গাজায় দফায় দফায় ইসরাইলের বিমান হামলা, ৯ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজায় ইসরাইলের দফায় দফায় বিমান হামলায় কমপক্ষে নয়জন ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। ইসরাইলে ফিলিস্তিনীদের রকেট হামলার জবাবে রবিবার এ হামলা চালানো হয় বলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনী কিশোর মোহাম্মদ আবু খদিরের হত্যায় জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনীদের সশস্ত্র গ্রুপ হামাস জানায়, রাফার কাছে প্রথম বিমান হামলায় তাদের ছয় যোদ্ধা মারা গেছে। এছাড়া আরো কয়েকটি স্থানে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে রকেট ও মর্টার হামলার জবাবে এ পাল্টা হামলা চালানো হয়। তবে এসব হামলার মূলে রয়েছে সমপ্রতি ইসরাইলের তিন কিশোর ও ফিলিস্তিনের এক কিশোর অপহরণের পর হত্যার ঘটনা। ফিলিস্তিনী কিশোর মোহাম্মদ আবু খাদের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ধারণা করছে এ ঘটনার পেছনে জাতীয়তাবাদী উদ্দেশ্য কাজ করছে। এ অভিযোগে অবশ্য সেখানে ছয় ইহুদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিমান হামলা চালানো হয় ফিলিস্তিনের রকেট উেক্ষপণ স্থল এবং অস্ত্র উত্পাদন কারখানাগুলো লক্ষ্য করে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণের ইসরাইলি সমপ্রদায় এলাকায় অবিরাম রকেট হামলার পর ইসরাইলি বিমান গাজার কেন্দ্রস্থল ও দক্ষিণাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের ১০টি অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলী সেনা সূত্র জানায়, জঙ্গিরা রবিবার ২৫টি মর্টার ও রকেট নিক্ষেপ করলে তারা পাল্টা এ হামলা চালায়। গাজা উপত্যকা জুড়ে তারা ১০টি জঙ্গি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বিবিসির সংবাদদাতা কেভিন কনোলি জানান, তিন কিশোরের অপহরণের ঘটনায় ইসরাইল এ পর্যন্ত কয়েকশ’ হামাস সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিনী কিশোর মোহাম্মদ আবু খাদির হত্যার জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের সন্মুখীন করা হবে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল গাজা সীমান্ত বরাবর তাদের স্থলবাহিনী জোরদার করেছে। রকেট হামলা বন্ধ না হলে আগ্রাসনের পদক্ষেপ নেয়ারই ইঙ্গিত এটিই। সীমান্তবর্তী দেশ মিসর দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।