ডাক্তার বদলি ও কিছু কথা
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৪, ২০:৪৯
পাঁচ শতাধিক চিকিত্সককে বদলির আদেশ প্রদানের একদিন পরই আরেকটি আদেশ দ্বারা তাহা প্রত্যাহার করিয়া নেওয়া হইয়াছে। গত ২৭ জুলাইয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্তব্যরত ৫১৭ মেডিক্যাল অফিসার ও সমমর্যাদাসম্পন্ন পদের কর্মকর্তাকে জুনিয়র কনসালট্যান্টের চলতি দায়িত্ব দিয়া বদলির আদেশ জারি করা হইয়াছিল। উল্লেখ্য, মেডিক্যাল অফিসার ও সমমর্যাদার পদে কর্মরতদের পদোন্নতি না হওয়ায় তাহাদেরকে শূন্য পদে চলতি দায়িত্ব দিয়াই বদলি করা হয়। কিন্তু সেই বদলির আদেশ বাতিল না করিয়াই ৩ আগস্ট উক্ত চিকিত্সকগণকে নূতন পদে যোগদান না করিবার নির্দেশনা জারি করা হয়। এতো বেশিসংখ্যক চিকিত্সককে একসঙ্গে বদলির আদেশ এবং তাহার পরে একটি মাত্র কর্মদিবসও অতিক্রান্ত না হইতেই বদলির ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান কৌতূহল না জাগাইয়া পারে না।
বদলি স্থগিতাদেশ প্রসঙ্গে কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিয়া বলিয়াছে যে, এতো বেশিসংখ্যক চিকিত্সক বদলি করিবার ফলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন সেবাদান বিঘ্নিত হইবার আশংকা দেখা দিয়াছিল। ফলে স্থগিতাদেশ জারি করা হইয়াছে। কিন্তু প্রশ্ন হইল, পরিস্থিতি যাচাই না করিয়াই কি তবে হঠকারিভাবে বদলির আদেশ জারি করা হইয়াছিল? এইরূপ অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিশ্চয় আমরা আশা করিতে পারি না। বদলি স্থগিতাদেশের হয়তো অন্য কোনো কারণ থাকিতে পারে, পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সেই ইঙ্গিতই দিয়াছে। কারণটি হইল: বদলি হইতে অনিচ্ছুক চিকিত্সকদের চাপের কাছে কর্তৃপক্ষ নতজানু হইয়াছে। জানা যায়, বদলিকৃতদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি চিকিত্সককে ঢাকা হইতে অন্যত্র পদায়ন করা হইয়াছিল। ঢাকা মেডিক্যাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল, জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট, মিটফোর্ড হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হইতে তাহাদিগকে ঢাকার বাহিরে বদলি করা হইয়াছিল। কিন্তু তাহারা ঢাকার বাহিরে যাইতে একেবারেই নারাজ এবং বদলিকৃত এই সকল চিকিত্সকের অনেকেই স্বাচিপের রাজনীতিতেও যুক্ত। ফলে, চিকিত্সকদের সংগঠন স্বাচিপ নেতৃবৃন্দের চাপে ঢাকার বাহিরে ডাক্তারদের বদলির আদেশ দিয়াও পিছু হটিয়াছে কর্তৃপক্ষ। বদলির আদেশপ্রাপ্ত কিছু চিকিত্সক ইতিমধ্যে ঈদের আনন্দ মাটি করিয়া নূতন কর্মস্থলে যাইবার প্রস্তুতি নিতেছিলেন; কিন্তু বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগে অনাগ্রহী বেশিরভাগ চিকিত্সকের তদবিরে বদলির আদেশটিই স্থগিত হইয়া গেল। এখন, বদলি আদেশ আটকাইয়া থাকিবার ফলে এই চিকিত্সকগণ ঢাকায়ই বসিয়া থাকিবেন। কেহই যাইবেন না নূতন কর্মস্থলে।
আমরা বলিব, দৃষ্টান্ত হিসাবে ইহা ভালো নহে। এমনিতেই জেলা, উপজেলা, মফস্বলের হাসপাতালগুলিতে চিকিত্সকেরা থাকিতে চাহেন না। যোগদান করিলেও বেশিরভাগ সময়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন এবং নানা কিসিমের তদবির করিয়া পুনরায় ঢাকার হাসপাতালগুলিতে ফিরিয়া আসেন। এইরূপ সুযোগ সন্ধানী ও সুবিধাভোগী চিকিত্সকদের নিকট তো বটেই, সকলের দৃষ্টিতেই বদলি স্থগিতকরণের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা লইয়া প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই আমরা মনে করি, যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবার পূর্বে উহার ভাল-মন্দ সবদিক বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দৃঢ়তা না থাকিলে উহা গুরুত্বহীন হইয়া পড়ে।