প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২১:০৭
প্রশ্নপত্র ফাঁস
রোধে চাই
নৈতিকতার চর্চা
পিএসসি পরীক্ষা থেকে শুরু করে সকল পাবলিক ও বেসরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে জাতির ভবিষ্যত্ প্রজন্ম হুমকির মুখে। মানবিক জ্ঞানহীন একশ্রেণীর স্বার্থপর ব্যক্তির কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে বিজ্ঞজনেরা প্রথম থেকেই বিরোধীতা করে আসছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধেও গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। গঠিত তদন্ত কমিটি মূল্যবান কয়েকটি সুপারিশ পেশ করে। সুপারিশগুলো হল— প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে— প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংশোধন ও প্রশ্ন নির্বাচনের কাজ সফটওয়্যারের সহায়তায় সম্পন্ন করা, পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র নির্ধারণ, অধিকসংখ্যক প্রশ্নপত্রের সেট তৈরি, লটারির মাধ্যমে প্রশ্নের সেট নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ। এসব সুপারিশসমূহের যেটিই বাস্তবায়িত হোক না কেন, তার সাথে যেদিকটি সবচেয়ে গুরুত্ব তা হচ্ছে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যারা জড়িত তাদের নৈতিক অনুশীলন ও মানবিক পরিশুদ্ধতা একান্ত প্রয়োজন।
মোহাম্মদ মাসুদ
বি,এ (অনার্স) বাংলা
সিটি ক্যাম্পাস, মিরপুর, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০০
প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ
করতে সকলকে
সচেতন হতে হবে
আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। তেমন একটি সমস্যা হচ্ছে প্রশ্ন ফাঁস, যেটি অনেক মেধাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। যদি সরকার ১০০ভাগ পাশের হার না দেখিয়ে দেশ ও দেশের জনগণের কথা ভেবে পরীক্ষার হলে এবং প্রশ্নের সাথে সিকিউরিটি ও বিভিন্ন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা করে তাহলে এটা সফল হতে পারে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এর কুফল সম্পর্কে জানাতে হবে এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ-এর মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে রক্ষাতে কাজ করতে হবে এবং প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে সকলকে সচেতন করতে হবে।
আব্দুল হান্নান
কায়েম কোলা, ঝিকরগাছা, যশোর
বিভাগ মানবিক, কায়েম কোলা কলেজ।
০০০০০০০০০০০০০
জনসমক্ষে প্রশ্নপত্র
ফাঁসকারীদের
শাস্তি দিতে হবে
পরীক্ষা আরম্ভ হলেই শুনা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা। এটি দু’তিন বছর ধরে কেবল শুনেই আসছিলাম কিন্তু প্রত্যক্ষ করলাম এবার যখন এইচ. এস. সি. পরীক্ষা দিলাম। শুধু এতটুকুই নয় পরীক্ষা কক্ষে ১৮০ কি. মি বেগে চলে নকল নামক জাতি বিধ্বংসী নিয়ন্ত্রণ হারানো আরো একটি গাড়ি। আর এই দু’টোর নিচে চাপা পরে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে জাতির সত্ ও দক্ষ ভবিষ্যত্ প্রজন্ম।প্রত্যেক শিক্ষাবোর্ডের চেয়্যারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তারা যদি রাজনৈতিক চাপকে তুচ্ছ মনে করে সত্-সাহসে সাহসী হয় তবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে রেহাই পাওয়া যাবে বলে আশা করি। এবং যারা পরীক্ষা কক্ষে আবশ্যকভাবে নকল বিক্রি করে তাদেরকে হাতে-নাতে ধরে শাস্তিসহ জনসম্মুক্ষে উপস্থাপন করাই হবে এর প্রতিকারের অন্যতম একটা উপায়।
মু. মিজানুর রহমান মিজান
এইস.এস.সি. পরীক্ষার্থী (২০১৪, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা)
আবদুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজ, বাউফল, পটুয়াখালী।
০০০০০০০০০০০০০০
আর নয় প্রশ্নপত্র ফাঁস,
মেধাশক্তির পরিপূর্ণ
বিকাশ চাই
বর্তমানে হাটে-ঘাটে, পাড়ায়-মহল্লায়, শহরে-বন্দরে অফিস আদালত এমনকি হোটেল-রেস্তেরাঁয় চায়ের চুমুকে একটি কথাই শুনা যায়, বিভিন্ন পাবলিক ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। যা একটি সভ্য জাতি কখনো কামনা করে না। আর এই প্রশ্ন ফাঁসের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার যেমন মনে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি জাতিকে করে দেয়া হচ্ছে মেধা শূন্য যার আরেক নাম বলতে হবে পঙ্গুত্ব। পঙ্গুত্ব নিয়ে যেমন বসে থাকা ছারা চলা যায় না তেমনি মেধা শূন্য জাতি উন্নতি করতে পারে না। কিছু অসাধু শিক্ষক এবং দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অগণিত কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ এই জঘন্য কাজটির সাথে জড়িত। তাদের উদ্দেশ্য হলো মেধা শূন্য জাতি গঠন করে পর্দার আড়ালে থেকে নিজের স্বার্থ সুদীর্ঘ অর্জন করা। একজন তরুণ শিক্ষার্থী হিসাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমি বলতে চাই প্রতিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আলোচনা-সমালোচনার ঝড় না তুলে দুষ্কৃতকারীদের সর্বোচ্ছ সাজা প্রদান করে বুঝিয়ে দেয়া হোক এর ভয়াবহতা কত কঠিন।
আব্দুর রহমান
শিক্ষার্থী
ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে
সবারই সচেতনতার
প্রয়োজন
বর্তমানে আমাদের দেশের বহুল আলোচিত সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। বর্তমানে পরীক্ষা মানেই প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রাথমিক শিক্ষা-সমাপনী-পরীক্ষা থেকে শুরু করে, বিভিন্ন ধরনের পাবলিক পরীক্ষা ও চাকরির পরীক্ষাগুলোতে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। ফলে সঠিক মেধাবীরা লেখাপড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। একটি জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে প্রশ্ন ফাঁসই যথেষ্ট। অচিরেই আমাদের প্রশ্ন ফাঁস রোধ না করলে দেশে মেধাহীন ও অজ্ঞতা বিরাজ করবে। তাই প্রশ্ন ফাঁস রোধে শুধু সরকারী আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, তাই আমাদের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের যথেষ্ট প্রচেষ্টা থাকতে হবে।
সুমাইয়া নাজনীন
শিক্ষার্থী
মনোবিজ্ঞান, বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ।