রাজনীতি

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি আন্দোলন হবে কি

রমজান মাসে বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে অংশ নিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পর সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যে তাঁর দল, ২০ দলীয় জোট এবং জোটের অনুগত পেশাজীবী নেতৃবৃন্দকে আহবান জানিয়েছিলেন। সে জন্যে তিনি দলের ঢাকা মহানগর কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসেন। বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে কখনো বলেছেন সরকার পতনের ডাক দেওয়া হবে অর্থাত্ অন্দোলনটি হবে সরকার পতনের লক্ষ্যে। কখনো বলেছেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার আন্দোলন। কখনো বলেছেন, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন। রমজানে বিএনপি ৬০০০ এর মতো ইফতার পার্টি দিয়েছে এমনটি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার কথা থেকে জানা গেছে। এ সব ইফতার পার্টিতে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী, পেশাজীবীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ৫ জানুয়ারির পর থেকে নেতাকর্মীরা হতাশায় নিশ্চুপ হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে রোজায় ইফতার পার্টি দিয়ে চাঙ্গা করার একটা চেষ্টা হিসেবে রাজনীতির পর্যবেক্ষক মহল এটিকে অভিহিত করেছিল। ঢাকা মহানগর কমিটি নতুনভাবে গঠন করার পর দল থেকে আন্দোলন করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও রাজনীতির যোদ্ধারা আন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষে খুব বেশি আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারেননি। তবে গোটা রমজান মাসেই ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং পত্র পত্রিকায় লেখালেখিতে ঈদের পর দেশে কোনো আন্দোলন বিএনপি অথবা ২০ দলীয় জোট গড়ে তুলতে পারবে কিনা এমন প্রশ্ন নিয়ে এক ধরনের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা বলুন, মাতামাতি বলুন তা ছিল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদের পর দেশে কোনো আন্দোলন হবে কি হবে না এ সব নিয়ে আলোচনা করতে খুব একটা শোনা যায় নি। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও চারদিকের অবস্থার প্রতি গভীর মনোযোগ রেখেছিল, তারাও তেমন কোনো সাড়াশব্দ কোথাও শুনতে পায়নি। অনেকেই তাতে বিস্মিত হয়েছেন, কেউ কেউ চারদিকের অবস্থা দেখে এবং দল ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের আন্দোলনের কথা শুনে হিসাব মেলাতে পারছিলেন না, তাই তারা নীরবতা পালন করার নীতিই বেশি অবলম্বন করেছেন। ঈদের পর আন্দোলন শুরু হবে এমন আহবান বা ঘোষণা নিয়ে রমজান মাসে সাধারণ মানুষ আগ্রহ না দেখানোর কয়েকটি মৌলিক কারণ রয়েছে। প্রথমত রমজান মাসে সাধারণ মানুষ রোজা থাকা, ইফতার আয়োজন, ভালোভাবে ঈদ করা অর্থাত্ ইহকাল ও পরকালের সুখ-শান্তির বিষয় নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে তারা এটিকে ঈদ-উপার্জনের মাস হিসেবে দেখেন। সেভাবে তাদের ব্যস্ততা থাকে। দেশের রাজনীতি, আন্দোলন, নেতৃবৃন্দের কথাবার্তা, এমন কি মিডিয়ায় এ সব নিয়ে যে আলোচনা হয় তা নিয়েও খুব বেশি আগ্রহ দেখায় বলে মনে হয় না। একদিকে উপার্জন, অন্য দিকে কেনাবেচা এ নিয়েই তো বেশির ভাগ মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সুতরাং, রাজনীতি, আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ বা আলোচনার তেমন কোনো বাস্তবতাই চোখে পড়েনি। দ্বিতীয়ত, ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের তত্কালীন ১৮-১৯ দলীয় জোট যে আন্দোলন করেছিল তার ফল কী হয়েছিল তখন সাধারণ মানুষ কী দেখেছিল তা নিয়ে তাদের মধ্যে অসংখ্য প্রশ্ন আছে সেগুলোর উত্তর তারা গত ৮ মাসেও পায়নি। দেশব্যাপী বলতে গেলে গোটা ২০১৩ সালে একের পর এক যা ঘটানো হয়েছিল তা কেন করা হয়েছিল, এটি কেমন আন্দোলন ছিল, তাতে সাধারণ মানুষকে কেন জীবন হারাতে হয়েছিল, সম্পদও হারাতে হয়েছিল, কেন তাদেরকে কর্ম ছাড়া ঘরবন্দী জীবন যাপন করতে বাধ্য করা হয়েছিল, গ্রামাঞ্চলে কেন হাজার হাজার গাছপালা উজাড় করা হয়েছিল, মানুষকে কেন এমন আতঙ্কের মধ্যে রাখা হয়েছিল ইত্যাদি প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। সেই জোটের নেতৃত্ব এখন নতুন কোনো আন্দোলনের কথা শোনালে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে গেল বছরের দুঃসহ স্মৃতির কথা ভেসে ওঠে। এ দেশের মানুষ তো সব সময়ই আন্দোলন দেখে এসেছে, প্রত্যক্ষ ভাবে অংশ না নিলেও সাধারণ মানুষ যৌক্তিক দাবিদাওয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, কখনো কখনো মাঠেও নেমেছে। সুতরাং, বাংলাদেশের সকল প্রজন্মের মানুষই দাবি করতে পারে যে, তার রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠেছে। সে কারণেই বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশের মানুষ তুলনামূলকভাবে রাজনীতি নিয়ে বেশি ভাবেন এবং সচেতনতার পরিচয়ও দিয়ে যাবেন। কিন্তু ২০১৩ সালে তত্কালীন ১৮ দলীয় জোট আন্দোলনের যে স্বরূপটি প্রকাশ করেছে তা সকলের কাছেই ছিল বিস্ময়কর, হতবাক করার মতো, অমানবিক এবং জনবিচ্ছিন্ন করার মতো। সে কারণে মানুষের মধ্যে এক বছর আগের আন্দোলন নিয়ে সৃষ্টি ভীতি, হতাশ, ক্ষোভ কখনো কাটছে না, বিএনপি এবং জামায়াতের সেই আন্দোলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকেই গেছে। সুতরাং, সেই সব প্রশ্নের জবাব না জানা পর্যন্ত নতুন করে কোনো আন্দোলনের কথায় মানুষ কতোটা সায় দেবে তা বোধ হয় ভাবা যাচ্ছে না। তৃতীয়ত, বিএনপি আসলেই তখন নির্বাচনে অংশ নিতে আদৌ আগ্রহী ছিল কিনা, নাকি নির্বাচন প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিয়ে সহিংস পন্থায় চলতে নারাজ ছিল, তখন অনেকের কাছে পরিষ্কার ছিলনা, কিন্তু এখন স্পষ্ট হয়ে ওঠছে। চতুর্থত, একপক্ষ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে প্রতিহত করার জন্যে চোরাগোপ্তা হামল করলেতো কোনো নির্বাচনই শান্তিপূর্ন হতে পারবে না, অংশগ্রহণমূলকও হতে পারবেনা এটি জানা কথা। কিন্তু প্রতিহতকারীদের সকল শক্তি গুটিয়ে দিয়ে যখন নির্বাচনটি তুলে আনা সম্ভব হয় তখন তাকে অবৈধ বলা কতোখানি শাসনতন্ত্র সম্মত দাবি, সেটি ক্রম স্পষ্ট হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের কাছেও। এ ধরনের নির্বাচনের পর যখন কোনো গণ আন্দোলন গড়ে ওঠে না তখন নির্বাচন পূর্ববর্তী আন্দোলন’ জনবিচ্ছিন্ন আন্দোলন রূপেই প্রতিভাত হয়। সেক্ষেত্রে সরকার যদি দেশে এক ধরনের স্বস্তি দিতে পারে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জোরদার করতে পারে, সরকারের গ্রহণযোগ্যতা এবং কর্মতত্পরতা দেশে বিদেশে বাড়িয়ে দিতে পারে তখন মানুষের কাছে এটিকেই গ্রহণ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প চিন্তা থাকে না। বিরোধী দল আসলে ভোটের অধিকার আদায়ের জন্যে তখন আন্দোলন করেছে এমন দাবি ধোপে খুব একটা টেকে না। যদি তারা তা করতো, তা হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে দ্বিধা করার কথা নয়। গণতন্ত্রে নির্বাচন হচ্ছে সরকার পরিবর্তনের বৈধ পন্থা। সেই পন্থায় না গিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করা, দেশে অরাজকতা এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করা এই বিষয়গুলো অগণতান্ত্রিক শক্তির ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ছাড়া আর কিছু হতে পারেনা। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে কারচুপি করে কোনো দলকে হারিয়ে সরকার বা কোনো দল জনগণের মনের আসনে বসতে পারেনা কোনো সরকার বা দলের বিরুদ্ধে এমন মনোভাব বা চেতনাগত অবস্থান তৈরি করা গেলে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্যে আন্দোলনকারী দলকে হাঁকডাক দেওয়া বা হুঙ্কার ছড়াতে হয় না, জনগণই রাস্তায় নেমে আসে। সেটিই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্য নিয়ম। সেই পথ বাদ দিয়ে ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াত যে পথে পা বাড়িয়েছিল তা ছিল অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতার পরিবর্তনের রোড ম্যাপ মনে মনে পোষণ করা— যা জনগণ তখন জানতে পারেনি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ দলীয় জোট নির্বাচন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ না করে, নির্বাচন প্রতিহত করার জন্যে যে পথে পা বাড়িয়েছিল তা কোনো উগ্র ও হঠকারী শক্তিই করতে পারে। সেই উগ্র ও হঠকারী শক্তির মিশন সফল হলে দেশ ৫ জানুয়ারির পর ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে নিপতিত হতো— এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাতে অসংখ্য মানুষের জীবন তথাকথিত ‘বিজয়ী’ শক্তি সংহার করতো, তাদের ‘বিপ্লবের জয়’ বলে যা প্রচার করা হতো। ৫ জানুয়ারির পর যে স্থিতিশীলতা ধীরে ধীরে সর্বত্র ফিরে আসছে— তা যেন হারিয়ে না যায় সেই আশাই মানুষ এখন ভীষণভাবে পোষণ করছে। মানুষ এটিও ভাবছে যে, একাদশ সংসদ নির্বাচন এখনো যথেষ্ট দূরে আছে। সেই নির্বাচন নিয়ে যেন ২০১৩ সালের পরিস্থিতি দেশে আর তৈরি না হয় সে জন্যে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে কথাবর্তা হওয়া দরকার, নির্বাচন কমিশনসহ ভবিষ্যত্ নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো, ক্ষমতা ও দায়িত্ব কেমন হলে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে তা নিয়ে বড় দুই দল এখনই আলোচনা শুরু করতে পারে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ করে এখন আর লাভ হবে না। বিএনপি সেই নির্বাচন নিয়ে আন্দোলনের নামে যা করেছে তাতে আসলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো চরিত্র সংযোজন করতে পারেনি। ফলে এর পরিণতি যা হবার তা হয়েছে— অর্থাত্ ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য বিএনপি ২০১৩ সালের তাদের কর্মসূচির মূল্যায়ন এ পর্যন্ত নৈব্যক্তিকভাবে করেনি। করার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। তদুপরি নতুন করে আন্দোলনের হুমকি বা হুঙ্কার দিয়ে চলছে। যারা রাজনীতির তত্ত্বজ্ঞান এবং বাস্তব জ্ঞান রাখেন তারা সকল দিব্যিজ্ঞান দিয়েই বলে দিতে পারেন, এভাবে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে ওঠার কোনো কারণ নেই। তবে এর ফলে যা হবে তা ২০১৩ সালের মতোই ধ্বংসাত্মক কিছু একটা হবে, তার পরিণতি রাজনীতিতে অশ্বডিম্ব হলেও জনজীবনে বিপর্যই ডেকে নিয়ে আসবে। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বিএনপি ২০১৩ সালে তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য-দ্দেশ্যে ঠিক করতে পারেনি। কখনো বলেছিল যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আন্দোলন করছে, কিন্তু পরক্ষণেই সরকার উত্খাতের কথা বলে। এ কারণেই বিএনপি আন্দোলনের স্বতঃসিদ্ধ কোনো নিয়ম অনুসরণ করেনি। যেকোনো রাজনৈতিক আন্দোলন দল, কর্মসূচি এবং জনসম্পৃক্ততার ওপরই সফলতা আশা করতে পারে। বিএনপি দলগতভাবে ২০১৩ সালে আন্দোলনের জন্যে কতোটা প্রস্তুত ছিল— এমন প্রশ্নের উত্তর খুব একটা জোরালোভাবে দেওয়া যাবে না। তারা নির্ভরশীল ছিল ৪টি ভিন্ন শক্তির ওপর। প্রথমত, জামায়াত-শিবিরের শক্তি, দ্বিতীয়ত, হেফাজতে ইসলামী শক্তি, তৃতীয়ত, বিদেশী কূটনৈতিক শক্তি, চতুর্থত, তৃতীয় কোনো শক্তি হতে পারে যা সামরিক। ২০১৩ সালব্যাপী বিএনপির এমন পরনির্ভরশীলতা একেবারেই গোপনীয় ছিল না। অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো লক্ষ্য স্থির না করা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলনে তাদের স্থির বিশ্বাস ছিল না, লক্ষ্য নির্ধারণ ছিল না। সে কারণে দ্রুত অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতায় পরিপূর্ণভাবে যাওয়া। