আন্দোলনের এপিঠ-ওপিঠ

খুব গর্জাচ্ছে আন্দোলনের মাঠ। বর্ষার ফাঁকে তীব্র ও ঝাঁজালো রোদের মতো। ঈদ-পরবর্তী কর্মে ফেরা মানুষের ভেতরে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। যদিও বিরোধী পক্ষ ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলন হবে অহিংস। অপরদিকে সরকারের কেউ কেউ বলছেন সহিংস হলে তেমন ব্যবস্থা। কিংবা আন্দোলনের মাঠ কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না। খবরের এসব প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষ কী ভাবছে? মিডিয়ার প্রচারে খবরের প্রসারে যে উত্তাপ জনমনে তৈরি হয়েছে—তা এখন সংক্রমিত চতুর্দিকে। আর্থ-সমাজ কাঠামোর সব ক্ষেত্রে। সরকারি-বেসরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত পর্যায়ের কর্মজীবীদের মধ্যেও। নাগরিক জীবনকে এক ধরনের টেনশন দেয়, সেভাবে মনোজগতের দিকনির্দেশনা কিংবা ভাবনা ও চিন্তার রূপায়ণ তৈরি হয়। এখন প্রশ্ন, বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত নাগরিক জীবন কীরূপে স্বস্তিতে থাকবে! একটি সুস্থ রাজনীতি কীভাবে এ জীবনকে নিশ্চয়তা ও নিরাপদ করতে পারে। বর্তমানে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে কী কোনো সমঝোতা বা সুরাহার পথ তৈরি হয়েছে? সরকার ক্ষমতায় থেকে জননিরাপত্তার দায় কাঁধে নিয়ে বিরোধীদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি কতোটুকু আমলে নেবে এবং পজেটিভ অবস্থান ও পরিবেশের দিকে তাদের ভূমিকা কেমন হবে— কেউ কী তা জানে! বিশেষ করে ঈদের আগে ইংল্যান্ডে গার্লস সামিটে যোগদান শেষে প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলন এবং বিরোধীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কতোটুকু বাস্তবসম্মত এবং জাতীয় স্বার্থের অনুগামী— দেশের সাধারণ মানুষ তা কীভাবে গ্রহণ করেছে— তা খতিয়ে দেখার অবকাশ আছে। সরকার ও বিরোধী শিবিরের এই সাজ সাজ উত্তেজনার আসল সত্যটুকু কী! কারো কী সত্যিকারের আন্দোলনের প্রস্তুতি আছে? থাকলে তা কেমন। এর প্রস্তুতির সঙ্গে সাধারণ নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততাই বা কতোটুকু! সাধারণ মানুষ এ রাজনীতি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং তা দেশের মোট জনগণের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে কী ভূমিকা রাখছে— ইত্যাদি প্রশ্নের মাঝে বর্তমান আন্দোলন (যদি তা আন্দোলনই হয়) একটি ভিন্ন পিঠে দেখার অবকাশ রয়েছে বৈকি। আর আন্দোলন তৈরি না হলেও তার কারণটিও খুঁজে দেখা দরকার। কারণ, গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজনীতির সুস্থতা ও সহনশীলতা দরকার। সাংবিধানিক আস্থাটুকু উভয়ের মধ্যে তৈরি হওয়া আবশ্যক। আর তা তৈরি হতে পারে তৃণমূল থেকে। রাজনীতি ছাড়া কী দেশ এগুবে, ক্রিয়েটিভ প্রযুক্তি কিংবা উন্নত রাষ্ট্রও তো প্রত্যাশা করা যাবে না! চলমান সমাজে রাজনীতিশূন্য মানুষ যেমন নেই তেমনি রাজনীতি ছাড়া রাষ্ট্রও হয় না, জাতির সম্মুখে এগুনোর পথও কখনো হবে না অবমুক্ত। স্মরণে রাখতে চাই, বিশেষ আন্দোলনের ডাকে রাজনীতি হঠাত্ যেমন জেগে ওঠে না তেমনি সেরকম হঠকারী রাজনীতি রাষ্ট্রের জন্যও সঠিক কিছু দিতে পারে না। তাই রাজনীতি ও রাজনৈতিক আন্দোলন নিছক ডাক দেয়া বা বিবৃতি-পাল্টা বিবৃতির অনুবৃত্তি নয়— একে চালনা করতে হবে টোটাল জনসম্পৃক্ততার বিন্যাসের ভেতর দিয়ে। সেটি