বিএনপি’র সরকার পতনের আন্দোলন

আমরা চাই সমতা, ক্ষমতা নয়, আমরা চাই দেশপ্রেম “সরকার পতনের আন্দোলন’ দ্বারা যে বিএনপিই সরকারের আসনে বসতে চাইছে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। একবারও তাদেরকে বলতে শুনছি “দেশ বাঁচানোর আন্দোলন” বা “দেশের জন্য আন্দোলন”। এ আন্দোলনের অশুভ উদ্দেশ্য ও ফলাফল সবারই জানা। তারা ক্ষমতার জন্য আন্দোলনের ডাক নিয়ে ঘরে বসে থাকবে আর মরবো আমরা অসহায়রা। ক্ষমতা নয় মানুষকে ভালোবাসুন। আর মানুষের ভালোবাসা পেলে সরকার পতনের আন্দোলন লাগবে না। ক্ষমতা চলে আসবে। শেষ কথা হল, আন্দোলনের নামে মৃত্যুর মিছিল নয়, সমঝোতা দিয়েই সমাধান চাই আমরা। রক্ত নয়, আমরা চাই মমতা। ক্ষমতা নয়, আমরা চাই সমতা। দেশের ক্ষতি নয়, আমরা চাই একাগ্র দেশপ্রেম যা আমাদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ছিল। আরিফ আহমেদ হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জনকল্যাণমূলক চিন্তা করুন, জনগণ সাথে থাকবে বিএনপি বাংলাদেশের একটি সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল। তাদের জনসমর্থন নিয়ে পূর্বে কখনোই প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু সামপ্রতিক কিছু বিতর্কমূলক সিদ্ধান্তের জন্য জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তাদের থেকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। মতপ্রকাশের অধিকারের মতোই আন্দোলনের অধিকারও যে কোন গণতান্ত্রিক সরকারের নিশ্চিত করা উচিত। সেক্ষেত্রে বিএনপি আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু সেই সুযোগের অপব্যবহার করছে বিএনপি। তারা যদি জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন না করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতো তাহলে অবশ্যই জনগণ সাথে থাকতো। তাই বিএনপি যদি আন্দোলনের ধরন না পরিবর্তন করে তবে জনসমর্থন ক্রমান্বয়ে কমবেই। আর তারা যতই এই সরকারকে অস্বীকার করুক আইন তা বলবে না। তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতাও দূর করতে হবে। আবীর সমুদ্র ৪র্থ বর্ষ, এপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং ডিপার্টমেন্ট আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশাল। দরকার আত্মবিশ্বাস তবে আন্দোলনের নামে নাশকতা নয় আন্দোলনের প্রকৃত শক্তি হল আত্মবিশ্বাস যা বিএনপির মন থেকে বহু আগেই হারিয়ে গেছে। আর এজন্যই দফায় দফায় আন্দোলন তথা হরতাল, ধর্মঘট, মিছিল, মিটিং করে সুফল পাচ্ছে না তারা। আসলে দফায় দফায় আত্মবিশ্বাসহীন কর্মসূচিতে কী তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে? জানি না এর উত্তর তারা দিতে পারবে কি না। দেশের মানুষ আন্দোলনের পক্ষে থাকলেও কারো নাশকতায় পুড়ে মরতে চায় না, আহার যোগানো থেকে বিরত থাকতে চায় না, চায় না নিজের শেষ সম্বল হারাতে। তাই নাশকতার বিপক্ষেই লাঠি ধরবে জনসাধারণ। এজন্যই বলব, আন্দোলন করুন তবে নাশকতা নয়। মু. মিজানুর রহমান মিজান এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশী, আবদুর রশিদ খান ডিগ্রী কলেজ, বাউফল, পটুয়াখালী। বিএনপির আন্দোলন কৌশল দেখার বিষয় বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলন সফল হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পূর্বের বিএনপি আর বর্তমান বিএনপির মধ্যে অনেক পার্থক্য। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত বিএনপির কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা দেখাতে পারেনি। ঘরে বসে আন্দোলন হয় না। এমন আন্দোলন শুধু মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি ছাড়া আর কিছু না। বিএনপি ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল। ঈদ কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো নজির দেখা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করছি বিএনপি আন্দোলনের জন্য হয়তো কঠিন কৌশল অবলম্বন করতে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে সামনে রাজপথ উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে এটা নিশ্চিত বলে মনে করি। তার সাথে দেশ আবারো হরতাল-অবরোধ স্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হতে যাচ্ছে। রফিকুল ইসলাম সাগর আন্তর্জাতিক ট্যুর এন্ড ট্যুরিজম ফাউন্ডেশন কোর্স ওয়ার্ল্ড পয়েন্ট একাডেমি। বিএনপির আন্দোলন শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াবে বিএনপির আন্দোলনের হুমকি শুনে অনেকে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন। স্বপ্ন দেখা ভাল তাতে কোন সন্দেহ নেই। সন্দেহটা শুধু বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে। দূর অতীতে তারা এককভাবে কোন সফল আন্দোলন করতে পারেনি। আর নিকট অতীতে যা করেছে তা সকলেই জানেন। ভাড়াটে ও ভিন্নদলের কর্মী দিয়ে বোমা ফাটানো আর গাড়ি পোড়ানো ছাড়া কিছুই করতে পারেনি। তবে আরেকটি কাজ করতে পেরেছে বিদেশি দূতাবাসের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের দেউলিয়াপনা প্রকাশ করতে। শুভক্ষণ উপস্থিত হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ তাদেরকে নিজ মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গতে দিতে রাজি হচ্ছে না। তাই নেত্রী এবার জেদ করে বললেন, “আমরা দলও গোছাবো এবং আন্দোলনও করবো”। যার নিজের ঘরই অরক্ষিত সে অন্যের পতন ঘটানো তো অনেক দূরের কথা আন্দোলনের ঝড়-তুফান থেকে নিজেদের রক্ষা করবেন কিভাবে! আলাউদ্দিন রফিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ১ম বর্ষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।