আওয়ামী লীগ সরকারের কেন পূর্ণ
মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৮
আওয়ামী লীগের বর্তমান হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে মানুষ যেমন প্রশংসা করে তেমনি এই সরকারের ব্যর্থতাগুলো সম্পর্কেও মানুষের অভিযোগ প্রচুর। বলা চলে অভিযোগের ফিরিস্তিটাই বড়। ফিরিস্তিটা দিনে দিনে এতো বড় হয়েছে যে, সরকারের জনপ্রিয়তা দিন দিন কমছে। আওয়ামী লীগ সংগঠনের জনপ্রিয়তার কথা আর তুলছি না। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই সংগঠনটির এখন বড় বেহাল দশা।
আওয়ামী লীগ দল ও সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলোকে কয়েকটি মোটা দাগে ভাগ করা যায়। (ক) এই সরকার দেশকে অনেককিছু দিয়েছে। কিন্তু সুশাসন উপহার দিতে পারেনি। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি হু হু করে বাড়ছে বই কমছে না। (খ) এই সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে কোনো ‘কোহেসন’ নেই। একেক মন্ত্রী একেক কথা বলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করেন। কয়েকজন মন্ত্রী আছেন যোগ্য। কিন্তু অধিকাংশই কোনো দক্ষতা দেখাতে পারছেন না। তাদের এবং এক বিরাট সংখ্যক দলীয় এমপি’র কোনো জনপ্রিয়তা নেই। তারা পুলিশ পাহারা ছাড়া নিজেদের নির্বাচনী এলাকাতেও যেতে পারেন না।
(গ) এই মন্ত্রী, এমপি’দের স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। আগামীতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচনে এদের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। (ঘ) আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ এখন সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এলাকার বড় বড় সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের গডফাদার এখন আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর মন্ত্রী বা এমপি অথবা স্থানীয় নেতা। (ঙ) দেশে আইনের শাসন প্রায় ভেঙে পড়েছে। গুম, খুন, ধর্ষণের সংখ্যা শঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। (চ) মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না, স্বস্তিতে রাস্তায় হাঁটতে পারছে না। পথ দুর্ঘটনায় সপরিবারে মৃত্যু এখন নিত্যনৈমিত্তিক। (ছ) ঔষধে ভেজাল, খাদ্যে ভেজাল। ফরমালিন ত্রাসে সারাদেশ জর্জরিত। কোনো সমাধান নেই। এই মার্চেন্ট অব ডেথ’ এর দল ক্ষমতাসীনদের দ্বারা আশ্রিত। তারা আইনের আওতার বাইরে। (জ) বর্তমান সরকার প্রকৃত নির্বাচিত সরকার নয়, প্রকৃত নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় আসতো না। (ঝ) এই সরকার আমলাতন্ত্রের হাতে বন্দী। (ঞ) দেশে ভূমি দস্যুদের অবাধ লুণ্ঠন চলছে। সরকার নিষ্ক্রিয়। ইত্যাদি ইত্যাদি। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি আর লম্বা করলাম না। করতে চাইলে এই নিবন্ধে স্থান সঙ্কুলান হবে না। বিএনপি জামায়াত এবং একটি সুশীল সমাজের আরও কিছু অভিযোগ এখানে যুক্ত করলাম না। কারণ, সেগুলোর অধিকাংশই মনগড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সাধারণ মানুষের, এমনকি আওয়ামী লীগের অনেক সাধারণ নেতা ও কর্মীরও। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে এসব অভিযোগ যায় কিনা অথবা এসব অভিযোগকে তিনি পাত্তা দেন কিনা জানি না। যদি না দেন তাহলে তার পরিণতি কি তার উদাহরণ আমাদের পাশের বাড়ি ভারতের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। কথা হলো এই তাকানোর ইচ্ছেও আমাদের আছে কিনা?
