আলোকপাত
চাই কাজের প্রতি ভালোবাসা
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৪, ২০:৩৪
কেউ যদি কোন বিষয়ে সফলতা অর্জন করতে চায় তবে অবশ্যই তাকে দক্ষ হতে হবে। যার দৌড়ানোর তেমন কোন দক্ষতা নেই সে প্রথম প্রতিযোগিতাতেই অলিম্পিক দৌড় প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হতে পারবে না। যদি সে অলিম্পিক দৌড় প্রতিযোগিতায় গোল্ড মেডেল পেতে চায়, তবে অবশ্যই তাকে প্রচুর পরিশ্রম করে আগে দক্ষ হতে হবে। কিন্তু সবাই কি সব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারে? পারে না। কারণ সবার সব বিষয়ে ভালোবাসা নেই, তাই। ভালোবাসা না থাকলে দক্ষ হতে পারবে না কেন? কারণ কোন বিষয়ে দক্ষ হতে হলে প্রচুর কাজ করা একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত। আর মানুষ যে বিষয়কে ভালো বাসে না, সে বিষয়ে বেশি কাজ করতে পারে না। তবে যদি ঘৃণা-ভালোবাসা কোনটাই না থাকে তবে অনেক সময় দেখা যায় কাজ করতে করতে এক সময় দেহ-মনে আসক্তি সৃষ্টি হয়। এই আসক্তি সৃষ্টি হলেও দক্ষ হওয়া সম্ভব। তবে কাজকে যে ভালোবাসে তার মত হওয়া সম্ভব নয়। কারণ যে কাজকে ভালোবাসে সে বুঝেই না যে সে কাজ করছে। কাজ হয় তার বিনোদন বা আনন্দ।
যে ব্যক্তি পড়াশুনা করতে ভালোবাসে সে প্রচুর পড়াশুনা করে। তাই তার পক্ষে পড়াশুনা বিষয়ে বড় কিছু করা সম্ভব হয়। কিন্তু তার মধ্যে খেলাধুলা করার প্রতি ভালোবাসা নাও থাকতে পারে। যদি না থাকে এবং তাকে খেলাধুলা করতে বাধ্য করা হয় তবে তার দ্বারা কখনোই ভালো খেলোয়াড় হওয়া সম্ভব নয়। কারণ সে খেলাধুলায় খুব বেশি পরিশ্রম করতে পারবে না। মাঝে মাঝে খেলবে এবং বাকি সময় নিজের খুশিমত কাজ করে পার করে দেবে। আবার খেলাধুলা করা পছন্দ করলেও যে খেলাটি পছন্দ করবে না, যদি সে খেলাটি খেলতে বাধ্য করা হয় তবেও এটা হবে। অনুরূপভাবে একজন ভাল খেলোয়াডের আবার পড়াশুনা করতে ভালো নাও লাগতে পারে।
কাজের প্রতি ভালোবাসা এমন একটি ব্যাপার যা এমনি এমনি সৃষ্টি হয় না। মানুষের দেহ-মনের একটি ধরন হচ্ছে তার ব্রেনে যদি কোন কিছুর ব্যাপারে ভালো কথা যায়, তবে সে সেটাকে ভালোবাসে এবং তার ব্রেনে যদি কোন ব্যাপারে খারাপ কথা যায় তবে সে তাকে ঘৃণা করে। অর্থাত্ ব্রেনে কী কথা গেলো তার উপর নির্ভর করবে যে, সেই জিনিসটার ব্যাপারে ব্যক্তি কী মনোভাব পোষণ করবে। তাই আমরা যদি কোন কাজ করতে বাধ্য হই তবে আমাদের উচিত সব সময় বলা যে ‘আমি আমার কাজ ভালোবাসি, আমি আমার কাজ ভালোবাসি।’ মনে মনে সব সময় এটা বলতে থাকা। যদি এই প্রক্রিয়া কিছুদিন চলে তবে অদ্ভুত হলেও সত্য যে, সে তার কাজকে ভালোবাসতে শুরু করবে। যদি কোন কাজ নিয়মিত করতে বাধ্য হন এবং সেই কাজটি তার ভালো না লাগে, তবে এই প্রক্রিয়াটি কিছুদিন অনুসরণ করে দেখতে পারেন। একটি উদাহরণ দেয়া যাক, ধরুন কোন ছাত্র বা ছাত্রী পড়াশুনা করতে চায় না। এক কাজ করুন। তাকে পড়াশুনার পাশাপাশি কিছুদিন জোরে জোরে বলতে বলুন ‘আমি পড়াশুনা ভালোবাসি, পড়তে আমার ভালো লাগে’। কিছুদিন তাকে জোরে জোরে শুধু এটা বলতে হবে। ২ বা ৩ মাস পর পড়াশুনা তার কাছে এমনিতেই আনন্দের হয়ে যাবে। এটা একটি সায়েন্টিফিক নিয়ম। আর এটা এখন একটি প্রকাশ্য সত্য যে, সব বিষয়ই ভালো। শুধু প্রয়োজন ভালোভাবে কাজ করার দক্ষতা। আমাদের কাজ ভালোবাসতে হবে, নয়তো কাজের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে হবে। তবেই আমাদের জীবন হয়ে উঠবে আনন্দময়। আর একটি শেষ তথ্য দিয়ে ইতি টানতে চাই। আসলে প্রকৃত আনন্দ কিসে? প্রকৃত আনন্দ ঘুরে বেড়ানোতে নয়, প্রকৃত আনন্দ টিভি-সিনেমা দেখে সময় পার করে দেয়াতে নয়। প্রকৃত আনন্দ হলো নিজের কাজকে ভালোবাসতে পারায়, ভালোবাসার সাথে কাজ করতে পারায় এবং নিজের ভালোবাসার কাজটি করতে পারায়।
লেখক: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী