প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

অন্য কিছু নয়, প্রয়োজন মানবিক শুদ্ধতা ও নৈতিকতার চর্চা আমাদের দেশের সর্বত্র যে দুর্নীতির জয়জয়কার চলছে, সামপ্রতিক শিক্ষাক্ষেত্রে সেটারই দুঃখজনক প্রতিফলন ঘটছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে। এ সমাজে ক্রমবর্ধমান অনৈতিকতায় এটি মোটেও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, এতোকাল এটাই ছিল সত্য। কিন্তু দিন দিন সেই মেরুদণ্ডেও যেন আজ ঘুণে ধরেছে। তাই এর প্রতিকার শুধু সময়ের দাবি নয়, বরং জাতি হিসেবে নিজেদের বাঁচা-মরা ও নৈতিকতার জয়-পরাজয়ে অন্যতম মাপকাঠিও বটে। আমাদেরকে ভাবতে হবে, যে বা যারা এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তারা নিশ্চয় টাকা-পয়সার লোভে এসব করছেন। কেনইবা তারা এমন অর্থলোভী হয়ে উঠলেন, সেটাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। দেশে যখন সুশাসন ও কর্মসংস্থানের অভাব, চারপাশে যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চাহিদার প্রবল চাপ, তখন শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস কেন, আরও অনেক স্পর্শকাতর বিষয়েও নৈতিকতার দেয়াল ভেঙে পড়তে পারে। কাজেই শুধু সমস্যার বাহ্যিক দিকটি নয়, বরং এর পেছনে কার্যকর প্রতিটি শিরা-উপশিরাও আমাদের নজরে আনা প্রয়োজন এবং সেসব বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নইলে সরকার একটি সমাধান বের করবে এবং কুচক্রী মহল পরদিনই সেটা প্রতিহত করতে দ্বিগুণ উপায় বের করে ফেলবে। তামীম রায়হান সাংবাদিকতা বিভাগ, কাতার বিশ্ববিদ্যালয়, দোহা, কাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ শিক্ষামন্ত্রীর সদিচ্ছায়ই সম্ভব বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে শতকরা ৬৩% লোক শিক্ষিত। অথচ বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় চলছে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম। আর আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন মায়ানমার, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের চেয়ে অনেক উপরে। আমাদের দেশে এসব দুর্নীতি, অনিয়ম শিক্ষা ব্যবস্থা কোনোভাবে কাম্য নয়। আর এজন্য শিক্ষামন্ত্রীকে দুর্নীতিমুক্ত তদন্ত কমিটি গঠন করে খুব সূক্ষ্মভাবে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা এবং তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আর দেশের শিক্ষিত সমাজকে সচেতন করতে হবে। তাহলে আশা করা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে। ইমান হোসেন মাস্টার্স, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা অসম্ভব কিছু নয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রধান কারণ হল দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের দুর্বলতা। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তা যদি সত্ ও নিষ্ঠাবান হন তাহলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব। পরীক্ষার মাঝের বিরতি বন্ধ করে ফাঁস কিছুটা রোধ করা গেলেও শিক্ষার্থীদের পোহাতে হবে চরম দুর্যোগ! শিক্ষামন্ত্রীর ভাবা উচিত ছিল যে, এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীরা কি তাদের অনুশীলন ঠিকমতো করতে পারবে? অবশই না! আমাদের শিক্ষার্থীদের পক্ষে এটা কোনোমতেই সম্ভব না। এতে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়বো! আর রেজাল্টটাও আশানুরূপ হবে না। তাই আমার মতে, বিরতি বন্ধ না করে বরং প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি নজরদারি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ম্যাধ্যমে “প্রশ্নপত্র ফাঁস” বন্ধ করা অসম্ভবের কিছু না! জিসান মাহমুদ মিলন এইচএসসি ১ম বর্ষ, বি.জি.সি. ট্রাস্ট, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে যথাযথ আইন প্রণয়ন করতে হবে সমপ্রতি দেশের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অথচ বিষয়টি এমন নয় যে, এবারই প্রথম প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটল। এ ব্যাপারটি দীর্ঘদিন ধরেই নীরবে ঘটে যাচ্ছে, যদিও প্রশাসন সবসময়ই এ ক্ষেত্রে নির্বিকার থেকেছে। তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের সুযোগে এবার এই অপকর্মটির ব্যাপকতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাসহ এবার পিএসসি থেকে শুরু করে এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁস হল অথচ প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হল কেন। অবশ্য প্রতিকারের আগে তো সমস্যার কথা স্বীকার করতে হয় যা সরকারের পক্ষ থেকে ঠিকমত করা হচ্ছে না। সমপ্রতি শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বিগত পাঁচ বছরে কোনো পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, এবারই প্রথম প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে! পরিতাপের বিষয়টি হচ্ছে, হর্তাকর্তাদের মুখে যখন এরকম দায়িত্বহীন কথা শোভা পায় তখন অপরাধকারীরা অপরাধ করতে আরও বেশি উত্সাহিত হয়। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস একটি অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। এটি দূর করতে হলে অবশ্যই এ ব্যাপারে যথাযথ আইন প্রণয়ন করতে হবে। প্রশাসন আন্তরিক হলে এবং মূল অপরাধীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনলে প্রশ্ন ফাঁসের বিষবাষ্প থেকে এ দেশের অজস্র শিক্ষার্থী মুক্তি পাবে বলে আমি মনে করি। জাহিদ হাসান মাস্টার্সে অধ্যয়নরত বায়োএনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর সেইসব দুর্নীতিবাজ প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীকে ফাঁসিতে ঝুলানো উচিত আমাদের জাতীয় রোগের নাম দুর্নীতি। এই দুর্নীতি বাণিজ্যের প্রসার ঘটে চলেছে বলে আজ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে অসত্ পন্থায় অর্থোপার্জনের নিবিড় কুকৌশল রয়েছে। দুর্নীতিবাজরা প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে। তাদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে না। জাতির সুশিক্ষা প্রতিষ্ঠা ধ্বংস করার বড় হাতিয়ার প্রশ্নপত্র ফাঁস। যে জাতি অসত্ শিক্ষা দ্বারা পরিচালিত হয়, সে জাতি পরাধীন হয়ে যায়। স্বাধীনতার প্রথম শর্তই হচ্ছে, সত্ শিক্ষা। তাই জাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, সেইসব দুর্নীতিবাজ প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীকে ফাঁসিতে ঝুলানো উচিত। আজ সরকার কঠোর না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের স্বাধীনতা ভুলুণ্ঠিত হবে। ভুলে গেলে চলবে না, ঘষেটি বেগম ও মীর জাফর দুর্নীতিবাজ ছিলো। রাবেয়া রহমান একাদশ শ্রেনী (ইংলিশ ভার্সন) স্কলার স্কুল এন্ড কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা।