[ অ র্থ নী তি ]

ব্রিকস্ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ

ব্রিকসের অর্থ ইটের টুকরা নয়। ব্রিকস্ পাঁচটি দেশের আদ্যাক্ষরের সমষ্টি। বি-তে ব্রাজিল, আর-রাশিয়া, আই-ইন্ডিয়া, সি-চায়না এবং এস হচ্ছে সাউথ আফ্রিকা। এই পাঁচটি দেশ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত। চীন এবং ভারত এশিয়া মহাদেশে, রাশিয়া, ইউরোপ এবং এশিয়া তথা ইউরেশিয়াতে অবস্থিত। দক্ষিণ আফ্রিকার এবং ব্রাজিল ল্যাটিন আমেরিকায় অবস্থিত। স্বভাবতই পৃথিবীর বাকি থাকে দুটি অংশ। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ। সুতরাং ব্রিকস সমষ্টিবদ্ধভাবে এক ধরনের মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। আমরা যাকে বলি পশ্চিমা শক্তি। যার অন্যতম দুই অংশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তাদের বিপরীতে গঠিত হয়েছে ব্রিকস। যার অন্যতম দুই শক্তি হচ্ছে প্রাক্তন দুই সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীন এবং রাশিয়া। যখন চীন এবং রাশিয়া পরস্পর বন্ধু ছিল (বিংশ শতাব্দির বেশিরভাগ অংশ জুড়ে) তখন পৃথিবীর দুই মেরুর একটি ছিল পুঁজিবাদির বিশ্বব্যবস্থা আর একটি ছিল সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা। তারা পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল সারা বিশ্বকে জয় করবার জন্য। ষাট দশক ছিল বিপ্লবী অগ্রযাত্রার দশক। এই দশকের সন্তানরা নিশ্চয়ই সেই রোমাঞ্চ অনুভব করেছিলেন। সেই স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ ফরহাদ ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশে আফগান স্টাইলে বিপ্লব হবে এবং বাংলাদেশ হবে তেত্রিশতম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। কিন্তু এই স্বপ্ন ছিল ভুল স্বপ্ন। বাংলাদেশ তেত্রিশতম সমাজতান্ত্রিক হয়নি, আফগানিস্তান ও সোভিয়েত কর্তৃত্ব স্থায়ী হয়নি। ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে জনগণই ইতিহাসের নায়ক এবং ভুল হোক, শুদ্ধ হোক জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই দীঘস্থায়ী হয় না। সেটা সামরিক কর্তৃত্বই হোক অথবা দলীয় কর্তৃত্ব (authoritarian single party rute) হোক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে নব্বই দশকে সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় তথাকথিত বিপর্যয়ের পর ফুকুআমারা যেমন বলেছিলেন, ‘ইতিহাসের সমাপ্তি হয়েছে’। তাকি সত্য হয়েছে? মাত্র দশ বছর যেতে না যেতেই আমরা ত্রশিয়াতে এক তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সাক্ষাত্ পেলাম। আজ এই সংকটের নামকরণ হয়েছে এশিয়ান সংকট (ashian crices)। দেখা গেল দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্য অনেকগুলো উদীয়মান দেশ থেকে পুঁজিবাজারের পুঁজি দ্রুত তাদের পিতৃভূমিতে ফিরে গেল। অর্থনীতির পরিভাষায় এটাকে বলে ‘ফাইটপ ক্যাপিটল’। আইএমএফ তখন এসব দেশ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আরো দু’টি তিক্ত ওষুধের পরামর্শ দিয়েছিল। একটি হচ্ছে ভোগ-ব্যয় কমাও, কৃচ্ছ্রতা সাধন করা বিশেষ করে সামাজিক পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার করো, বাজারে যে দাম স্বাভাবিক সেই দামে পানি, বিদ্যুত্ তেল, খাদ্য বিক্রির ব্যবস্থা করো। তাতে জনগণের কষ্ট হলেও কিছু করার নেই। সরকারের বেল্ট এখন টাইট করতেই হবে। বাজেট ঘাটতি কমাতেই হবে। আর একটি পরামর্শ ছিল নিজ নিজ দেশীয় মুদ্রামানের অবমূল্যায়ন করতে হবে। বশংবদ শীর্ষের মতো যেসব দেশ তাই পরামর্শ অনুসরণ করেছে সেসব দেশে সংকট ঘনীভূত হয়ে রাজনীতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াতে জনগণ মহাবিক্ষোভে ফেটে পড়ায় বিশ্বব্যাংকের দলত্যাগী অর্থনীতিবিদ নোভেল বিজয়ী যোসেফ স্টিগলি দুঃখ করে বলতে বাধ্য হয়েছিল, আমরা “IMF RIOT”-এর জন্ম দিয়েছি। দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থা আরও সঙ্গিন, হঠাত্ করে দেশীয় মুদ্রামানের অবমূল্যায়নের কারণে তাদের ঘারে ডলারের ঋণের যে বোঝা ছিল কোরিয়ার মুদ্রায় তার মান অনেক গুণ বেড়ে গেল। ধরুন আমাদের ঋণের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার। এর মুদ্রামান যখন আশি টাকা ছিল, তখন দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ হবে আশি বিলিয়ন টাকা। অর্থাত্ আট হাজার কোটি টাকা। এখন যদি হঠাত্ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আমাদের মুদ্রামানের অবমূল্যায়ন করেন এবং এক ডলার সমান আশি টাকার দ্বিগুণ অর্থাত্ একশত ষাট টাকা ধাহ্য করেন তাহলে অবস্থাটা কি দাঁড়াবে? যারা আট হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল তাদের এখন ঋণ পরিশোধের জন্য ষোল হাজার কোটি টাকা ঋণ সুদ করতে হবে। সেজন্যই তাদের আবার বর্ধিত কৃচ্ছ্রতার বোঝা বহন করতে হবে এবং প্রাণপণে সবকিছু রপ্তানি করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া সেই সময় এই বিপদে পড়েছিল। পরে অবশ্য আইএমএফ বিশ্বব্যাংক নেতৃত্ব উভয়ে স্বীকার করেছিল তাদের এই কৌশল এসব দেশে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি দুই হাজার আট-এ এসেও বিশ্ব পুঁজিবাদের আর্থিক ব্যবস্থায় আর একটি সংকট হয়, এই সংকটের উত্স ছিল উত্তর এমেরিকার আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধি ও পতন। এবং এর ঢেউ এসে পড়ে ইউরোপে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রীস। এখন গ্রীসকে আইএমএফ পূরণে তিক্ত বটিকা সেবন করবার জন্য সচেষ্ট আছে। প্রশ্ন হচ্ছে বারে-বারেই কি আমরা আইএমএফের ভুল প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করবো? বিশ্ব আর্থিক বাজারে ধন্বন্তরী থাকবে মাত্র দুটি সংস্থা, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক। আর আমাদের আর্থিক অসুখ হলে আমরা কি এই দুই ডাক্তারের কাছে ছুটে যাবো? এই চ্যালেঞ্চের জবাব দিতে গিয়েই ৫টি দেশের রাষ্ট্রপতি ব্লাদিমের পুতিন, নরেন্দ্রমোদি, জী জিনপেইন, জেকব জুমা এবং ডিলমা রোমেফ, ব্রাজিলের ফর্টালেজা নগরে গত ১৫ই জুলাই মিলিত হয়েছিলেন। বিশ্বকাপের জর শেষ হতে না হতেই ব্রিকস দেশগুলো সেখানে একটি নতুন উন্নয়ন ব্যাংক ঘোষণা দিলেন। এই ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হবেন (প্রথম ছয় বছরের জন্য) একজন ভারতীয় প্রতিনিধি, বোর্ড অব গভর্নরের সভাপতি হবেন একজন রাশিয়ান এবং বোর্ড অব ডিরেকটরদের সভাপতি হবেন একজন ব্রাজিল নাগরিক (এর হেড কোয়াটার স্থাপিত হবে প্রথমে চীনের সংহাইয়ে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এই ব্যাংকের সদস্য দেশগুলো প্রত্যেকে দশ বিলিয়ন ডলার চাঁদা দিতে রাজি হয়েছে। অর্থাত্ এই ব্যাংকের প্রাথমিক পুঁজির পরিমাণ হবে পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যাংক একটি আপদকালীন তহবিলও (Contingency Reserve Assangenent) তৈরি করবেন, যার পরিমাণ হবে একশ বিলিয়ন ডলার। এই একশত বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৪১ শতাংশই প্রদান করবে চীন, আঠার শতাংশ প্রদান করবে ব্রাজিল, ভারত ও রাশিয়া, আর পাঁচ শতাংশ প্রদান করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাকি অর্থ ধীরে ধীরে পরবর্তীতে সংগৃহীত হবে। একথা ঠিক আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের হাতে যে তহবিল রয়েছে তার তুলনায় কম। যতদূর জানা যায় আইএমএফের বর্তমানে তহবিলের পরিমাণ প্রায় তিনশ বিশ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাংকের পরিমাণ ২ হাজার ২শ পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং ব্রিকস ব্যাংককে আমরা বড়জোর একটা মিনি আইএমএফ বলতে পারি। এই মিনি আইএমএফের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, তাদের প্রধান কাজ হবে আগে নিজস্ব দেশগুলোতে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং কখনো কোন সদস্য দেশ যদি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে তখন তাকে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের স্মরণাপন্ন না হতে হয় সে ব্যবস্থা তারা করলেন। তারা আরো বলেছেন এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য তারা কোন রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই ঋণ প্রদান করবেন। এ প্রসঙ্গে ব্লাদিমের ফ্রোটিনের বক্তব্য উল্লেখযোগ্য, ফ্রোটিন বলেছেন, এই দুই ব্রেটন-উড প্রতিষ্ঠানে জন্মলগ্ন থেকে আমেরিকার আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত। এর শাসনকাঠামো অগণতান্ত্রিক। এখানে এক দেশের এক ভোট নয়। যে দেশের যত বেশি টাকা তার, তত বেশি ভোট ও শক্তি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণকে ব্যবহার করা হয় আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আদর্শকে বিশেষভাবে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিকে আরও জোরদার করবার জন্য। সুতরাং ব্রিকসের বিপরীতে একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত রাজনৈতিক শর্তবিহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে উঠবে। পুটিনের এই অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণিত হয় অতীত ইতিহাসের বিচারে। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকার সবগুলো স্বৈরাচারী সরকারই এই দুই প্রতিষ্ঠানে থেকে সর্বোচ্চ সাহায্য পেয়েছে। আমরা শুধু চিলিন পুনোচেটের কথা উল্লেখ করতে পারি। আমাদের দেশের জেনারেল এরশাদের শাসন আমলে কোন এক বছর বিদেশি সাহায্যের মাত্রা ছিল মোট উন্নয়ন বাজেটের প্রায় একশ; আট শতাংশের সমান। অর্থাত্ পুরো উন্নয়ন বাজেট আমরা পূরণ করেছি বিদেশি সাহায্য দিয়ে, এমনকি বাজার বাজেটেরও কিছু অংশ বিদেশি সাহায্য থেকে পূরণ করা হয়েছে। সেজন্যই জেনারেল এরশাদকে বশংবদ ভৃত্যের মতো তখন তাদের নির্দেশিত প্রেসক্রিপশন মেনে চলতে হয়েছে। তার ফলাফল অবশ্য তার জন্য শুভ হয়নি! দুনিয়া এখন বদলে গেছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখন নতুন শ্লোগান উঠেছে। ‘এশিয়া ফর এশিয়া’। ভারত, চীন এবং কিছুটা বাংলাদেশও ইউরোপ ও আমেরিকার দিক থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে এখন “লুক ইস্ট পলিসি” গ্রহণ করতে চলেছে। পুঁজিবাদী বিশ্বই স্বীকার করছে আগামী শতাব্দি হবে এশিয়ার শতাব্দী। আর এর নেতৃত্বে থাকবে মহাচীন। ব্রিকস তারই পদধ্বনি শুনায়। ব্রিকস-এর সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিজেদের মধ্যে সৌহার্দের চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এসব ঋণ দান করে ঋণ সঠিকভাবে আদায় করবার চ্যালেঞ্জ। তাই দুই বিষয়ই প্রবলভাবে নির্ভর করবে চীনের ভূমিকার উপর। এখন পর্যন্ত চীন এক্ষেত্রে রাষ্ট্রনায়কোচিত ছাড় দেয়ার নীতি গ্রহণ করে জয়ই হয়েছে। ভারতকে ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দিয়েছে। এই ব্যাংক সৃষ্টি হবার আগেই চীনের উদ্বৃত্ত পুঁজি ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকায় নিয়োজিত হচ্ছিল। আমেরিকায় তার বিশাল বাজার রয়েছে। এই বাজার সে ছাড়তে চায় না। এখনও বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ-এর এসব দেশেই সদস্য রয়েছে। সেখানে তাদের কিছু অর্থ চাঁদা হিসাবে রয়ে গেছে। সেটার পরিমাণ কম বলে সেখানে তাদের ভোটও কম। আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক এখন একটা সংস্কারের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন তারা ব্রিকসের দেশগুলোকে নতুন করে চাঁদা বৃদ্ধির সুযোগ করে কিছুটা জায়গা তাদের জন্য দিয়ে দিবেন এবং নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্যই কিছুটা চেষ্টা করবেন। তাই প্রশ্ন হচ্ছে ব্রিকস কি শেষ পর্যন্ত একটি স্বাধীন বিকল্প প্রতিষ্ঠান হিসাবে দাঁড়াবে নাকি ব্রিকসের শক্তিশালী দেশের সাথে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে একটি দর কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত হবে। ভবিষ্যতে যাই হোক না কেন আমরা কিন্তু একটা অন্তর্বর্তীকালীন অনুকূল পরিবেশ পাবো। ইতিমধ্যেই তা পেতে শুরু করেছি। বিশ্বব্যাংক আমাদের পদ্মা সেতু নির্মাণের ঋণ প্রদান স্থগিত করে দিয়েছিল, আমরা ঘোষণা করেছিলাম আমরা নিজেদের টাকাতেই তা তৈরি করবো। এখন চীন দ্বিপাক্ষিকভাবে এর আংশিক অর্থ জোগান দিতে সম্মত হয়েছে। কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে ভারত ও বাংলাদেশকে ছুঁয়ে যে মহাসড়ক নির্মিত হতে চলেছে তা শুধু এই দেশগুলোর মধ্যেও একটি নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থাই গড়ে তুলবে না, গড়ে তুলবে এক নতুন আঞ্চলিক অর্থনীতি। ফুকুআমাকে আমরা এখন ঠাট্টা করে বলতে পারি ইতিহাস শেষ হয়ে যায়নি, ইতিহাস শুরু হচ্ছে। লেখক: অর্থনীতিবিদ