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না— এটি অনেকটা আগে নির্ধারিত ছিল। তবে নির্বাচনকে বলির পাঠায় পরিণত করতে সকল শক্তি নিয়োগ করতে ত্রুটি করা হয়নি। সেটিই করা হয় অথচ শেখ হাসিনা অন্তত দু’বার বিএনপিকে নির্বাচনে আসার জন্যে দরজা খুলে দিয়েছিলেন। একবার আলোচনায় বসার জন্যে বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয়বার নির্বাচনকালীন সরকারে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদ গ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে বিএনপি শেখ হাসিনার সঙ্গে সরকার ব্যবস্থার একটি রূপরেখা বা কাঠামো ও শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে পারতো। যার ওপর ভিত্তি করে অবাধ নির্বাচনের ধারা নতুনভাবে সৃষ্টি করা যেতো। এ দুটো সুযোগ ঠেলে ফেলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যে নির্বাচন নয় সেটি তখন নিশ্চিত হয়ে যায়। সরকারের জন্যে তখন অন্য কোনো পথ খোলা থাকেনি নির্বাচন যে কোনো উপায়ে তুলে আনা ছাড়া। সরকার তাই করেছিল। এমতাবস্থায় এখন প্রশ্ন জাগে, এবার বিএনপি কী করতে চায় তা আগে পরিষ্কার করা খুবই দরকার। তা পরিস্কার না হলে আন্দোলনের হাঁকডাক দিলেও তা জমানো সম্ভব হবে বলে মনে করার কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। আন্দোলন, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর করার বিষয় নয়। বিএনপি বা জামায়াত সে ধরনের আন্দোলন সংগ্রামের দলও নয়। আওয়ামী লীগের জন্ম থেকে টিকে থাকার পুরোটা সময়ই জনগণের অধিকার, স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে দলের মেধা, মনন, আত্মত্যাগও দেশেপ্রেমকে জনগণের কাছে তুলে ধরতে পেরেছে বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে জন্ম নেওয়া দল নয়, জামায়াত দেশ ও জনগণের স্বার্থ-বিরোধী অবস্থানে চিরকালই রাজনীতি করেছে। ফলে এই দুই দলের সঙ্গে থাকা নাম পরিচয়বিহীন অপর ১৮ দলকে নিয়ে দেশে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন কতোখানি গড়ে তোলা সম্ভব তা নিয়ে হাজার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ২০১৩ সালের তাদেরই আন্দোলন’ নামক কর্মসূচি থেকে স্পষ্ট ধারণা নেওয়া যেতে পারে। এখন ২০১৪ সালে ঈদের পর আবার নতুন কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা কতোটা সম্ভব তা নতুনভাবে দেখতে হলে বিএনপিকে সব কিছু আগে স্পষ্ট করতে হবে, জনগণের কাছে যেতে হবে ও নিজেদের পায়ে নিজেদের দাঁড়াতে হবে। অন্য কোনো শক্তি বা অপশক্তির ওপর নির্ভর করে নয়, সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্রের পথেও নয়, যেতে হবে নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচির পথে। বিএনপির সম্মুখে অন্য কোনো পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া হুমকি দিয়ে আন্দোলন হয় না, আস্থা অর্জিত হলে কখন আন্দোলন দরজায় কড়া নাড়বে তা বিএনপি বুঝতেই পারবে না। এখানেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির আন্দোলনের শিক্ষা লুকিয়ে আছে। বিএনপি কি সেই শিক্ষা নেবে? লেখক :অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশ্লেষক