় সুজলা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ও ১৯৯৪ সালে ডাঃ আশরাফ সিদ্দিকী ফাউন্ডেশনের স্বর্ণ পদক পান তিনি। আমরা আজ মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীরভাবে স্মরণ করি সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালুকে।
লেখক :সাংবাদিক