যা হোক, আওয়ামী লীগ দল বা সরকার সম্পর্কে দেশের মানুষের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা আমার আজকের উদ্দেশ্য নয়। আমার আজকের লেখার উদ্দেশ্য এই কথাটি বলা যে, এতো সব অভিযোগ সত্ত্বেও বর্তমান হাসিনা সরকারের পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা উচিত। যদি এর পরে আরও একটি টার্ম এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে তাহলে ভালো হয়। দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই অন্তত তিনটি টার্ম হাসিনা সরকারের ক্ষমতায় থাকা দরকার। আমার একথা শুনে অনেকেই হয়তো আমার উপর রাগ করবেন, আমাকে অভিসম্পাত দেবেন। বলবেন, লোকটা বলে কি? সেতো গণতন্ত্র চায় না। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র চাই বলেই আজ একথা বলছি। সে আলোচনায় পরে আসছি।
২০০৮ সালে নির্বাচন জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর তার সঙ্গে একবার বিদেশ সফরে গিয়েছিলাম। সম্ভবত জেনেভায় ইউরোপের আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তাকে একটি সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। সেই সংবর্ধনা সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছিলাম, শেখ হাসিনা যদি দেশকে জঞ্জালমুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত বাংলায় পরিণত করতে চান, তাহলে তাকে অন্তত তিন টার্ম ক্ষমতায় থাকতে হবে। সভা মঞ্চে বসেই শেখ হাসিনা আমার কথা শুনে ক্লান্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, এতো দীর্ঘকাল কি ক্ষমতায় থাকা সম্ভব, না উচিত?
আমি সেদিন বক্তৃতা মঞ্চে না হলেও আমার লেখায় তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে, ব্রিটেনের টোরি সরকারের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারে প্রথম দফা ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন, ‘আমার আগেকার সরকার দেশে এতো জঞ্জাল জমিয়ে গেছে যে, তা এক মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে আমি পরিষ্কার করতে পারবো না। আমাকে তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে দিতে হবে।’ ব্রিটিশ জনগণ তাকে তিন টার্ম ক্ষমতায় রেখেছিল।
আমার কথা, দীর্ঘ একুশ বছর আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিগুলোকে ক্ষমতার বাইরে রেখে সামরিক ও স্বৈরাচারী সরকারগুলো দেশে সন্ত্রাস, দুর্নীতি থেকে শুরু করে এতো জঞ্জাল জমিয়ে গেছে যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে এক দফা ক্ষমতায় থেকে তা দূর করা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ তা পারেনি। বরং দেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে পচন তা অন্যান্য দলের মতো আওয়ামী লীগকেও স্পর্শ করেছে।
আওয়ামী লীগের যুদ্ধ এখন ঘরে-বাইরে। দলকে আবর্জনামুক্ত করা এবং দেশকে অপশাসনের লেগাসি মুক্ত করা। শেখ হাসিনা চেষ্টা করছেন। এখনো পারেননি। তাকে আমলাতন্ত্র ও এসটাবলিসমেন্টের প্রতিক্রিয়াশীল গণবিরোধী অংশ ঘিরে ফেলেছে। বঙ্গবন্ধুর মতো ব্যক্তিত্বশালী নেতাকেও শেষদিকে আমলাতন্ত্র ও নব্য লুটেরা শ্রেণী ঘিরে ফেলেছিলো। তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘আমার চারপাশে চাটার দল। তারা আমাকে ঘিরে ফেলেছে। আমি এদের বিরুদ্ধে লাল ঘোড়া দাবড়ে দেব।’ তিনি এই লাল ঘোড়া দাবড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পশ্চিমা পচনশীল ধনবাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই লাল ঘোড়া দাবড়ানো যায় না। বঙ্গবন্ধু তাই দেশে বাকশাল পদ্ধতির শাসন (অনেকটা সাবেক পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের শাসন ব্যবস্থা) প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন। পারেননি। তখন প্রতিক্রিয়াশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি “মস্ক এবং মিলিটারির” সহায়তায় অনেক বেশি সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছে। বাকশাল পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক অসত্য প্রচার চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়।
