প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০১৪, ২১:১০
প্রশ্নপত্র ফাঁসের
প্রভাব সুদূরপ্রসারী
প্রশ্নপত্র ফাঁস আমাদের দেশ-জাতির জন্য বর্তমানে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি যেন সাধারণ বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। পরীক্ষার পূর্বে পাওয়া প্রশ্ন দিয়েই পরীক্ষায় অবতীর্ণ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এর ফলে প্রকৃত মেধাবীরা আশাহত হয়ে পড়ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সরকার চাইলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে পারে। এজন্য দরকার সদিচ্ছা আর আন্তরিকতা। তবে সরকারের পাশাপাশি শিক্ষিত বিপুল জনগোষ্ঠীকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ঘৃণা করতে হবে এবং তা থেকে পরিত্রাণে সকলকে একযোগে করতে হবে।
সাইদুর রহমান
এমএস ইন অ্যাকোয়াকালচার
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে
প্রকৃত মেধাবীরা ক্ষতির
সম্মুখীন হচ্ছে
বর্তমান সময়ে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস যেভাবে হচ্ছে, এর কারণে প্রকৃত মেধাবীরা নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা হয়ে পড়ছে হতাশ। এর কারণে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা ফাঁসকৃত প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষায় জিপিএ-৫সহ ভাল ফল করছে। এতে পাসের হার বেশি দেখা গেলেও প্রকৃত শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে দেশ-জাতি একদিকে যেমন মেধাশূন্যতার দিকে যাচ্ছে, তেমনি এভাবে পাসকৃত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনে চাকরি করতে গিয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারবে না। তাই সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের আশায় বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস রোধ এবং সেইসাথে এ কাজে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
আব্দুস সালাম সাগর
এমএস ইন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁস যেভাবেই হোক রোধ
করতে হবে
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস! এটি দু’তিন বছর ধরে কেবল শুনেই আসছিলাম কিন্তু প্রত্যক্ষ করলাম এবার যখন এইচএসসি পরীক্ষা দিলাম। প্রত্যেক শিক্ষাবোর্ডের চেয়্যারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিক চাপকে তুচ্ছ মনে করে সত্-সাহসে সাহসী হয় তবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে রেহাই পাওয়া যাবে বলে আশা করি। এবং যারা পরীক্ষা কক্ষে আবশ্যকভাবে নকল বিক্রি করে তাদেরকে হাতে-নাতে ধরে শাস্তিসহ জনসমক্ষে উপস্থাপন করাই হবে এর প্রতিকারের অন্যতম একটা উপায়।
মু. মিজানুর রহমান মিজান
এইসএসসি পরীক্ষার্থী (২০১৪, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা)
আবদুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজ, বাউফল, পটুয়াখালী।
০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে
আইনের কঠোরতা
ছাড়া আর কি করা যায়
প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আমাদের দেশে চুরি বা দুনীর্তির মধ্যে মহান হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি পাবলিক পরীক্ষায় খুবই নরমাল বিষয় হয়ে গেছে। কারণ আমরা সয়ে নিয়েছি। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এ আইনের প্রয়োগ কঠোরতর হতে হবে। প্রযুক্তি যতই ব্যবহার করুন না কেন। মনে রাখবেন প্রযুক্তি ব্যবহার করেই অনৈতিক কাজ করা সহজ। সবসময়ই কেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল হোতা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়? তাহলে কি ধরে নেব তারা মন্ত্রণালয়ের বা মাননীয় মন্ত্রীর আশপাশের লোক? মাননীয় মন্ত্রী আইনের প্রয়োগ কঠোর করুন। অযথা কম সময়ে পরীক্ষা নিয়েও দেখবেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছেই।
মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ
৩য় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০
লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস
হলে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের
পদত্যাগ করা উচিত
প্রশ্নপত্র ফাঁস। তাজ্জব ব্যাপার! এটি বাংলাদেশে একনাগাড়ে ঘটেই চলছে। ট্রেনও তো মাঝে-মধ্যে যাত্রাবিরতি করে কিন্তু এ অন্যায়ের কোন বিরতি নেই। সবসময়ই মূল অন্যায়কারী ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। কিন্তু কেন? এ প্রশ্ন আমাদের সবার। তবে উত্তর কোথায়? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী অনেক সজ্জন ব্যক্তি। তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিন্তু অপরাধীরা যেন লুকোচুরি খেলছে। এত বড় বড় অপরাধের পরও অপরাধী ধরা পড়ে কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধী ধরা পড়ছে না কেন? তাদের হাতে এমন কি আলাদিনের চেরাগ আছে! যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা না যায় বা যদি মূল অপরাধী না ধরা পড়ে তাহলে যিনি দায়িত্বে আছেন তার অবসর নেয়া উচিত বলে মনে করি।
মু. শহিদুল্লাহ
৪র্থ বর্ষ, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ
পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ।