প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৪, ২১:০১
ব্যক্তি সচেতনতা ও সরকারি পদক্ষেপ জরুরি
বর্তমান সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। পরীক্ষার পূর্বের রাতে বিভিন্নভাবে প্রশ্নপত্র পেয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে সারাবছর পরীক্ষার জন্য পড়াশুনার দরকার হচ্ছে না এবং সেই সাথে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রবণতাও বাড়ছে। কতিপয় অসাধু লোকজন টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে মোবাইলে খুদেবার্তা, ফেসবুক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের যোগ্য মেধার বিকাশ হচ্ছে না। তাই কর্মক্ষেত্রে অযোগ্যরা স্থান পাচ্ছে এবং জাতির ভবিষ্যত্ হুমকির মুখে পড়ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে আমাদের ব্যক্তি সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন। সরকারি প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সঠিক তদন্ত কমিশন গঠন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা জরুরি।
মো. ফারুক হোসেন
১ম বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
দোষীদের
বিচারের আওতায়
আনতে হবে
বর্তমানে আমাদের দেশের সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া। এর কুফল তাত্ক্ষণিকভাবে না পাওয়া গেলেও এর ভয়াবহতা সুদূরপ্রসারী। প্রশ্ন ফাঁস নামক এ ভয়াবহ ব্যাধি অতিসত্বর দূর না করা যায় তাহলে ভবিষ্যতে কড়ায়-গন্ডায় এর মাশুল গুনতে হবে। পুরো জাতি ধীরে ধীরে ধাবিত হবে মেধাহীনতার দিকে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত্। আজকের শিশুকে যদি সঠিকভাবে গড়ে তোলা না হয় তাহলে এটা হবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এরকম আর কতদিন চলতে পারে? কতদিনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীলদের বোধোদয় হবে? এ দুর্যোগ থেকে রেহাই পেতে হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় স্বীকার করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
মোল্লা আবু সালেহ
৪র্থ বর্ষ, ৮ম সেমিস্টার
আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রশ্ন সেট বেশি করে
সবার জন্য উন্মুক্ত
করে দেয়া উচিত
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ আজ অবধি এজন্য কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থী মোটেও মনোযোগী হতে পারছে না। একশ্রেণির অর্থলোভী মানুষরূপী দানব এই স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পিএসসি থেকে বিসিএস পর্যন্ত প্রশ্ন সেট ফাঁস হচ্ছে এমনকি মেডিক্যাল পরীক্ষাতেও। এসব যারা করছে তাদের নিকট এসব কোনো ঘটনা নয়, দিনকে দিন আরও সহজ করে নিচ্ছে তারা। এর প্রতিষেধক হিসেবে প্রশ্ন সেট বেশি করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত। যেখানে ১টি প্রশ্ন ১বার ব্যবহার হবে যা অন্য সেটে আসবে না, এরূপ ১০টি প্রশ্নসেট থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের কমপক্ষে ১টি প্রশ্ন এর জন্য ১০টি প্রশ্ন শিখতেই হবে, শুধু গোপন রাখতে হবে কোন সেট পরীক্ষাতে আসবে। তাই মাত্র পরীক্ষার দিন সকালে নির্বাচন করতে হবে।
মো. জিয়াউল ইসলাম (শিপু)
বিবিএ, ব্যাচ ২৪ই স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রশ্ন ফাঁস রোধে
আইন করে শাস্তির
ব্যবস্থা করতে হবে
বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সঠিক সময় পরীক্ষা নেয়া, ঠিক সময়ে ফলাফল ঘোষণা, পরীক্ষার আগে অভিন্ন প্রশ্নে মডেল টেস্ট নেয়া, সৃজনশীল প্রশ্ন কাঠামো এসব ক্ষেত্রে সাহসিকতার প্রমাণ রেখে চলছে। এমনকি পরীক্ষায় বাজারদর নকল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একটি সমস্যা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে আর তা হল প্রশ্ন ফাঁস। একটি দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য এর থেকে বড় কোনো অস্ত্র প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। প্রশ্ন ফাঁস রোধে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে যেমনঃ যেদিন পরীক্ষা সেদিন সকালে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্নপত্রে সিলগালা করা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি প্রশ্নপত্র পাঠানো।
মোসা: রাহিমা
৩য় বর্ষ, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা
সরকারের কার্যকরী
পদক্ষেপই প্রশ্ন ফাঁস
রোধ করতে পারে
প্রশ্ন ফাঁস বর্তমান সময়ের একটি আলোচিত সমস্যা। এখন পরীক্ষা মানেই প্রশ্ন ফাঁস। ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন কয়েক দিন আগে সবার হাতে হাতে বিজ্ঞাপনের কাগজের মত লক্ষ্য করা যায়। প্রশ্ন ফাঁসই যেন এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের রোগ যেন সবার মাঝে ছোঁয়াছে রোগের মত ছড়িয়ে গেছে। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে প্রকৃত মেধাবীকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। প্রকৃত মেধাবী থেকে যাচ্ছে আঁঁড়ালে। একটি জাতিকে পঙ্গু ও জ্ঞানহীন করতে প্রশ্ন ফাঁসই যথেষ্ট। অচিরেই যদি প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা না যায় তবে আমাদের সোনার দেশে আর সোনা থাকবে না, সেখানে বিরাজ করবে অজ্ঞতা। তাই প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারকে নিতে হবে কার্যকরী পদক্ষেপ।
মো. হুমায়ুন কবির নাঈম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
নৃবিজ্ঞান বিভাগ।