গোপালগঞ্জের হাট বাজারে ধানের দাম নেই

গোপালগঞ্জের হাট বাজারে ধানের দাম নেই। কৃষক হাট বাজারে ধান এনে দাম না পেয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।  সরকার এ জেলায় উৎপাদিত ধানের ১ ভাগেরও কম ধান ক্রয় করছে।   

গোপালগঞ্জ সদরের খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর পর কৃষকদের খাদ্য গুদামে হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা গেছে। অল্প সংখ্যক কৃষক ধান বিক্রি করতে পারলেও বেশিরভাগই ফিরছেন নিরাশ হয়ে। সরকার ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর পরও এ জেলার হাট বাজরে ধানের দাম বাড়েনি। জেলার হাট বাজারে মোটা ধান ৫৬০ টাকা ও চিকন ধান ৬৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দালাল ফঁড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করে কৃষক লোকসান গুনছেন। উৎপাদিত ধান নিয়ে কৃষক পড়েছেন মহা-বিপাকে। ঈদের কেনাকাটা নিয়ে তারা এখন দুশ্চিন্তা করছেন।

আরও পড়ুন: হাকিমপুরে বিজিবির সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আটক ব্যক্তি নিহত

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বেরো মৌসুমে এ জেলায় ৭৭ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন ধান। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এ বছর প্রায় ৪ লাখ টন ধান উৎপাদিত হয়েছে। গোপালগঞ্জে এক বছরে খাদ্যের চাহিদা ২ লাখ ১৫ হাজার ৬৬২ মেঃ টন। শুধু বোরে মৌসুমেই ধান উদ্ধৃত্ত থাকছে প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার মেঃ টন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ জেলা থেকে এ বছর সরকার ২ হাজার ৫৪৪ মেট্রিকটন ধান ধান ক্রয় করছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ধান বিক্রি করতে পারবেন।

নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত গোপালগঞ্জ জেলার অধিকাংশ জমিতে বছরে একবার মাত্র বোরো ধান ফলে। এটিই গোপালগঞ্জের কৃষকের প্রধান ফসল। জমিতে বীজ, সার, বালাই নাশক প্রয়োগ করে কৃষক বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছে। ক্ষেতের ধান কাটতে শ্রমিককে প্রতিদিন ৭ শ’ থেকে ৮ শ’ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। এ কারণে প্রতিমন ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে ৬ শ’ থেকে ৭ শ’ টাকা। হাট বাজারে ফঁড়িয়া ও দালালরা মোটা ধান ৫৬০ টাকা ও চিকন ধান ৬৩০ টাকা দরে কিনছেন। হাট বজারে ধান বিক্রি করে কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠছেনা। পক্ষান্তরে সরকার প্রতিমন ধান ১০৪০ টাকা দরে ক্রয় করছে।  গোপালগঞ্জে সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ে বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে কৃষক এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

কাশিয়ানী উপজেলার ছোট বাহিরবাগ গ্রামের কৃষক নবীর মোল্লা বলেন, রামদিয়া হাটে ১৫ মন ধান এনেছিলাম। হাটে ধানের দাম মোটা প্রতিমন ৫৬০ টাকা চিকন ৬৩০ টাকা। এখানে ক্রেতাও নেই। তাই ধান বিক্রি করতে না পেরে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। একই উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামের কৃষক ওহিদুজ্জামান বলেন, গোপালগঞ্জে উৎপাদিত ধানের ১ ভাগের কম ধান সরকার ক্রয় করছেন। এতে বাজারে কোন প্রভাব পড়েনি। বাজারে ধানের দাম বাড়েনি। সরকার ধান ক্রয়ে এ জেলায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে ফঁড়িয়া ও প্রতিযোগিতা করে ধান কিনবে। ধানের চাহিদা বাড়লেই বজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাবে।
একই উপজেলার ধলগ্রামের কৃষক ইবাদ মোল্লা বলেন, ঈদকে সমানে রেখে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছি। ঈদের কেনা কাটা কিভাবে করব, তা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া হাটের আড়ৎদার শরীফ খায়রুল ইসলাম বলেন, ধান ক্রয় বিক্রয় এখানো ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। ধানের দাম কম থাকায় হাটে ধানের আমদানি কম হচ্ছে। এ ছাড়া বড় বড় মোকামের ক্রেতারা এখনো এ হাট থেকে ধান কিনছেন না। ফলে ধানের হাট এখনো জমেনি।

 গোপালগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বরকত বলেন,  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৫ হাজার কৃষক রয়েছেন। এ উপজেলায় উৎপাদিত হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার মেঃ টন ধান। সরকার এ উপজেলা থেকে মাত্র ৬১৭ মেঃ টন ধান কিনছেন। প্রতিদিন এখানে শত শত কৃষক ধান নিয়ে আসছেন। আমরা সবার কাছ থেকে ধান কিনতে পারছিনা। অনেকে ধান আমাদের কাছে বিক্রি না করতে  পেরে ফেরৎ যাচ্ছেন। ধান ক্রয়ে ১০/১২ হাজার মেঃ টন বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গোপালগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শেফাউর রহমান বলেন, ৫ উপজেলা থেকে কৃষক ধান ক্রয়ে বরাদ্দ বৃদ্ধির আবেদন করেছে। আমরা এটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। চলতি ধান সংগ্রহ অভিযান আমরা দ্রুত শেষ করব। এ অভিযান শেষ হলে ঈদের পর বাজারে ধানের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। ফলে ধানের দামও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।

ইত্তেফাক/এমআরএম