[ আ ন্ত র্জা তি ক ]
ব্রিটেনে ‘ইসলামিক বন্ড’
প্রবর্তন প্রসঙ্গে
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৪, ২১:২৭
ব্রিটেনের বিখ্যাত বাম বুদ্ধিজীবী জ্যাক ওয়াডিস একবার বলেছিলেন, “বিশ্ব পুঁজিবাদ ধ্বংস হওয়ার আগে দু’টি ব্যবসায়ের উপর নির্ভরশীল হবে। একটি অস্ত্র ব্যবসা এবং অন্যটি ধর্ম ব্যবসা। পুঁজিবাদ এমন একটি নিষ্ঠুর ব্যবস্থা যে, সে বেঁচে থাকার জন্য একদিকে মানবতা-বিরোধী মারণাস্ত্র তৈরি করবে এবং বিশ্বময় যুদ্ধ ছড়াবে এবং অন্যদিকে ধর্মগুলোকে তার মূল ভিত্তি মানবতার আদর্শ থেকে সরিয়ে নিয়ে রাজনীতির ধারালো হাতিয়ার করে তুলবে।” জ্যাক ওয়াডিসের এই তত্ত্বটি নিয়ে তখন পুঁজিবাদের সমর্থক মহল থেকে কেউ কেউ বিতর্ক তুলেছিলেন। তারা বলেছিলেন, পুঁজিবাদ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হবে, কিন্তু ধ্বংস হবে না। কারণ পুঁজিবাদের চাইতে উন্নত ব্যবস্থা হিসেবে সমাজতন্ত্র নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। সেও মানবতার আদর্শচ্যুত হয়ে স্বেচ্ছাতন্ত্র, একনায়কতন্ত্রের জালে বন্দী হয়ে নিজের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
পণ্ডিতদের এই যুক্তি তর্কের কোনিট সঠিক এবং কোনিট সঠিক নয়, সেই বিতর্কে না জড়িয়েও জ্যাক ওয়াডিসের একটি প্রেডিকশন যে সঠিক হয়েছে তা বিনা দ্বিধায় বলা যায়। এই প্রেডিকশনটি হলো বিশ্ব পুঁজিবাদ চরম সঙ্কটের মুখে পড়লে অস্ত্র ব্যবসা ও ধর্ম ব্যবসায়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। কথাটি যে কতো বড় সত্য, তা বিশ্ব পুঁজিবাদের নেতা বর্তমান আমেরিকার দিকে তাকালেও বোঝা যাবে। মার্কিন অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র ব্যবসায়ের উপর নির্ভরশীল। আর এই অস্ত্র ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য দেশে দেশে কখনো গণতন্ত্র রক্ষা, কখনো কম্যুনিজম ঠেকানো এবং কখনো সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের নামে এই যুদ্ধ তারা বিশ্বময় ছড়িয়ে রেখেছে। কোথাও শান্তি স্থাপিত হতে দিচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে শান্তির জন্য নোবেল প্রাইজ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন নিজ দেশে যুদ্ধবাদী সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের চাইতেও অধিক জনধিকৃত প্রেসিডেন্ট।
ধর্মকে তার মানবতার ভিত্তি থেকে সরিয়ে এনে পুঁজিবাদের রক্ষাকবচ করার জন্য তাকে সহিংস রাজনীতির আবরণে ঢেকেছে পশ্চিমা পুঁজিবাদই। তাদের হাতেই খ্রিস্টান কু ক্লাক্সক্লান, উগ্র হিন্দুত্ববাদ এবং জঙ্গি জেহাদিস্ট বা পলিটিকাল ইসলামের জন্ম। বিশ্বে পুঁজিবাদ এবং পুঁজিবাদী আধিপত্য রক্ষা করার জন্য ধর্মের খোলসে এসব উগ্রপন্থার জন্ম দিয়ে, তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তারপর এই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন বধের জন্যই পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোকে আবার যুদ্ধে নামতে দেখা যায়। কোথাও তারা নিজেদের তাঁবেদারদের দ্বারা যুদ্ধ চালায়। যেখানে তাঁবেদারেরা ব্যর্থ হয় সেখানে নিজেরা যুদ্ধে নামে।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর যখন মানবাধিকার রক্ষা ও বিশ্বকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে আটলান্টিক চার্টার প্রণীত ও ঘোষিত হয়, তখন আশা করা গিয়েছিল বিশ্বে হয়তো আর বড় রকমের শান্তি লঙ্ঘিত হবে না। মানবতা বিপন্ন হবে না। এই একই আশা দেখা দিয়েছিল পরবর্তীকালে দু’টি পরাশক্তির একটি সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়নের পতন এবং দুই পরাশক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর। কিন্তু মানুষের এই আশাও পূর্ণ হয়নি। আমেরিকা এখন শুধু বিশ্বের একক পরাশক্তি নয়, বিশ্ব পুঁজিবাদেরও নেতা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই। তবু দেখা গেল