শ্রমবিরোধ

তোবা গার্মেন্টস

‘আমরণ অনশনের’ সাথে মরণের একটি স্পষ্ট আশঙ্কা জড়িয়ে আছে। যদি, দাবি না মানা হয় অথবা বিলম্বে মানা হয়, যদি দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান বজায় থাকে, তাহলে অনশনে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের ষোলশ’ শ্রমিককে আজ অনশনের মাধ্যমে মৃত্যুর আশঙ্কার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। গত বছর রানা প্লাজা ভবন ধসে মুহূর্তের মধ্যে বারোশ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ভবনের মালিক সোহেল রানার কারণেই একসাথে এতগুলো মানুষ সেদিন মৃত্যুবরণ করেছিল। এই ঘটনাকে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ৮ জুলাইয়ের পর থেকে গত ২৭ দিনে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের ওপর সমুদ্র, আকাশ ও ভূমি থেকে বোমা, কামানের গোলা ইত্যাদি নিক্ষেপ করে ইসরাইল ১৫শ’র বেশি শিশু, নারী, পুরুষ, বৃদ্ধকে হত্যা করেছে। এই ঘটনাকেও গণহত্যা বলে অবিহিত করা হয়েছে। ঢাকায় তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের ৫টি কারখানার ষোলশ’ শ্রমিক পাক্কা তিনমাস ধরে তাদের বেতন-ভাতার সামান্য কপর্দকও পায়নি। ঈদের আগে পাওনা টাকা থেকে বঞ্চিত থাকায় ঈদ তাদের কাছে জঠর-জ্বালার এক নিরানন্দ বেদনার দিন হিসেবে দেখা দিয়েছিল। এই যন্ত্রণাকাতর শ্রমিকরা ন্যূনতম আনন্দের সাথে ঈদ করার সুযোগ থেকে নিষ্ঠুরভাবে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য তারা সংগ্রামে নামতে বাধ্য হয়। চাঁদ রাতের সন্ধ্যা থেকে আমরণ অনশনের পথ গ্রহণ করে তোবার শ্রমিকরা। ২৪, ৪৮, ৭২, ৯৬, ১২০, ১৪৪ ঘণ্টা একনাগাড়ে না খেয়ে থাকায় তারা দলে দলে অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেছে। এই সময়ের মধ্যে সরকার বা বিজিএমইএ’র কেউই তাদের ভাল-মন্দের কোনো খবর নেয়নি। শ্রমিকরা না খেয়ে মরছে আর তারা সবাই বিলাসিতার সাথে ঈদের আনন্দ করে বেড়িয়েছে। অবস্থা এভাবে চলতে থাকার অর্থ ষোলশ’ শ্রমিককে ক্রমে ক্রমে অবধারিত মৃত্যুর পথে ধাবিত হওয়া। অথচ সরকার, মালিক ও বিজিএমইএ সম্পূর্ণ নির্বিকার। আজ এভাবে তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের ষোলশ’ শ্রমিককে ‘অনশনের ধীর মৃত্যুর’ দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এটিও একটি ‘সম্ভাব্য গণগত্যার’ ঘটনা। তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের ষোল শ’ শ্রমিক আমরণ অনশনের পথে গিয়েছে মালিকের কাছ থেকে ভিক্ষা চাওয়ার জন্য নয়। কিংবা মালিকের সম্পদ লুটে নিয়ে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে খাওয়ার জন্যও নয়। তারা এই পথে গিয়েছে তাদের তিনমাস ধরে ‘মাথার ঘাম পায়ে ফেলা’ শ্রমের পাওনা মজুরির জন্য। একজন বিত্তবান ধনী ব্যক্তি যদি তিনমাস কেন, তিন বছরও কোনো আয় না করতে পারেন তাতেও তার আয়েশী জীবনে কোনো আঁচড় লাগে না। কিন্তু মজুরির টাকায় ঘাটতি-বাজেটে সংসার চালানো গার্মেন্ট শ্রমিক যদি এক মাসও ঠিকমতো মজুরি না পায় তাহলে তার বেঁচে থাকাই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে চারমাস মজুরি না পেলে তাদের বেঁচে থাকা যে এমনিতেই প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে, তা অনুমান করতে কষ্ট হয় না। এর মাঝে ঈদ-পার্বণ এসে পড়ায় তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের শ্রমিকদের অসহায়ত্বের সেই যন্ত্রণা আরো তীব্র হয়ে উঠেছিল। শ্রমিক নিতান্তই বাঁচার তাগিদে আমরণ অনশনের পথ নিয়েছিল। ‘কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কীসে, কভু আশিবীষে দংশেনি যারে’! শ্রমিকদের আমরণ অনশনের কর্মসূচী ছিল যুক্তিসঙ্গত এবং ন্যায়সম্মত। আগে তোবা গার্মেন্টস-এর শ্রমিকদেরকে নিয়মিত মজুরি পরিশোধ করা হলেও এপ্রিল মাস থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। শ্রমিকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে কারখানা ব্যবস্থাপক ১৭ মে তারিখে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, এপ্রিল ২০১৪ মাসের বেতন ২০ মে এবং মে মাসের বেতন ১০ জুন তারিখের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। প্রতিশ্রুত তারিখে এপ্রিল ও মে মাসের মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। সেই অবস্থায় ৬ জুন তারিখে বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি, ৫টি কারখানা গ্রুপের পক্ষে চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার মিতার নেতৃত্বে কারখানা কর্তৃপক্ষের ৫ জন ও শ্রমিক পক্ষের ৮ জন মিলে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তিতে মে মাসের মজুরি ৩ জুলাই, জুন মাসের মজুরি ১৫ জুলাই এবং ঈদ বোনাসসহ জুলাই মাসের ১৫ দিনের মজুরি ২৬ জুলাই প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল। চুক্তিতে বলা হয়েছিল যে, ২৭ জুন থেকে শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাবে। তবে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ৩ জুলাই জামিন না পেলে ৫ জুলাই সভা করে কারখানা পরিচালনার বিষয়ে ‘পরবর্তী’ সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।অর্থাত্ জামিন পাওয়া না পাওয়ার উপর ‘পূর্ববর্তী’ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নির্ভরশীল হবে না। এই চুক্তিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। তা না হওয়ার কারণে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কারখানাসমূহের মালিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবস্থাপক বরাবর শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ না করায় কেন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য ৭ জুলাই একটি নোটিস প্রেরণ করেছিল। কানে কানে এরকম কথা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল যে, তোবা গ্রুপের কাছে টাকা না থাকায় তারা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি (যার পরিমাণ হবে ৪/৫ কোটি টাকার মতো) পরিশোধ করতে অপারগ। এ কথা বিশ্বাস করা যায় না। কারণ সম্প্রতি শুধু বিশ্বকাপ ফুটবলের জার্সি তৈরি করেই তোবা গ্রুপ ২৬ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে বলে জানা গেছে। তা থেকে বকেয়া মজুরি বাবদ ৪/৫ কোটি টাকা দেয়াটা তেমন বড় কী কথা! এমন যুক্তিও সামনে আনার চেষ্টা হয়েছিল যে, তোবা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব দেলোয়ার জেলে থাকায় এবং জামিন না পাওয়ায় শ্রমিকের পাওনা মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি নিতান্তই খোঁড়া যুক্তি। ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জেলে রেখে যদি কারখানায় উত্পাদন চলতে পারে, ২৬ কোটি টাকা মূল্যের বিশ্বকাপ ফুটবলের জার্সি তৈরি হতে পারে, সব আমদানি-রপ্তানির পেমেন্ট চালু থাকতে পারে- তাহলে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি কেন পরিশোধ করা অসম্ভব হবে। জেলখানায় আটক তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই দেলোয়ার সাহেবটি আসলে কে? তিনিই সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন গার্মেন্টস-এর কুখ্যাত খুনি মালিক। তারই ‘জেনে-শুনে করা অবহেলায়’ ২০১২ সালের নভেম্বরে এই তাজরিন কারখানায় আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে ১১২জন (আমাদের হিসেবে ১২১জন) শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছিল। এ ছিল এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। তাজরিন কারখানায় সেই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী হলো তোবা গ্রুপের মালিক সেই জনাব দেলোয়ার। হত্যাকারী হিসেবে খুনি দোলোয়ারের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড সব মহল থেকে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু তাকে রক্ষা করার চেষ্টাও কোনো কোনো মহল চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাকে আপাতত জামিনে বের করে আনার চেষ্টা চালানো হয়েছে। জামিন পাওয়ার অজুহাত তৈরির জন্য শ্রমিকদের বেতন ভাতা দেয়া বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। খুনি দোলোয়ারের জামিন পাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ষোলশ’ শ্রমিকের জীবনকে ‘কামানের খোরাকে’ পরিণত করে তাদের জীবনকে এভাবে জিম্মি করা হয়েছে। শ্রমিকদেরকে বঞ্চিত করে তাদেরকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়ে এখন বলা হচ্ছে-শ্রমিকদেরকে আমিই বাঁচাতে পারি। তাদের বকেয়া পরিশোধ আমি করবো, তবে সেজন্য খুনি হওয়া সত্ত্বেও আমাকে জামিন দিয়ে মুক্ত করে দাও। এই ষড়যন্ত্রের খেলা সম্পর্কে তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের শ্রমিকদের সাথে আমি সরাসরি কথা বলে দেখেছি। তারা স্পষ্ট বলেছে যে, তারা যেমন তাদের বকেয়া পাওনা চায়, তেমনি তারা চায় যে, তাজরিন গার্মেন্টস-এর ১১২ জন মানুষের হত্যাকারীর বিচার ও ফাঁসি হোক। মালিকের কয়েকজন দালাল ‘নেতা’ শুরুর দিকে দাবি তুলেছিল যে, ‘হয় আমাদের পাওনা দাও, নয়তো মালিককে ফিরিয়ে দাও’। শ্রমিকরা এই শ্লোগানকে সাথে সাথে প্রত্যাখ্যান করে দালালদের বিতাড়িত করেছিল। শ্রমিকদের মধ্য থেকে যুক্তিসঙ্গতভাবেই আজ একথা উঠেছে যে, একজন শ্রমিক যদি তার জন্য নির্ধারিত কাজ না করে তাহলে তাকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়। যদি তাই হয়, তাহলে মালিক যদি তার জন্য নির্ধারিত একটি প্রধান কাজ, তথা শ্রমিকদের মজুরি যথাসময়ে পরিশোধ করার কাজটি না করে, তাহলে তার মালিকানা কেন বাতিল করা হবে না? সমাজতন্ত্রের কথা না হয় বাদই দিলাম, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতেও যথাসময়ে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ একটি অত্যাবশ্যকীয় কাজ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বিনা পয়সায় কোনো পণ্য (যা বাজারের কেনা বেচার সামগ্রী) পওয়ার উপায় নেই। চাল-ডাল-আলু-পটল, ইট-কাঠ-জমি-জমা, জামা-কাপড়-ঘর-বাড়ি-আসবাব ইত্যাদি সব কিছুই দাম দিয়ে কিনতে হয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকের শ্রম-শক্তিও তদ্রূপ একটি পণ্য। তাহলে শ্রমিকের শ্রম-শক্তির দাম কেন যথাসময়ে পরিশোধ করা হবে না? তাছাড়া, যথাসময়ে মজুরি পরিশোধের বিষয়টি একটি মানবিক ও নৈতিকতার বিষয়ও বটে। অধিকন্তু, ইসলাম ধর্মে কী এই মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই যে, ‘মজুরের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক মিটিয়ে দাও’? কিন্তু লুটেরা শোষকদের কাছে মানবিকতা, নৈতিকতা, ধর্মের নির্দেশনা ইত্যাদির চেয়ে বড় বিষয় হলো মুনাফার লালসা। দেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের লক্ষ্য কী হবে সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, ‘(রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে) (ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় শিক্ষা ও চিকিত্সাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা; (খ) কর্মের অধিকার