স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক শেপ (shape) পাবে সম্মিলিত শক্তি অর্জনের ভেতর দিয়ে। নিশ্চয়ই এক্ষেত্রে উদাহরণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কিংবা নব্বুইয়ের গণআন্দোলন। যেখানে জনশক্তিই ছিল মুখ্য। তাই বলি, বর্তমান এই আন্দোলন ও তার পরিপ্রেক্ষিতটুকু কী জনসম্পৃক্ততার সঙ্গে সম্পর্কিত? উপরের অনেকরকম প্রশ্নের ভেতরে এখন একটি জিনিস তো সত্য, গত জানুয়ারিতে যে সাংবিধানিক নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে তাতে জনসম্পৃক্ততা লক্ষণীয় মাত্রার ছিল না। বিশেষ করে অনেক আসনেই যখন নির্বাচনের প্রয়োজন হয় না, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যখন প্রার্থীগণ নির্বাচিত হয়ে আসেন তখন সেই কনস্টিটিউয়েন্সির ভোটারগণ একপ্রকার অতৃপ্তিতে থাকেন। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিটিও অস্বস্তিতে পড়েন, জনগণের সামনে নানাভাবে হীনমন্যতায় ভোগেন। এটি একটি অনস্বীকার্য সত্য। সে সত্যটি অনেকবারই সাংবাদিকদের কাছে প্রধানমন্ত্রীও অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, কেউ না আসলে আমরা কী করবো! ভোট তো করতে হবে। ভোট না হলে তো দেশটা থাইল্যান্ডে পরিণত হবে। আর নির্বাচন ছাড়া আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। নির্বাচন হয়ে এদেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে। এটা বিরোধীদের ভালো লাগে না। ঈদের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেননি। তারা নির্বাচনী ট্রেন ফেল করেছেন আবার আরেকটা ট্রেন কখন আসে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কথাগুলোর ভেতরে আক্ষরিক সততা আছে কিন্তু অভ্যন্তরীণ শক্তি কী শক্তিশালী! সরকার বলেছে তাদের দল মাঠে থাকবে। মাঠে তাদের দল কীভাবে আছে! আসলেই কী মাঠ তৈরি— মাঠ পর্যায়ের নেতারা কী রাজনীতি করছেন, কোন্ ধরনের রাজনীতি করছেন— তা দেশের মানুষের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে। জানে না! অপর পিঠে বিরোধীদের অবস্থা তো আরও কঠিন। কোনোরকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কী তারা আছেন? খোদ ঢাকা শহরেই তাদের তো কোনো রাজনৈতিক তত্পরতা চোখে পড়ে না। হুমকি-ধামকি কী কোনো রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে! আজ পর্যন্ত কী তারা বলতে পেরেছেন যে, তাদের কর্মসূচি কী? কোন্্ পথে তারা তাদের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ত করবেন, কী উপায়ে কোন্ এজেন্ডায় তারা আন্দোলনে নামছেন— প্রতিদিন কিছু অর্থহীন প্রলাপ পার্টি অফিসে বসে অনর্গল দিয়ে যাচ্ছেন। এর কোনো সারার্থ আছে বলে তো মনে হয় না। তাহলে এইরূপ অবস্থা যদি রাজনীতির মাঠে চলে তবে কী সত্যিই রাজনীতি আছে না নেই! আমরা জানি, সরকারি দলের রাজনীতির ইতিহাস অনেক পুরনো। তাদের দলে অনেক নেতা-কর্মী আছেন। সময়ের পরিক্রমায় বড় দলে পুরনো নেতাদের জায়গায় আসবেন নতুন নেতারা— এটিই স্বাভাবিক। কর্মী তৈরি হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে। নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হবে জনগণের প্রতি নানাবিধ কর্মপ্রণালীর ভেতর দিয়ে। কী কর্মকাণ্ড করছেন তারা? ক্ষমতায় থেকে রাজনৈতিক এজেন্ডা বা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তারা কতোটুকু সম্পৃক্ত! যেমন অনেক বিষয়ের মধ্যে আইসিটি সেক্টরকে প্রাধান্য মনে করলে সেখানে কাজ করার ইচ্ছে কতোটুকু আছে। তথ্য প্রযুক্তির সম্প্রসারণে ব্রড ব্র্যান্ড-এর কার্যক্রম এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এই সুবিধাটুকু পেলে তারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হতে পারে। ‘ভিশন ২০২১’ তো শুধু মৌখিক কথার ফুলঝুরি নয়, এর পেছনে কাজ করার আছে— সেজন্য প্রযুক্তির অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে ব্রড ব্রান্ড সুবিধা অন্যতম। এ পর্যায়ে আর্থিক আনুকূল্য যেমনই হোক কাজটি সম্পন্ন হলে কয়েকগুণ বেশি সাফল্য আসতে পারে এই সেক্টরে। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করার কার্যক্রমে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তৃণমূল পর্যায়ে এটি পৌঁছাতে সক্ষম হলে আমাদের নতুন প্রজন্মের চাহিদা অনেকাংশে পূর্ণ হবে। এ বিষয়ে সরকারের যে কোনো পদক্ষেপ অবশ্যই ইতিবাচক। বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় আনলে গ্রামপর্যায়ে একধরনের চাঞ্চল্যও সৃষ্টি হতে পারে। সরকারি দল এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তরুণ নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে এর ভেতর দিয়েই গড়ে উঠতে পারে তাদের দক্ষ নেতৃত্ব। দু’একটি এলাকায় এ কাজের উদ্বোধন হলেও তা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় ঢোকার আগেই তা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। একটি প্রজেক্ট হাতে নেবার আগেই যদি ব্যক্তির লাভালাভ বা আর্থিক লালসার ঘেরাটোপে পড়ে তাহলে সেটি আলোর মুখ দেখবে কী করে! এতে দেশ উপকৃত হয় কী? বর্তমানের রাজনৈতিক শূন্যতার যে কথা শোনা যাচ্ছে— তার কারণ অনৈতিক পুঁজির দাপট ও অন্যায্য আকাঙ্ক্ষার অসুস্থ প্রতিযোগিতার ধান্দা। যেখানে রাজনৈতিক চেতনার লুণ্ঠন চলতে থাকে। সৃষ্টি হয় অনাস্থা। এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের বিষয় নয়। এ প্রতিযোগিতা প্রকাশ্যে চলছে বলেই কোনো সৃষ্টিশীল রাজনীতি হচ্ছে না। এমনকি কোনো মেধাবী বা শিক্ষিত মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থাও রাখতে পারছে না। রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিচ্ছে না। মেধাবী ছাত্ররাও হয়ে উঠছে রাজনীতির প্রতি নিরাসক্ত। সরকারি বা বিরোধী যে দলই হোক রাজনীতির ভেতরে যে দূষিত রক্ত ঢুকে পড়েছে তার শুদ্ধিকরণ জরুরি। আর এর ভেতরেই যৌক্তিক রাজনীতি পথ খুেঁজ পাবে। রাজনীতি এবং আন্দোলন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাদা চোখে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ এখন মোটা ভাত কাপড়ের চাহিদা মিটিয়ে উন্নত জীবনযাত্রার স্বপ্ন দেখছে। এক্ষেত্রে গার্মেন্টস সেক্টরের সাফল্যের কথা আমরা জানি। প্রাইভেট সেক্টরেও সাফল্য কম নয়। গ্রামের তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এতে প্রতিদিন সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। তারা অহিংস-সহিংস বোঝে না। সহিংসতা মোকাবেলার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সহিংস কিছু না হয় সেজন্য সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। আবার অহিংস আন্দোলনের কথা বলে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে যদি বিনষ্টি আসে কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হয়— সে আন্দোলনে মানুষের সম্পৃক্ততা থাকবে না। তাতে অনাস্থাই শুধু বাড়বে। রাজনীতি হয়ে পড়বে পথহারা। এক্ষেত্রে জন-সম্পৃক্তির ইতিবাচক সূত্র খুঁজে বের করা দরকার। অতীতের ন্যায় জ্বালাও-পোড়াও বা অশান্তি কিংবা মানুষ জিম্মিকরণের রাজনীতি কেউ সমর্থন দেবে না। তাত্ক্ষণিক লাভালাভের ফলও তাতে আসবে না। সুদূরপ্রসারী ফল তো দূরের কথা। আন্দোলনের সঙ্গে উঠতি প্রজন্মের সম্পৃক্ততা দরকার। কিন্তু তারা যদি মেধাহীন দুর্বল ও আবেগনির্ভর হয় তাহলে সবকিছু ব্যর্থতার দায় অথর্ব নেতৃত্বের হাতেই পড়ে। যেটি মাঝে মাঝেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেকার, কর্মহীন তরুণদের হাতে অস্ত্র কিংবা বিস্ফোরক দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের রাজনীতি চলছে। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়াটে হিসেবেও তারা কাজ করে। সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন পন্থায় এদের পোষাও হয়। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে এ ধরনের রাজনীতির অপশক্তি সৃষ্টি কিংবা তার অপব্যবহার কুপ্রভাব চলবে কতোকাল! সেখান থেকে মুক্তির উপায় কী! ইতিমধ্যেই সে সিগন্যাল এদেশের মানুষ দিয়ে দিয়েছে। অপ-রাজনীতির কূটচালের পাঁকে তারা আর নেই। সেজন্য সহনশীলতার শক্তি চাই, তারই চর্চা হোক। ভোগান্তি বা দুর্ভোগ বিলীন হোক, স্বস্তি ও স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ চলতে থাকুক। একইভাবে সরকার যেন বেপরোয়া ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়। অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ সরকারে আছেন তারা নিয়ন্ত্রণে নেবেন বিব্রতকর যেকোনো পরিস্থিতি। রাজনীতি যেন স্বাভাবিক নিয়মে চলে, জনমনে ফিরে আসে যেন রাজনৈতিক আস্থা, স্বস্তি যেন বিপন্ন না হয়, সেটিই সবার কাম্য। সাংবিধানিকভাবে শপথ নেয়া সরকারের স্বেচ্ছাচারি হওয়া নয়, গণতন্ত্র ও ন্যূনতম মানবাধিকার কায়েম করা অন্যতম কাজ। ভয় বা আশঙ্কার যেমন কিছু নেই তেমনি আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ারও অবকাশ নেই। জুজুর ভয় নয়, আইনের শাসন যাতে অটুট থাকে— সেটিই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাতে গণতন্ত্র লাভবান হবে, ভবিষ্যতের জন্য বইবে স্বস্তির সুবাতাস। ভয়ভীতি, আপত্তিমূলক বক্তৃতা, বিবৃতি-পাল্টাবিবৃতি পরিবেশকেই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত করবে, সকলকে আতঙ্কগ্রস্তই করে তুলবে— সঠিক রাজনীতি তাতে হয় না। পৃথিবী জুড়ে মানবতার বিরুদ্ধে যে নির্মম রাজনীতি চলছে, মানবের যে অপমৃত্যু চলছে— সেটাতেও রাজনীতিবিদদের নিরহঙ্কার হলে কী চলে! চলে না। উদাহরণস্বরূপ গাজা হত্যাকাণ্ডের যে রথ আমরা দেখতে পাচ্ছি তাতে বড় দলগুলো কাউকেই তেমন সোচ্চার হতে দেখা যায় না কিন্তু বিপরীতে প্রতিনিয়ত আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে হুমকি চলছে, রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এদেশের জনগণ রাজনীতির এ দেউলিয়াপনার অবসান চায়। অনেক বেশি পরিমাণে শ্রম দিয়ে এখন এদেশের জনগণ নিজেদের এগিয়ে নিচ্ছে। দেশের ভালোবাসাটুকু অটুট রেখে বিশ্বমানবতার কাতারে তারা নিজেদের শামিল করতে চায়। এটা নিশ্চয়ই তো বেশি কোনো চাওয়া নয়! লেখক : অধ্যাপক , রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় shiqbal70@gmail.com