প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

প্রশ্ন ফাঁস রোধে চাই সঠিক আইনের প্রয়োগ ও জন সচেতনতা বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ফাঁস আমাদের দেশের একটি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন কোন পাবলিক পরীক্ষা নেই যেখানে প্রশ্ন ফাঁসের মত ঘটনা ঘটে না। এতে বাদ যায় না দেশের প্রাইমারী লেভেলের শিক্ষাথীঁরাও । শুধু বোর্ড পরীক্ষায় নয় বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষাসহ সব নিয়োগ পরীক্ষায় এখন প্রশ্ন ফাঁসের মত ঘটনা ঘটছে। প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধের জন্য চাই জনসচেতনতা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ। দেশের সরকার ও প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এবং প্রশ্ন ফাঁস এর সাথে যারা জড়িত আছে অবিলম্বে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মো. তারিকুল ইসলাম শিক্ষার্থী , ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর। প্রশ্ন সংরক্ষণে প্রয়োজন ব্যাপক গোপনীয়তা প্রশ্নপত্র ফাঁস শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। এটি এমন একটি বিষয় যার কারণে প্রকৃত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিযোগিতায় ফাঁসকৃত প্রশ্নপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে পিছিয়ে পড়ে। ফাঁসকৃত প্রশ্ন অর্থের বিনিময়ে পেয়ে তা থেকেই অনেকে কম কষ্টে ভাল নম্বর পাচ্ছে। এটি কোনভাবেই কাম্য নয় । এটি প্রতিকার করতে হলে শিক্ষা প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ফাঁসকৃত প্রশ্ন না নেয়ার প্রবণতা থাকতে হবে। প্রশ্ন সংরক্ষণে ব্যাপক গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। ফাঁসকৃত প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে কখনও প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয় । তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে শিক্ষা প্রশাসনের অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। খন্দকার আরাফাত আহমেদ ডিগ্রী প্রাইভেট (বিএস এস ২য় বর্ষ) সরকারি বাঙলা কলেজ। হতাশা থেকে মুক্তি চাই অনেক ভালো ভালো ছাত্র-ছাত্রী আছে যে তারা চাকরি পায় না এটার কারণ হচ্ছে পড়াশুনা না করে কিছু লোক পরীক্ষার কিছুদিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পাস করে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় এতে করে ভালো ছাত্রের কপালে চাকরি জুটে না এবং ভালো ফলাফল করতে পারছে না পরে হতাশ হয়ে পড়ে। এতে করে পড়াশুনার প্রতি অনীহা চলে আসে। তবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয় যে, শিক্ষামন্ত্রী এর বিরুদ্ধে যদি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে এটা প্রতিকার করা সম্ভব বলে মনে হয়। এবং কেউ যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিতে পারে তাকে উপযুক্ত উপহার দেয়া হবে এ কার্যকরটা চালু করলে আমার মনে হয় না যে এ ধরনের অপকর্মতে কোন ছাত্র লিপ্ত থাকবে এবং ভয়ে এটার কাছে যাবে। মো. ইয়াছিন বিএসএস ৩য় বর্ষ মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ, মিরপুর-০১ প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে বর্তমানে প্রশ্নপত্র ফাঁস আমাদের দেশে এক মারাত্মক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যত টানা হুমকি দেশের জন্য তার চেয়েও বেশি হুমকি। কারণ এভাবে চলতে থাকলে দেশ এক সময় মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারসহ অভিভাবক, ছাত্র-শিক্ষক সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কার্যকরী তদন্ত কমিটি গঠন। জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান। দ্রুত শাস্তি কার্যকর করা। মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর নিকট তাদের মুখোশ উন্মোচন করা। আর ছাত্র-ছাত্রীদের মনে রাখতে হবে শিক্ষার উদ্দেশ্য রেজাল্ট নয়, জ্ঞানার্জনই উদ্দেশ্য। মেধা থাকলে কেউ তাকে আটকাতে পারবে না, সফল সে হবেই। আল-আমিন (সবুজ) স্নাতক (সম্মান), ৩য় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে বাংলাদেশের পিএসসি থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের বড় বড় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের মেধার বিচার করা হচ্ছে না। এভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীগুলোর জীবন ধ্বংস করা হচ্ছে। পরিতাপের বিষয় এই যে এই অবস্থাটিকে প্রশাসন গুরুত্ব দিচ্ছে না এমন কি গুজব বলেও উড়িয়ে দিচ্ছেন। এই প্রশ্নগুলো কোথায় থেকে ফাঁস হচ্ছে? কোনো শিক্ষার্থী, রিকশাওয়ালা কি এই প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারে? নিশ্চয় প্রশ্নপত্র যারা তৈরি করে তাদের মধ্য থেকেই জড়িত আছে কিছু নিম্নমনা অসাধু ব্যক্তিরা যারা এই জাতিটিকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চায়। হতাশার বিষয় হলো এই অবস্থায় একমাত্র জাফর ইকবাল স্যার ব্যতীত অন্য কাউকে এগিয়ে আসতে দেখিনি। তিনি একা আর কি করতে পারবেন? এই অবস্থা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠোর আইন প্রয়োগ করলে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করি । দ্বীন ইসলাম সাদী এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী ২০১৪. সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, সুনামগঞ্জ।