অর্থাত্ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরির বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার নিশ্চিত করা’। তাহলে বলা যেতে পারে যে, ৪ মাস ধরে প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কোনো দায়িত্ব নেই মোটেও তা বলা যায় না। মালিকের কাছ থেকে তা আদায় করতে না পারলে রাষ্ট্রের তহবিল থেকে সে পাওনা পরিশোধ করাটাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত। ঈদের আগেই প্রধানমন্ত্রীর জরুরী ত্রাণ তহবিল থেকে ৪/৫ কোটি টাকা তোবা গ্রুপের গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাওনা মেটানোর জন্য বরাদ্দ করা কি উচিত ছিল না? অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে আমরা শুনেছি যে, ৪ হাজার কোটি টাকা নাকি কোনো টাকাই না। তাহলে মাত্র ৪/৫ কোটি টাকা তো সে তুলনায় হাতের ময়লা মাত্র! এই সামান্য ক’টি টাকা বরাদ্দ হলেই চাঁদ রাত থেকে শুরু হওয়া অমানবিক আমরণ অনশন পরিহার করা যেত। যে টাকা পরে মালিকের কাছ থেকে উসুল করে নেয়া যেত। ষোলশ’ শ্রমিককে অনশনে রেখে দেশের অন্য কোনো ‘প্রকৃত মানুষের’ পক্ষে কি ঈদের আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব হতে পারে? বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে অনশনের তৃতীয় দিনে বলা হয়েছিল যে, তারা নাকি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়। তাই শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা অপরিশোধিত হয়ে থাকলে তা নিয়ে তাদের নাকি কিছুই করার নেই। অথচ বিজিএমইএ-এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন লেবারের চেয়ারম্যান জনাম আব্দুল আহাদ আনসারির সভাপতিত্বে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকেই মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তিতে তিনিও স্বাক্ষর করেছিলেন। মালিক পক্ষ সেই চুক্তি যদি ভঙ্গ করে থাকে তাহলে বিজিএমইএ কি হাত গুটিয়ে রেখে বলতে পারে যে, আমাদের কিছুই করার নেই? তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের মালিক যদি তার শিল্প প্রতিষ্ঠান চালাতে অপারগ হয়, তাহলে মালিক কর্তৃক পরিত্যক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের গতি কী হওয়া উচিত? এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে মুক্তিযুদ্ধের পর পাঞ্জাবী মালিকরা তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিত্যাগ করে চলে যাওয়ায় সেগুলোর ক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল সেই পদক্ষেপের মাঝে। মুক্তিযুদ্ধের পর মালিক কর্তৃক পরিত্যক্ত কল-কারখানা সরকার অধিগ্রহণ করে নিয়েছিল। সেগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পরিচালনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আজ কার্যত পরিত্যক্ত। মালিক ৪ মাস ধরে শ্রমিকদের মজুরি দিচ্ছে না। শ্রমিকদেরকে যথাসময়ে মজুরি পরিশোধ করতে না পারাকে মালিক কর্তৃক কারখানা পরিত্যাগ করে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। এই অবস্থায় এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সরকার অধিগ্রহণ করে নেয়াটাই যুক্তিযুক্ত। এটি তোবা গার্মেন্টস গ্রুপের ক্ষেত্রে যেমন প্রয়োগ করতে হবে, তেমনি তা এ ধরনের অন্য যে কোনো কারখানার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় মুনাফার লালসায় দানবীয় হয়ে ওঠা এক শ্রেণির লুটেরা কর্তৃক ‘ঈদের আনন্দ দিনে শ্রমিকদের আমরণ অনশনে বাধ্য করার’ মতো অমানবিক কাজ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে না। লেখক :সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি e-mail: selimcpb@yahoo.com