ইরাকের আকাশে মার্কিন সশস্ত্র ড্রোন নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আহ্বান সিসতানির

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপদেষ্টাদের রক্ষার জন্য ইরাকের আকাশে উড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত চালকবিহীন মার্কিন ড্রোন। শুক্রবার ইরাকি কর্মকর্তারা এ খবর জানিয়েছেন। এদিকে ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ আলি সিসতানি দেশটির রাজনৈতিক সঙ্কট দূর করতে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য ইরাকি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইরাকের সুন্নি বিদ্রোহী জঙ্গিরা ইতিমধ্যে দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে। জঙ্গিদের এ জয়যাত্রা প্রতিরোধের চেষ্টারত ইরাকি সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে তাদের সঙ্গে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ঐ সামরিক উপদেষ্টারা। উপদেষ্টাদের রক্ষার জন্য পাঠানো ড্রোনগুলো গোয়েন্দা মিশনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিমানগুলোর নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখছে। গোয়েন্দা বিমানগুলোর মধ্যে ড্রোন ছাড়াও মানুষচালিত বিমানও রয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি রিয়ার অ্যাডমিরাল জন কিরবি বলেছেন, “ইরাকের অনুরোধে আমরা দেশটির আকাশে মানুষচালিত ও চালকবিহীন ড্রোন উভয় ধরনের বিমান পাঠানো অব্যাহত রেখেছি। এসব বিমানের কয়েকটি অস্ত্রসজ্জিত। সেখানে আমাদের উপদেষ্টারা থাকায় তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হলে ব্যবহার করার জন্য এসব বিমান পাঠানো হয়েছে।” অস্ত্রসজ্জিত ড্রোনগুলো প্রিডেটর শ্রেণীর এবং এগুলো হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। বৃহস্পতিবার থেকে এসব ড্রোন ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আকাশে টহল দেয়া শুরু করেছে বলে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে বাগদাদে ৯০ জন সামরিক উপদেষ্টা সমন্বিত ইরাক-যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ অভিযান কেন্দ্র খোলা হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে ইরাকে লক্ষ্য নির্ধারণ করে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি সিসতানি আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টের অধিবেশন এবং সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মঙ্গলবার নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর আগে রাজনৈতিক ব্লকগুলোর উচিত পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একমত হওয়া”। ইরাকে একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গড়ার জন্য দেশের ভিতরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে এখনো চুক্তিতে পৌঁছতে পারেনি।