বিশ্ব পুঁজিবাদের মুক্ত অর্থনীতি টিকছে না। তার একক আধিপত্যবাদী অতি লোভের ফলে সঙ্কটের পর সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে সেই সঙ্কট বিশ্বমন্দায় পরিণত হয়েছে। বিশ্ব পুঁজিবাদ এই মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। এই মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্যই যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ এবং তার বাজার সম্প্রসারণের জন্য যুদ্ধ প্রয়োজন। আর এই যুদ্ধ-বিস্তারের প্রয়োজনে সমাজতন্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে কোনো উগ্রপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি করা এবং তার বিরুদ্ধে মানবতা রক্ষার নামে যুদ্ধে নামা এবং দুনিয়ার অধিকাংশ দেশকে যুদ্ধে নামানো। ফলে আমেরিকা, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশের স্বার্থে ও সমর্থনে যে ইসলামী জিহাদিস্টদের জন্ম, এখন এই জিহাদিস্টদের বিরুদ্ধেই পশ্চিমা দেশগুলো সর্বত্র যুদ্ধ ছড়াচ্ছে এবং যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসায়ের মুনাফার পাহাড় গড়ছে।
প্যালেস্টাইন সমস্যা, কাশ্মীর সমস্যা, ইরাক-ইরান যুদ্ধ, সাম্প্রতিক ইরাক ও আফগান যুদ্ধ প্রভৃতি থেকে পশ্চিমা যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসায়ীরা কি বিরাট মুনাফা লুটেছে তার একটি হিসাব সম্প্রতি বের হয়েছে একটি সুইডিস পত্রিকায় এবং পত্রিকাটি মন্তব্য করেছে, এই যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসা হচ্ছে বিশ্ব মানবতার সঙ্গে সবচাইতে বড় শত্রুতা। এই যুদ্ধাস্ত্র ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটই এখন হোয়াইট হাউসে কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ঢুকবেন তা নির্ধারণ করে। মার্কিন গণতন্ত্র এখন মারণাস্ত্র তৈরিকারক বিগ বিজনেসের হাতে বন্দী। বহু বছর আগে মানবতাবাদী নেতা এম.এন. রায় একটি ছোট পুস্তিকা লিখেছিলেন, তার নাম ছিল Who Rule in America (আমেরিকা শাসন করে কাহারা?) বইটিতে তিনি দেখিয়েছিলেন, আমেরিকা শাসন করে জনগণের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নয়, শাসন করে ওয়ালস্ট্রিটের বিজনেস সিন্ডিকেট এবং কর্পোরেট বডির ডিরেক্টরেরা। হোয়াইট হাউস তাদের আজ্ঞাবহ।
মানবেন্দ্রনাথ রায় বইটি লিখেছিলেন বহু আগে। এখন তিনি বেঁচে থাকলে দেখতেন, ওয়ালস্ট্রিটকে নিয়ন্ত্রণ করে যে বিগ বিজনেস সিন্ডিকেট, তাদের অধিকাংশই এখন মারণাস্ত্র তৈরির বড় বড় ব্যবসায়ী। বিশ্বের তেল গ্যাস লুণ্ঠনের বড় বড় কোম্পানির মালিক। হোয়াইট হাউস তাদের প্রতিনিধিত্ব করে মাত্র। এজন্যেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ জুনিয়রের আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী ডকট্রিন “নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের” পরিবর্তন ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে ঢুকেছিলেন, তার এডমিনিস্ট্রেশনের আমলেই আমেরিকার শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ “ইরাকে আর যুদ্ধ চাই না” বলে প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভ মিছিলে সামিল; কিন্তু ওবামা এই গণদাবি উপেক্ষা করে ইরাকে নতুন করে সৈন্য পাঠানোর ও যুদ্ধে নামার নির্দেশে সই দিচ্ছেন। বোঝাই যায় ওবামা কাদের নির্দেশে চালিত হচ্ছেন।
আমরা গণতন্ত্র, গণতন্ত্র বলে চিত্কার করি। কিন্তু গণতন্ত্র নামক রাজকন্যা যে বহুকাল আগে থেকে পুঁজিবাদী রাক্ষসপুরীতে বন্দিনী এবং তার ভূমিকা ধনবাদের ক্রীতদাসীয়, এই সত্যটা পশ্চিমা মিডিয়া ও সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবীরা লুকাতে পারেন; কিন্তু আমাদের দেশের ন্যায় গরিব দেশের গরিবের বন্ধু হওয়ার দাবিদার রেহমান সোবহানদের মতো জাঁদরেল অর্থনীতিবিদেরা কি করে তা লুকান এবং গণতন্ত্র ও নির্বাচনের নামে নিত্যনিয়ত কুম্ভিরাশ্রু বিসর্জন করেন?