সেকুলার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর সরকারের এই বিপর্যয়েও গণতন্ত্র হত্যাকারী স্বৈরাচারী শাসকদের অভ্যুত্থানের সময়ে আজকে যারা সুশীল সমাজের নেতা সেজে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র বলে চিত্কার করছেন, কখনো ড. ইউনূস, কখনো ড. কামাল হোসেনের মতো মার্চেন্টস অব অপরচুনিজম-এর নেতাদের মাথায় নিয়ে নাচছেন, সেই রেহমান সোবাহান, দেবপ্রিয়ের দল তখন দেশ থেকে পালিয়েছিলেন। অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, কেমব্রিজে গিয়ে কেউ কেউ সিআইএ’র অর্থায়নে পরিচালিত বিতর্কিত সংস্থার অর্থে তথাকথিত গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সুদীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশ যখন স্বৈরাচারমুক্ত হয় এবং গণতন্ত্র ফিরে আসে, তখন তারা দেশে ফিরে এসে গণতন্ত্রের অভিভাবক সেজে বসেন।
বাংলাদেশের মতো একটি পশ্চাত্পদ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার দেশে বঙ্গবন্ধু পশ্চিমা ধনবাদী গণতন্ত্র নিয়ে যে সমস্যায় পড়েছিলেন, ফ্রান্সের মতো উন্নত পশ্চিমা দেশেও গত শতকের মধ্যভাগে চার্লস দ্যগলে একই সমস্যায় পড়েছিলেন। ধনবাদী অর্থনীতির ফাঁকফোকরে ফ্রান্সে এতো বেশি শ্রেণী-স্বার্থ তৈরি হয়েছিলো যে, তাদের দ্বন্দ্বে ফ্রান্সের পার্লামেন্টারি শাসন ব্যবস্থাই শুধু নয়, দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। দ্যগলে পার্লামেন্ট এবং পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা ভেঙে দেন এবং যে ধরনের প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, সেই ব্যবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাইতেও ফরাসী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কার্যত অনেক বেশি। এভাবে দ্যগলে প্রায় ভেঙে পড়া ফ্রান্সকে রক্ষা করেছিলেন। সেদিনও সেখানকার সুশীল সমাজের একটা অংশ দ্যগলবাদ ও দ্যগলের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক বলে সমালোচনা করেছিলেন। দ্যগলে এই উলুখড় পণ্ডিতদের কথাকে কোনো দাম দেননি।
বর্তমান বাংলাদেশে গণতন্ত্রের যে মূল ভিত্তি গণঅধিকার এবং যে গণঅধিকারের ভিত্তি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার এক কথায় ধর্ম নিরপেক্ষতা, তা রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু বাকশাল প্রথা কিংবা দ্যগলের কর্তৃত্ববাদী প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি প্রবর্তনের দিকে এগোননি শেখ হাসিনা। এগুবার সুযোগ এবং ক্ষমতাও তার নেই। তিনি বার বার দেশ থেকে উত্খাত হওয়া দুর্বল পশ্চিমা গণতন্ত্রের প্রক্রিয়ার মধ্যেই দেশের সেকুলার ও গণতান্ত্রিক চরিত্র টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। গণতন্ত্রের মুখোশ ঢাকা সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার গণবিরোধী শক্তিকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কিন্তু পারছেন না। দেশের নব্যধনী, লুটেরা শ্রেণী, সাম্প্রদায়িক চেতনার লোকেরা তার দলেও ঢুকে পড়েছে। প্রতিক্রিয়াশীল ও গণবিরোধী এসটাবলিসমেন্ট, যে এসটাবলিসমেন্ট গড়ে উঠেছে সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসকদের আমলে এবং এখনো যারা সিভিল ও মিলিটারি প্রশাসনের হর্তাকর্তা, তাদের কব্জায় পড়ে গেছে হাসিনা সরকার। আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো ক্রমশই তার সংগ্রামী চরিত্র হারিয়ে আপসবাদী ও স্বার্থ কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার লোভে ধর্মান্ধতার অপশক্তির সঙ্গে আঁতাত করে চলাকে রাজনৈতিক কৌশল মনে করছে। হাসিনা এখানে একা এবং অসহায়। মনে হতে পারে, তিনি বুঝি একাই সব ক্ষমতা তার হাতে কেন্দ্রীভূত করে দেশ চালাচ্ছেন। তা সত্য নয়। তিনি এখন প্রিজনার অব জেন্ডা। তার ক্ষমতার বলয়ের চারদিকে গভীর বিপদের পরিখা।
