প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৫
প্রশাসনের সচেতনতা ও কঠোর নজরদারিই পারে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী থেকে শুরু করে মেডিক্যাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। যা আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। ফেসবুক ও অন্যান্য কিছু কিছু ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে এসব পরীক্ষার ঠিক আগে দেখা যায় প্রশ্ন দেয়া যাবে বলে বিজ্ঞাপন দেয়া হয় এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করার মত ফোন নম্বর ও ঠিকানা পর্যন্ত দেয়া থাকে। প্রশাসন অত্যন্ত কৌশলে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে এদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং এদেরকে ধরে জাতির সামনে পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং সেই সাথে এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনের সচেতনতা ও কঠোর নজরদারীই পারে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত জঘন্য কাজ রুখতে। আমরা প্রশ্ন ফাঁস করে নয় প্রকৃত মেধাবীর মেধা দিয়ে দেশকে গড়তে চাই।
মো. হামিদুর রহমান,
বিএসসি ফিশারিজ অনার্স (১ম বর্ষ),
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
০০০০০০০০০০০০
এখনই পরিকল্পনা নিয়ে পদক্ষেপ
নিতে হবে
প্রশ্নপত্র ফাঁস এটি কয়েকবছর ধরেই শুনে আসছি। নকল থেকেও এটি ভয়ংকর হিসেবেই সবাই জানে। যারা করেছে, ব্যাস ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখে, ভবিষ্যতে হবে না এমন একটি পরিকল্পনা কিংবা নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে বর্তমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। যা সময় করে নয় সময় নিয়েই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধের করণীয়গুলো কি করা যেতে পারে এখনই পরিকল্পনা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে ও এগোতে হবে জাতিকে।
আজিম উল্যাহ হানিফ,
১মবর্ষ বিএস এস স্নাতক,
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
০০০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁস যেভাবেই হোক তা রোধ করতে হবে
যে হারে প্রশ্নপত্র ফাঁসের উত্সব চলছে তা রোধ করা অতীব জরুরি। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করার চেষ্টা করা যায়। সরকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার প্রদান করেছে। যদি প্রশ্ন অতি সতর্কতার সাথে ই মেইলের মাধ্যমে প্রতিটি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রেরণ এবং পরীক্ষার আধ বা এক ঘণ্টা আগে তা প্রিন্ট করে পরীক্ষা নেয়া হয় তাতে মনে প্রশ্ন ফাঁস কিছুটা রোধ করা সম্ভব হবে। এতে পরীক্ষার আধ বা এক ঘণ্টা আগে প্রশ্ন ফাঁস হলেও সৃজনশীল প্রশ্নে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না।
আয়সা সিদ্দিকা মৌসুমি
৩য় বর্ষ, সমাজ বিজ্ঞান
বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ
০০০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁস
জাতির কলঙ্কময় অধ্যায়
পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক ঘন্টা (সর্বনিম্ন যত রাখা যায়) পূর্বে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্র প্রশ্নপত্র প্রেরণ করতে হবে। দরকার হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালসহ তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞান-সম্পন্ন বিশিষ্টজনদের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। কোন কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে কাল-বিলম্ব না করে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। পাশাপাশি এটাও আবশ্যক যে, কোন পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরেও যদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তবে উল্লেখিত পরীক্ষা বাতিল করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারিদের গ্রেফতার করে জামিন অযোগ্য সশ্রম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, এই শাস্তি কমপক্ষে ৮ (আট) বছর হতে হবে।
তারেক রহমান,
স্নাতক সম্মান (বাংলা),
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর,
বাংলাদেশ
০০০০০০০০০০০০
যারা প্রশ্ন ফাঁস করে বাণিজ্য করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে
এখন শিক্ষার ভিতরেও ভেজাল ঢুকে গেছে। আর এই ভেজালের মধ্যে একটি হল প্রশ্নপত্র ফাঁস। যেটা নাকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা দুর্নীতি করার পথটাও দেখে নিচ্ছে। কিন্তু যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বাণিজ্য করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এভাবে চলতে থাকলে একদিন আমাদের মেধাশূন্য জাতি দেখতে হবে। আর এই সমস্যা থেকে প্রতিকার পেতে হলে, শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যারা সারাসরি জড়িত তাদেরকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
আফিফী আক্তার (ঈশিতা),
কম্পিউটার বিভাগ,
ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট
ঢাকা