তারা কি জানেন না, বাংলাদেশে ক্ষমতা দখলের জন্য ওত পেতে বসে আছে বিশ্ব পুঁজিবাদের নেতা মারণাস্ত্র ব্যবসায়ী এবং ধর্ম ব্যবসায়ীদের অনুচরেরা? তাদের সন্ত্রাস সৃষ্টিতেও অর্থ ও অস্ত্র আসে বিদেশ থেকে। এবং এই সন্ত্রাস উপেক্ষা করে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেন তাদের পাশে দাঁড়ায়? ড. ইউনূস কি গরিবের ব্যাংকার, না বিশ্বপুঁজিবাদের এজেন্ট? তিনি এই এজেন্ট না হলে তার সেমিনারে গরিবের প্রতিনিধিরা না এসে আমেরিকা ইউরোপের ধনী দেশগুলো এবং তাদের কূটনীতিকেরা এসে ভিড় জমান কেন? বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ ব্যাংক কি একটি বিশ্বসমস্যা? বাংলাদেশে গত ৫ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচন যে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হলো সে দোষ কি হাসিনা সরকারের, না বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচন-বিরোধী চক্রান্তের? রেহমান সোবহানেরা কানা হরিণের ভূমিকায় নেমেছেন কেন?
সঙ্কটগ্রস্ত বিশ্বপুঁজিবাদের শেষ নির্ভর যে অস্ত্র ব্যবসা ও ধর্ম ব্যবসা সে কথা আগেই লিখেছি জ্যাক ওয়াডিসের মন্তব্য উদ্ধৃত করে। এই সঙ্কট কতো গভীর তার প্রমাণ পাওয়া যায় পুঁজিবাদী বড় দেশগুলোর অনুসৃত পরস্পর-বিরোধী ভূমিকায়। একদিকে তারা তথাকথিত ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছেন, অন্যদিকে নিজ দেশেই এই জঙ্গিবাদের অনুকূল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাগুলোতে সাহায্য জোগাচ্ছেন। অর্থাত্ পুঁজিবাদ এখন আত্মরক্ষার জন্য পরস্পর বিরোধী যেকোনো পন্থা গ্রহণে দ্বিধাহীন।
তার একটা বড় প্রমাণ, যে ব্রিটেন ইরাকে আফগানিস্তানে আমেরিকায় ইসলামী জঙ্গি বিরোধী যুদ্ধে সহযোগী, সেই ব্রিটেনের কনজারভেটিভ সরকার মুসলিম দেশগুলোর বাইরে নিজ দেশে এই প্রথম ইসলামিক বন্ড নামে একটি বন্ড প্রবর্তন করেছে। গত ২৫ জুন এই বন্ডটি বাজারে ছাড়া হয়েছে। ইসলামিক বন্ড ছাড়ার প্রথম দিনেই ২শ’ মিলিয়ন পাউন্ডের বন্ড বিক্রি হয়েছে। এই বন্ডের আরবী নাম দেয়া হয়েছে সুকুক। ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী বলেছেন “সার্বভৌম ইসলামিক বন্ড বা সুকুক ছাড়ার মাধ্যমে সরকার ব্রিটেনকে ইসলামী অর্থনীতির হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে গেলেন।”
ব্রিটিশ সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামিক বন্ডের লেনদেন করার জন্য অনেকগুলো ব্যাংককে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ইসলামী অর্থনীতির আল-ইজারা নীতির অনুসরণ করে এই বন্ড ব্যবসা পরিচালিত হবে। আমরা যারা বাংলাদেশে হাসিনা সরকার কর্তৃক ইসলামী ব্যাংক থেকে অনুদান গ্রহণ এবং ইসলামী ব্যাংক ও ইন্সিওরেন্স কোম্পানি ইত্যাদি প্রতিপক্ষপাতিত্ব দেখানো সম্পর্কে অভিযোগ তুলি, তারা ব্রিটেনের মতো উন্নত ও আধুনিক দেশে ধর্মীয় অর্থনীতি অনুসরণ ও ধর্মীয় রাজনীতিকে প্রশ্রয় দানকে কী চোখে দেখবো তা সহসা ভেবে পাই না। ইসলামের নাম যোগ করা হলেই কি কোনো ব্যবসা বা অর্থনীতি ধর্মীয় ব্যবস্থা হয়ে ওঠে? না, বর্তমানে ধর্মের নাম ব্যবহূত একশ্রেণির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জিহাদিস্ট ও জঙ্গিদের অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে? অন্তত বাংলাদেশে এই ধর্মীয় নামের আবরণে জামায়াত ব্যবসা-বাণিজ্যের যে বিরাট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, তার বিরাট মুনাফার হিসাব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত। ব্রিটেনের সেকুলার সরকার কি করে দেশটিতে ধমীয় অর্থনীতির হাব প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় নামে অর্থনৈতিক বন্ড চালু করতে পারেন তা আমাদের ক্ষুদ্র বুদ্ধির অগম্য।
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ব্রিটেনের টোরি সরকার নিজ দেশে ইসলামিক বন্ড চালু করে কি মুসলিম ভোটারদের মন ভোলাতে পারবেন, না ইসলামের মান মর্যাদা বাড়াতে পারবেন? নাকি ইসলামের নাম ভাঙিয়ে যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পত্তন করা হবে তা ইসলামী জঙ্গিদের শক্তি জোগাতেই ব্যবহূত হবে? এ বিষয়টাও কি ব্রিটিশ সরকার ভেবে দেখেছেন?
ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, প্রতি বছর ব্রিটেনে রমজান মাসে বিভিন্ন মুসলিম চ্যারিটি সংগঠনের উদ্যোগে বাংলা টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও এতিমখানায় সাহায্যদানের নামে যে বিপুল চাঁদা তোলা হয়, তার বেশিরভাগই চলে যায় ইসলামী জঙ্গি সংগঠনগুলোর হাতে। ব্রিটেনের অনেক মুসলিম চ্যারিটি সংগঠনই জামায়াত ও অন্য উগ্রপন্থিদের দ্বারা চালিত। তারা ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য চাঁদা তোলে। ব্রিটিশ সরকার এই সকল অভিযোগের বিরুদ্ধে যখন তদন্ত চালাচ্ছেন, তখন কি জন্য হঠাত্ ইসলামিক বন্ড চালু করা ও ইসলামি অর্থনীতির হাব তৈরির উদ্যোগ নিলেন তা বোঝা মুশকিল।
ব্রিটিশ এসটাবলিসমেন্টের মৌলবাদী তোষণ নীতি ইতিমধ্যেই পূর্ব লন্ডনে জামায়াত প্রভাবিত একটি আধা তালেবানি এনক্লেভ প্রতিষ্ঠা করেছে। ব্রিটিশ সরকারের টাকায় প্রতিষ্ঠিত বহু স্কুলকে মাদ্রাসায় পরিণত করার একটা সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ধরা পড়ার পর ব্রাডফোর্ড ও বার্মিংহামে এখন বহু স্কুল সম্পর্কে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং গভর্নিং বডি বাতিল করেছেন। পূর্ব লন্ডনের অনেক স্কুল সম্পর্কেও জোর তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় ইসলামী অর্থনীতি ও ইসলামিক বন্ড প্রবর্তনে টোরি সরকারের আগ্রহ ও উত্সাহ বিস্ময়কর। একদিকে ব্রিটেনে এখন চলছে ইসলাম-ফোবিয়া প্রচার, যার শিকার হয়ে এক সউদি তরুণীকে সম্প্রতি খুন হতে হয়েছে। অন্যদিকে চলছে ইসলামের নাম ব্যবহার করে ব্রিটেনের পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আত্মরক্ষার ব্যবস্থা। ধনবাদ সঙ্কটে পড়লে কতোটা বেসামাল হতে পারে, এটা তার লক্ষণ।
ব্রিটেনে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য দরকার বর্তমান ইসলাম-ফোবিয়া থেকে তাদের রক্ষা করার ব্যবস্থা করা। তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির পরিকল্পনা গ্রহণ। বর্ণ ও ধর্ম বৈষম্যের কবল থেকে তাদের মুক্ত রাখা এবং ব্রিটিশ জনজীবনে ও সামাজিক ব্যবস্থায় তাদের ইকোয়াল অপরচুনিটি নিশ্চিত করা। ইমিগ্রেসনের ড্রাকুলা আইন থেকে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। ব্রিটেনের নাগরিক হিসেবে তারা যাতে সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করে তার নিশ্চয়তা বিধান। স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মকর্ম পালনের অধিকার থাকা।
এই ব্যবস্থার বদলে কেবল মুসলিম ভোটের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে ইসলামের ছাপমারা ব্রিটেনে ইসলাম ও মুসলমানদের উন্নতির সহায়ক হবে না। তবে জ্যাক ওয়াডিসের একথাটাই সঠিক, ধনতন্ত্র ধ্বংস হওয়ার মুখোমুখি হলে অস্ত্র ব্যবসায়ের মতো ধর্ম ব্যবসাকেও আঁকড়ে ধরতে পারে। তখন গণতন্ত্র ও সেকুলারিজমের কোনো দাম তাদের কাছে আর থাকে না।
লন্ডন, ২৮ জুন, শনিবার, ২০১৪