এতোকিছু সত্ত্বেও আওয়ামী লীগই দেশের একমাত্র বড় দল যার শক্তির উত্স ক্যান্টনমেন্ট নয়; মসজিদ মন্দির নয়; চরিত্রভ্রষ্ট ও সুযোগ সন্ধানী সুশীল সমাজ নয়। আওয়ামী লীগের শক্তির উত্স সাধারণ মানুষ। এই শক্তির উত্স থেকে বিচ্ছিন্ন হলে আওয়ামী লীগের আর অস্তিত্ব থাকে না। তাই দেশের কায়েমী স্বার্থগুলো সঙ্ঘবদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণের যে অভিযোগ তাকে ফেনিয়ে ফাঁপিয়ে তুলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে জনগণের শত্রুকেই ক্ষমতায় আনতে চায়। তাহলে দেশে লুটেরা শ্রেণীর রাজত্ব কায়েম থাকে এবং তাদের অনুগৃহীত ও পোষ্য শ্রেণী হিসেবে সুশীল সমাজ বা এলিট শ্রেণীরও স্বার্থ সুবিধা বজায় থাকে। সেজন্য গণতন্ত্রের জন্য কোরাসে তাদের এই মায়াকান্না।
একথা সত্য, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পশ্চিমা গণতন্ত্রের ব্যাকরণসম্মত পথে হাঁটতে পারেনি। এজন্যে প্রাচীন বাংলার সংস্কৃত পণ্ডিতদের মতো আমাদের বর্তমান সুশীল সমাজের পণ্ডিতেরা রে রে করে উঠেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনে কোনো বিরোধী দলকেই অংশগ্রহণে বাধা দেয়নি। যা স্বৈরাচারী শাসকেরা করে থাকে। গত নির্বাচনে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলোই নানা অজুহাতে নির্বাচন বর্জন করেছে। এখন পরের যাত্রা ভঙ্গ করতে গিয়ে নিজেদের নাক কেটে ঘরে বসে আছে। আর দেশে “গণতন্ত্রের পূজারি” সুশীল সমাজ গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চিত্কার জুড়ে নতুন নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু আবার নির্বাচন দিলেও বিএনপি তাদের অযৌক্তিক শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচনে আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা আছে কি? তারা বলছেন, হাসিনা সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। যদি তাই হয় তাহলে পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও উপ-নির্বাচনে দাঁড়িয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা জয়ী হচ্ছেন কিভাবে?
বিএনপি’র দাবি শুধু নির্বাচন নয়, তাদের শর্তে নির্বাচন করে ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। তারপর তারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিরোধী শক্তি জামায়াত ও হেফাজতিদের সঙ্গে নিয়ে দেশ চালাবেন। আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজও কি তাই চান? তাহলে সে কথা মুখ ফুটে বলছেন না কেন? এই মুহূর্তে দেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প কোনা বড় গণতান্ত্রিক দল নেই, যারা দেশকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পরিণতি বরণ করা থেকে বাঁচাতে পারেন। সবচাইতে বড় কথা বাংলাদেশে এখন কম্যুনিস্ট পার্টির মুজাহিদুল ইসলাম গণতন্ত্র চান। জামায়াতও গণতন্ত্র চায়, সুশীল সমাজও গণতন্ত্রের জন্য পাগল। এই তিন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও রূপরেখা কি অভিন্ন? এই সংজ্ঞা ও রূপরেখাটা জানতে ইচ্ছে করে। আর জানতে ইচ্ছে করে অবিলম্বে দেশে একটি নির্বাচন হলেই কি এই তিন সংজ্ঞার কোনো সংজ্ঞায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে; না বিএনপি’র গণতন্ত্রের খোলসে আধা তালেবানি দুঃশাসন কায়েম হবে?
আওয়ামী লীগ যতো ঘুণে ধরা দল হোক, আওয়ামী লীগ সরকার সুশাসন দিতে যতো ব্যর্থ হোক, এই দল এবং এই দলের সরকারের হাতে এখনো গণতান্ত্রিক শাসনের ছিন্ন পতাকা। আওয়ামী লীগই পারে এই ছিন্ন পতাকা জোড়া দিতে, উড্ডীন রাখতে। আপাতত দেশে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প দল নেই। দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে এই আওয়ামী লীগ সরকারেরই পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা দরকার। কেন দরকার সে সম্পর্কে আরও আলোচনা করতে চাই। (শেষাংশ আগামী সপ্তাহে)।
লন্ডন ১২ জুলাই, শনিবার, ২০১৪